জাতীয় গো-প্রজনন কেন্দ্রে চার দশকে উৎপাদন ১৪ লাখ গরু

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ মাছে-ভাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ রাখতে কোনো ত্রুটি রাখেনি। দেশে বর্তমানে গরুর চাহিদা মেটাতে একের পর এক পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে সরকার। এর ফলশ্রুতিতে কৃত্রিম গরুর বাচ্চা প্রজননে দেশে চার দশকে প্রজনন হয়েছে ১৪ লাখ গরু।

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৬ সালে সাভারে প্রতিষ্ঠা করা হয় কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার। প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি প্রথম বছরে মাত্র ২৬ হাজার গরুর বাচ্চা উৎপাদন হলেও এখন এর সংখ্য দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখে। শুধু তাই নয়, গরুর বাচ্চা উৎপাদনের পাশাপাশি এটি খামার তৈরিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে।

বছরখানেক আগেও দেশে প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বাইরে থেকে প্রচুর পরিমাণে গরু আমদানি করা হতো। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ঈদকে কেন্দ্র করে দেশে গরু আসতো। বর্তমানে দেশ মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এখন ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো গরু দেশে প্রবেশ করে না। খামারিদের পালিত গরুতেই চাহিদা মিটে যায় কোরবানির সময়ে। মাথাপিছু জনপ্রতি দৈনিক ১২০ গ্রাম মাংসের চাহিদা থাকলেও দেশ এখন ১২৬ গ্রাম মাংসের যোগান দিতে সক্ষম।

সাভার কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে বিভিন্ন জাতের ষাঁড় রয়েছে ১৫৬টি। একটি ষাঁড় থেকে সাধারণত একবারে ৫০০ ডোজ শুক্রাণু সংগ্রহ করা হয়। খামারিদের চাহিদা অনুযায়ী সারাদেশে এ শুক্রাণু সরবরাহ করা হয়। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে এই খামারে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৭৩৬ সিসি তরল শুক্রাণু উৎপাদন হয়েছে। আর হিমায়িত শুক্রাণু উৎপাদন হয়েছে ৪১ লাখ ৩৭ হাজার ২৬০ সিসি।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আব্দুল জব্বার শিকদার জানান, দেশে এখন ভারতীয় গরু ছাড়াই কোরবানির চাহিদা মিটে যায়। এর প্রধান কারণ দেশে প্রাণিসম্পদ খাতের বিশাল উন্নয়ন। আমাদের ফার্ম থেকে সারাদেশে উন্নত জাতের গরু ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে মাংস ও দুধ উৎপাদন বেড়েছে। এটা সরকারের সফলতা।

প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তারা বলেন, দেশের গো-সম্পদ উন্নয়নে দুটি জিনিস দরকার। একটা মাংসের উৎপাদন বাড়ানো আর একটা হলো দুধ। দুধ উৎপাদনে আমরা এখন অনেক এগিয়ে আছি। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে আমাদের প্রতিটি গাভি গড়ে ১০ থেকে ১২ লিটার দুধ দেয়।

কর্মকর্তারা আরো বলেন, আমরা মাংস উৎপাদন অনেক বাড়াচ্ছি। সাধারণত দেশি ষাঁড়ের ওজন বড় জোর ৫ থেকে ছয় মন হয়। কিন্তু আমাদের খামারে ২৫ মন পর্যন্ত ওজনের ষাঁড় আছে। আমরা এসব উন্নত জাতের ষাঁড়ের মাধ্যমে কৃত্রিম প্রজনন করাচ্ছি।

পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, সাভারের কেন্দ্রীয় কৃত্রিম প্রজনন গবেষণাগার থেকে খামারিদের মূল শুক্রাণু সরবরাহ হয়। আমাদের ২১টি জেলায় কেন্দ্র আছে। সেখানে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে কৃত্রিম প্রজনন পয়েন্ট আছে। আগামীতে ৬০ জেলায় শুক্রাণু সরবরাহের কেন্দ্র করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

Comments are closed.