‘বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গি সংগঠনের অস্তিত্ব নেই’

ওয়ান নিউজঃ বাংলাদেশে আইএস বা আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গি সংগঠনের অস্তিত্ব নেই বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো আইএস বা আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেই। যারা আছে তারা দেশীয় জঙ্গি সংগঠন। আমরা তাদের বিষয়ে সতর্ক আছি এবং মোবাবেলা করে চলেছি।’ রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৪ দেশের পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। সোনারগাঁও হোটেলে রোববার শুরু হওয়া এ সম্মেলন মঙ্গলবার শেষ হলো।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন আন্তর্জাতিক কোনো সংগঠন লোকাল জঙ্গিদের প্রভাবিত না করতে পারে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে জিরো টলারেন্সে আছেন।’

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘এ সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে। আমার মনে হয় এটি একটি সফল সম্মেলন।’

প্রথমবারের মতো দেশে এ ধরনের সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করায় তিনি বাংলাদেশ পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।

জঙ্গিবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০ দফা ‘যৌথ ঘোষণা’ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তিন দিনব্যাপী চিফ অব পুলিশ কনফারেন্স।

কনফারেন্সে দক্ষিণ এশিয়ার পুলিশ প্রধান ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রতিনিধিরা পরস্পরের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ঐক্যমত পোষণ করেছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক। দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

আইজি জানান, যৌথ ঘোষণায় দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের এবং বিশ্বব্যাপী অপরাধের ধরণ চিহ্নিতকরণ, আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে একটি কৌশল উদ্ভাবন, ইন্টারপোল সদস্য দেশসমূহের মধ্যে এসসিবির মাধ্যমে ওয়ান টু ওয়ান কমিউনিকেশন, চিফ অব পুলিশেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন, কাউন্টার টেরোরিজমে সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তথ্য বিনিময়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিশ্বের নেতৃস্থানীয় সংস্থার মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদ এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে তথ্য প্রযুক্তি নেটওয়ার্ক স্থাপন, ফরেনসিক ল্যাবরেটরি এবং ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, মানি লন্ডারিং, সাইবার ক্রাইম এবং অর্থনৈতিক অপরাধ দমনে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা বাড়ানো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে অপরাধ দমনে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে যৌথ সিম্পোজিয়াম ও প্রশিক্ষণ আয়োজোন ইত্যাদি গুরুত্ব পেয়েছে।

Comments are closed.