দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন প্রার্থীরা।

১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলা। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ জন। আর, ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪জন। মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ জন। প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার ভোটের বিপরীতে মুখোমুখি হবেন মোট ৮ প্রার্থী। কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন। শেষ মহুর্তে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ৮ প্রার্থী।

মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান। কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের সাংসদ মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়ার জৈষ্ঠ্য সন্তান তিনি।জনপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘ ৫ বছর উপজেলার চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে দলকে সুসংগঠিত করণে তার রয়েছে বলিষ্ঠ ভূমিকা। বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের উন্নয়নে তার ভূমিকা প্রশংসনীয়। আওয়ামী টানা তিনবারের শাসনামলে তার বাবা এখানকার তিনবারের নির্বাচিত সাংসদ। এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নে তাদের পিতা-পুত্রের উন্নয়ন চিত্রের সফলতা ভোটের হিসেবে পজিটিভ বলে মনে করেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। ভোট ও জনপ্রিয়তা মিলে তিনি খুব শক্তিশালী ও জননন্দিত হেভিওয়েট প্রার্থী। আসন্ন উপজেলার চেয়ারম্যান হিসেবে মেজর(অব.) মোহাম্মদ আলী নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সুমন বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনরায় আমার পক্ষে আসবে এতে আমি শতভাগ আশাবাদী।

দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ধানের শীষ প্রতীকে একক প্রার্থী হিসেবে সাইফুল আলম ভূঁইয়াকে মনোনীত করছেন বিএনপি। সাইফুল আলম ভূঁইয়া জানান, ভোটারদের যদি ভোট দেয়ার সুযোগ থাকে, নিরপেক্ষ ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে ফলাফল আমার নির্বাচনি প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে যাওয়াটাও অলৌকিক ঘটনার মতো কিছু ঘটে যেতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।”

এক সময়ে দাউদকান্দি বিএনপি’র দুর্গ হলেও এখন দলীয় কর্মকাণ্ডে ঝিমিয়ে পড়েছে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাই স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা এ নির্বাচনে কতটুকু কোমর বেঁধে মাঠে নামবেন সেটিই দেখার বিষয়। বিএনপি’র কর্মী-সমর্থকরা মনে করেন, যদি অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়, সাধারণ ভোটাররা যদি কেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন বিএনপি’র প্রার্থী সাইফুল আলম ভূঁইয়া ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হবেন।

এদিকে, বর্তমান ভাইস-চেয়ারম্যান আমানউল্লাহ এসডু বিগত সাড়ে ৫ বছরের সুবিধা নিয়ে অনেকটা অগ্রগামী। তার নেতাকর্মীরা মনে করেন, আমানউল্লাহ এসডু ভাইস-চেয়ারম্যান পদে একজন হেভিওয়েট প্রার্থী তাই জনরায় চশমা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষেই আসবে।

এছাড়া, তারিকুল ইসলাম নয়ন বর্তমান ছাত্রলীগের সভাপতি। তার রয়েছে উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডেই নেতাকর্মী। সুসংগঠিত ছাত্রলীগের কর্মীরা মাঠেঘাটে নয়নের জন্য ভোট প্রার্থনায় একাট্টা। উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডেই তার কম-বেশি ভোট রয়েছে। তাই তার নেতা-কর্মীরা ও এলাকার মানুষ মনে করে উপজেলাবাসী একজন তরুণ হিসেবে নয়নের তালা প্রতীকেই ভোট দিবেন।

অন্যদিকে, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বিল্লালুর রশিদ দোলনেরও রয়েছে বেশ জনপ্রিয়তা। উপজেলার পূর্বে অবস্থিত ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নে তিনি একক প্রার্থী। আর, আ.লীগের একাধিক প্রার্থীর সুবিধা নিতে চায় বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষের প্রার্থী মো. রহুল আমিন। আ.লীগের ভাইস-চেয়ারম্যান পদে তিন প্রার্থী থাকায় বড় সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বিএনপি’র প্রার্থী।

অপরদিকে মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই জন প্রার্থী। আ.লীগের ২ জন ও বিএনপিতে একক প্রার্থী। বর্তমান উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান (সংরক্ষিত) রোজিনা আক্তার বিগত সাড়ে ৫ বছর ধরে এ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া, বিএনপি’র ধানের শীষের প্রার্থী ফরিদা ইয়াসমিন (ডলি) মাঠে ভোট প্রার্থনা করছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। আগামী ২০ অক্টোবর এ উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Comments are closed.