নুসরাত হত্যা মামলার দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি মায়ের

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ ২০১৯ সালের এদিনে (২৪ অক্টোবর) ফেনীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ বহুল আলোচিত এ মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলাসহ ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন।

নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহজাহান সাজু বলেন, করোনার কারণে মামলাটির কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। মামলাটি হাইকোর্টের আপিল বিভাগের ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

নুসরাত জাহান রাফির মা শিরিনা আক্তার বলেন, খুনিরা আমার বুকের মানিককে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। আজ দেড় বছর আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারি না। দুই চোখের পাতা বন্ধ করলে রাফির পোড়া শরীর আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবিনয় অনুরোধ জানাই, উচ্চ আদালতে মামলাটির কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হোক।

মামলার বাদী নুসরাত জাহান রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, আমরা আদালতের প্রতি শতভাগ আস্থাশীল। নিম্ন আদালতে আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি, আশা করছি উচ্চ আদালতেও আমরা ন্যায় বিচার পাব।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদরাসার তৎকালিন গভর্নিং বডির সহসভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসার কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

Comments are closed.