নামাজ শুরু হয়েছে গ্রিসের প্রথম মসজিদে

ডেস্ক নিউজ:
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম মসজিদে নামাজ শুরু হয়েছে। অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতনের প্রায় দুই শ’ বছর পর দেশটিতে এই প্রথম মুসলমানদের জন্য স্থায়ী মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হলো।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নবনির্মিত এই মসজিদে প্রথমবারের মতো জুমার নামাজ আদায় করা হয়। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে সীমিতসংখ্যক মুসলিম উপস্থিত হয়েছিলেন গ্রিসের প্রথম মসজিদের প্রথম জুমার নামাজে।

মসজিদের প্রথম ইমাম হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মরক্কো বংশোদ্ভূত ৪৯ বছর বয়সী গ্রীক নাগরিক জাকি মাহমুদ।

গ্রীসের ধর্ম বিষয়ক সচিব জর্জিয়াস ক্যালানন্টিস জানান, মসজিদটি সকলের কাছে গণতন্ত্র ও ধর্মীয় স্বাধীনতার একটি বার্তা পৌছে দেবে। ১৯৭৯ সাল থেকেই স্থানীয় অর্থডক্স চার্চ মসজিদটি চালু করার বিরোধীতা করে আসছিল।

অবশেষ ২০১৬ সালে গ্রিসের পার্লামেন্ট রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই মসজিদটি নির্মাণের অনুমোদন দেয়। এরপর থেকে এর নির্মাণকাজ চলছিল। ১৮৩৩ সালে অটোম্যানদের হাত থেকে গ্রিস মুক্ত হওয়ার পর এথেন্সে আর কোনো মসজিদ ছিল না।

এ নিয়ে মসজিদ গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য হায়দার আশির বলেন, এথেন্সে বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা এই মসজিদের জন্য অনেকসময় ধরে অপেক্ষা করেছি। মহান আল্লাহর প্রতি অশেষ শোকরিয়া যে, শেষ পর্যন্ত মসজিদটি খুলেছে এবং স্বাধীনভাবে আমরা নামাজ পড়তে পেরেছি।

বর্তমানে বৃহত্তর এথেন্সে প্রায় তিন লাখ মুসলিম বসবাস করেন। ১৮৯০ সালে গ্রিসের সংসদে এথেন্সে একটি মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব গৃহীত হলেও তা নানা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে বাস্তবায়িত হয়নি।

গ্রিসে মসজিদ না থাকলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একমাত্র গ্রিসেই মুসলমাদের জন্য আলাদা শরিয়া আদালত রয়েছে। শরিয়া আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদ, শিশুর জিম্মা এবং উত্তরাধিকার বিষয়ে রায় দেয়। কিন্তু কোনো বিষয়ে কোনো পক্ষ যদি বেঁকে বসেন, তাহলে সাধারণ গ্রিক আইন প্রযোজ্য হয়।

রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত মুফতিরা শরিয়া আইন অনুযায়ী পারিবারিক বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি করেন। অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতনের পর ১৯২৩ সালে তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যকার লৌজান চুক্তি অনুযায়ী শরিয়া আইন চালু হয় দেশটিতে।

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের কোণায় কোণায় কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসের ছাপ রয়েছে। এটা একটি ঐতিহাসিক জনপদ। বৈচিত্রে ভরপুর এথেন্স শহরের মধ্যে যেন জাদুর ছোঁয়া রয়েছে।

এতকিছুর মাঝে এথেন্সই একমাত্র ইউরোপীয় রাজধানী, যেখানে কোনো মসজিদ ছিলো না। এতদিন অস্থায়ী ও ব্যক্তিগত জায়গায় এথেন্সের মুসলমানরা নামাজ আদায় করতেন।

মসজিদটিতে একসঙ্গে ৩৫০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মিনারবিহীন মসজিদটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় সোয়া ৮ কোটি টাকা। মিনার না থাকলেও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মসজিদ পেয়ে খুবই আনন্দিত এথেন্সের মুসলমানরা। তাদের কাছে এটা স্বপ্নপূরণ হওয়ার মতো বিষয়, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মুসলিমদের জন্য চমৎকার উপহার।

Comments are closed.