পারিবারিক অনৈক্যে ধুঁকছে ৫ বনেদি ব্যবসায়িক গ্রুপ

ডেস্ক নিউজ:
এক যুগ আগেও চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের নেতৃত্ব ছিল মেসার্স ইলিয়াস ব্রাদার্স (এমইবি), আম্বিয়া, নুর জাহান, মাওলানা, মোস্তফা গ্রুপসহ কয়েকটি ব্যবসায়িক গ্রুপের হাতে। প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তার শ্রমে-ঘামে গড়ে ওঠা এসব ব্যবসায়িক গ্রুপের সবই পরবর্তী প্রজন্মের হাতে গিয়ে পরিণত হয়েছে রুগ্ণ প্রতিষ্ঠানে। ক্রমাগত লোকসান এবং পরিবারের সদস্যদের মত-পথ ও সম্পত্তিজাত অনৈক্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছে গ্রুপের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। যেটুকু টিকে আছে তাও চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।

চট্টগ্রামের বনেদি ব্যবসায়িক পরিবারের তালিকা করলে প্রথমেই উঠে আসবে মেসার্স ইলিয়াস ব্রাদার্সের নাম। ১৯৪৬ সালে ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায় নামেন গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ ইলিয়াস। স্বাধীনতার আগে ও পরে দীর্ঘদিন ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায় নেতৃত্ব দিয়েছে এমইবি। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিন যুগের বেশি সময় বহুজাতিক কোম্পানি লিভার ব্রাদার্সের (ইউনিলিভার) প্রধান পরিবেশক ছিল এমইবি। ইউনিলিভারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর নিজেরাই বিভিন্ন শিল্প গড়ে তোলেন এমইবির কর্ণধাররা। কিন্তু ব্যবসা সম্প্রসারণের এ ধারা ধরে রাখতে পারেনি দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্ম। একের পর এক লোকসানে ২০১০ সালে এসে বনেদি এ শিল্প গ্রুপের ব্যাংকের দেনার পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৫০ কোটি টাকা। এর পর থেকে গ্রুপটি পণ্য আমদানি কার্যত বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ১৫টি ব্যাংক থেকে নেয়া এসব ঋণের বেশির ভাগই বর্তমানে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

মূলত ভোগ্যপণ্য ব্যবসায় অনিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ ও পারিবারিক দ্বিধাবিভক্তির কারণে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে পড়ে এমইবি গ্রুপ। একসময় এক ডজনেরও বেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও বর্তমানে গ্রুপটির গ্লাস ও নিটিংসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান টিকে আছে।

এমইবি পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এমইবির মূল কর্ণধার ছিলেন মো. ইলিয়াছ হোসেন ও তার সহোদর আহমদ হোসেন। তাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে ইলিয়াছের চার ছেলে ও সাত মেয়ে। অন্যদিকে আহমদ হোসেনের সাত ছেলে ও চার মেয়ে। অর্থাৎ দুই ভাইয়ের ছেলেমেয়ের সংখ্যা ২২। বর্তমানে গ্রুপটির হাল ধরেছেন মো. ইলিয়াছের নাতি অর্থাৎ শামসুল আলমের ছেলে শোয়েব রিয়াদ। এই তৃতীয় প্রজন্মে গ্রুপটির অংশীদারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৮০, যাদের মধ্যে নেই মতের মিল।

বর্ধিত পরিবারে ব্যবসা পরিচালনায় সমন্বয়ের অভাবের কথা স্বীকার করে এমইবি গ্রুপের বর্তমান কর্ণধার শোয়েব রিয়াদ বলেন, সমন্বয়হীনতার কথাটা অমূলক নয়। কারণ একটি কোম্পানির ব্যবসার মুনাফা ঘরে উঠলে তা বেশ কয়েক হাতে ভাগ হয়ে যায়, যা আর মূলধন হিসেবে বিনিয়োগে ফিরে আসে না।

তিনি বলেন, নিত্যপণ্য আমদানি করে ২০০৯ সালে বিপুল লোকসানে পড়ে এমইবি। হয়ে যায় ঋণখেলাপি। আমি এমইবি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের মাধ্যমে নতুন করে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু ইলিয়াছ ব্রাদার্সের প্রতিষ্ঠাতা দুজন থেকে উত্তরাধিকারী বেড়ে যাওয়ার পর পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টনের প্রক্রিয়াটি সামনে চলে এলে ব্যবসা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছা যায়নি। যেকোনো ব্যবসার সিদ্ধান্ত কিংবা যখন ব্যাংকগুলোতে ঋণের টাকা আটকে যায় তখন সম্পত্তি বিক্রি করতে মতৈক্যে পৌঁছতে বিলম্ব হয়। তবে পারিবারিক এ মতানৈক্যের বিষয়গুলো আমরা অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।

চট্টগ্রামের আরেক পুরনো ব্যবসায়িক পরিবার আম্বিয়া গ্রুপ। বাবা হাজি সফির হাত ধরে পারিবারিক ব্যবসায় আসেন এ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা পতেঙ্গার আবুল কাশেম। নিজের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে গড়ে তোলেন একের পর এক প্রতিষ্ঠান। নাম দেন ‘আম্বিয়া গ্রুপ’। প্রথম দিকে শিপ ব্রেকিং খাতে ব্যবসা করলেও পরে ইস্পাত, গার্মেন্টস, কাগজ, আবাসন, শিপিং, কনজিউমার, জ্বালানি, অক্সিজেনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। বিশেষ করে ইস্পাত ও গার্মেন্টস খাতে বেশ সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে গ্রুপটি। কিন্তু ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আবুল কাশেমের আকস্মিক মৃত্যু হলে গ্রুপটির ব্যবসায়িক অগ্রযাত্রাও থমকে যায়। ভালো ব্যবসা ও প্রচুর সম্পত্তি থাকার পরও পারিবারিক অনৈক্যের কারণে গ্রুপটির অবস্থা এখন খুবই নাজুক।

বিভিন্ন খাতে একসময় আম্বিয়া গ্রুপের ১৮টিরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির ইস্পাত খাতের আম্বিয়া স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলস, আবরার স্টিল, ন্যাশনাল স্টিল, কিউএস স্টিল, আম্বিয়া প্যাকেজিং, আম্বিয়া অ্যাকসেসরিজ হেঙ্গার, আম্বিয়া সোয়েটার, আম্বিয়া পেট্রো গ্যাস, আম্বিয়া অ্যাপারেলস, আম্বিয়া ফ্যাশন, আম্বিয়া এমব্রয়ডারিং ও বোরাক সল্ট ক্র্যাশিংসহ প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে গেছে। কোনোভাবে টিকে আছে আম্বিয়া নিটিং অ্যান্ড ডায়িং কারখানাটি।

আম্বিয়া গ্রুপের মূল কর্ণধার আবুল কাশেম মারা যাওয়ার পর থেকে ব্যবসা দেখাশোনা করছেন তার ছেলে আবরার কাশেম।

তিনি বলেন, বাবা প্রথম দিকে শিপ ব্রেকিং খাতে ব্যবসা করলেও পরে ইস্পাত, গার্মেন্টস, কাগজ, আবাসন, শিপিং, কনজিউমার, জ্বালানি, অক্সিজেনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় বাবা মারা যাওয়ার পর একে একে ১৮টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। শুধু আম্বিয়া নিটিং অ্যান্ড ডায়িং চালু আছে। আব্বার অনেক কষ্টে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানগুলো এভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় খুবই খারাপ লাগে। প্রতিষ্ঠান চালাতে বাবা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার দীর্ঘ আট বছরেও সেই ঋণ শোধ হয়নি। আমরা চাচাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এখন ঋণগুলো শোধ করার চেষ্টা করছি।

চট্টগ্রামসহ সারা দেশের ভোগ্যপণ্য ব্যবসায় একচেটিয়া প্রভাব ছিল মোস্তফা গ্রুপের। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই মোস্তফা গ্রুপের অবস্থাও এখন নাজুক। দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে বিভিন্ন খাতে নেতৃত্ব দিয়ে আসা মোস্তফা গ্রুপের আজকের এ অবস্থার পেছনে ব্যবসা পরিচালনায় বর্ধিত পরিবার একটি বড় সমস্যা বলে মনে করছেন প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্টরাসহ পাওনাদার ব্যাংকের বিভিন্ন কর্মকর্তা।

১৯৫২ সালে ভোগ্যপণ্য ব্যবসার মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর বিভিন্ন খাতে ব্যবসার পরিধি বাড়িয়ে গড়ে তোলেন মোস্তফা গ্রুপ, যা একসময় দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি শিল্প গ্রুপ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ২০০৬ সালে এ শিল্প উদ্যোক্তার মৃত্যুর পর গ্রুপটির পরিচালনার দায়িত্বে আসেন তার সন্তানরা। সাত ছেলে গ্রুপটির মালিকানায় থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে মোস্তফা গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমানের বড় ছেলে হেফাজতুর রহমান। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আছেন জহির উদ্দিন। তাদের ভাই কফিল উদ্দিন গ্রুপটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, শফিক উদ্দিন ভাইস চেয়ারম্যান ও কামাল উদ্দিনসহ তিনজন পরিচালক হিসেবে রয়েছেন।

মোস্তাফিজুর রহমানের মৃত্যুর পর দ্বিতীয় প্রজন্মের অনৈক্য গ্রুপটির নাজুক অবস্থাকে ত্বরান্বিত করেছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের অনেকে বলেছেন, গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা মোস্তাফিজুর রহমানের সাত ছেলে গ্রুপটির বিভিন্ন খাতের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ২০১০-১২ সালের পর থেকে গ্রুপটির অবস্থা যখন ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে তখন কর্ণধাররা গ্রুপটির ব্যবসা পরিচালনা থেকে মনোযোগ কমিয়ে ফেলে। ওই সময় থেকে কর্ণধাররা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে এর পর থেকে কর্ণধারদের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ বাড়লেও গ্রুপের অবস্থা খারাপ হতে থাকে।

যুগের পর যুগ ভোগ্যপণ্য ব্যবসায় নেতৃত্ব দিয়ে আসা মোস্তফা গ্রুপ কয়েক বছর ধরে ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায় নেই। দীর্ঘদিন শিপ ব্রেকিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বে থাকা হেফাজতুর রহমানের ব্যবসা নেই শিপ ব্রেকিংয়েও। ভোজ্যতেলের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিক্রি করে দেয়া হয়েছে গ্রুপটির ট্যাংক টার্মিনাল। বন্ধ হয়ে গেছে গ্রুপটির ভোগ্যপণ্য, ভোজ্যতেল, শিপ ব্রেকিং, কৃষি (চা বাগান, রাবার বাগান, আম বাগান), কাগজ, মৎস্য (চিংড়ি), স্টিল, পরিবহন, শিপিং, সিকিউরিটিজ ও পোশাক খাতের বহু প্রতিষ্ঠান। যে কয়টি প্রতিষ্ঠান টিকে আছে সেসব প্রতিষ্ঠানের অবস্থাও ভালো নয়। প্রায় ৭০ বছর ধরে ব্যবসা করে আসা মোস্তফা গ্রুপের কাছে বর্তমানে ব্যাংকসহ ৩০টিরও বেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাওনা ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

পারিবারিক অনৈক্য ও ক্রমাগত লোকসানে ডুবতে বসা চট্টগ্রামের আরেক বনেদি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হলো মাওলানা গ্রুপ। ১৯৬৫ সালে চট্টগ্রামে রড-সিমেন্ট ব্যবসায় আসেন আগ্রাবাদের মোহাম্মদ তৈয়ব উল্লাহ। নব্বইয়ের দশকের শেষ পর্যন্ত রড-সিমেন্টসহ নির্মাণ খাতে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করেন তিনি। নিজের বার্ধক্যের কারণে ১৯৯৩ সালে ব্যবসার হাল তুলে দেন তার ছেলেদের ওপর। বাবার অর্জিত সম্পদ ও সুনাম কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন তৈয়ব উল্লাহর পাঁচ ছেলে। মাওলানা অ্যান্ড সন্সের সুনামের কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সহজে ঋণ সুবিধা পান তারা। এরপর মাওলানা অ্যান্ড সন্স থেকে ‘মাওলানা গ্রুপ’ নাম দিয়ে গড়ে তোলেন মাওলানা পাওয়ার প্লাস প্রাইভেট লিমিটেড, মাওলানা ফিলিংস অ্যান্ড সিঅ্যান্ডজি ওয়ার্কস, মাওলানা ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (এমডিসি), এমএফসি (রেস্টুরেন্ট), মুকুট এন্টারপ্রাইজ, মাওলানা ফিশারিজ অ্যান্ড ফার্মস লিমিটেড, রাজমুকুট কমিউনিটি সেন্টার, মাওলানা লজিস্টিক অ্যান্ড শিপিং ও মাওলানা ফার্নিচার। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই এখন বন্ধ হয়ে গেছে। শুরুর দিকে ভালো ব্যবসা করলেও আবাসন খাতের মন্দায় বন্ধের পথে গ্রুপটির একমাত্র লাভজনক প্রতিষ্ঠান এমডিসিও।

বিভিন্ন খাতে ক্রমাগত লোকসানের ফলে প্রতিষ্ঠানটির নাজুক অবস্থা তৈরি হলে ভাইদের মধ্যে অনৈক্য বাড়ে। এতে ব্যাংকের ঋণ শোধ করতে আর কেউ এগিয়ে আসেননি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় ২০০ কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে। ব্যাংক ও আইনি ঝামেলা এড়াতে এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এ এইচ এম শোয়েব বিদেশে পালিয়েছেন।

ব্যাংক-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাবা মারা যাওয়ার পর পাঁচ ভাই মিলে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। কিন্তু ব্যবসায় লোকসান হলে ভাইদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়। ব্যবসা পরিচালনায় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার সময় ভাইয়েরা একসঙ্গে থাকলেও ঋণ পরিশোধের বেলায় কেউ এগিয়ে আসছেন না। বিশেষ করে গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে থাকা এ এইচ এম শোয়েব আমেরিকায় চলে যাওয়ায় ঋণের টাকা ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে মাওলানা ডেভলপমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, সম্পত্তিতে পাঁচ ভাইয়ের মালিকানা থাকায় ইচ্ছে থাকার পরও সম্পত্তি বিক্রি করে ব্যাংকের টাকা দ্রুত শোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ এরই মধ্যে আমাদের এক ভাই এবং কোম্পানির চেয়ারম্যান আমেরিকা অবস্থান করছেন। তার পরও আমরা চেষ্টা করছি ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করতে।

একসময়ের ভোগ্যপণ্য ব্যবসার অন্যতম জায়ান্ট চট্টগ্রামভিত্তিক নূরজাহান গ্রুপ। একসময় ভোজ্যতেল, গম, মসলাসহ ভোগ্যপণ্যে আধিপত্যের সঙ্গে ব্যবসা করলেও প্রতিষ্ঠানটির আগের সেই প্রভাব আর নেই। কয়েক বছর ধরে গ্রুপটির ব্যবসা সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে দেনার পরিমাণ। এর মধ্যে গ্রুপটির কাছে পাঁচ ব্যাংকের দেনার পরিমাণ আড়াই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

নূরজাহান গ্রুপের কর্ণধার জহির আহমদ, তাসমিন মনোয়ার, টিপু সুলতান, ফরহাদ মনোয়ার ও জসিম উদ্দিনের নামে ব্যাংক থেকে এসব ঋণ নেয়া হয়েছে। আগের সব ধরনের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে বর্তমানে যে যার মতো করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কিন্তু ব্যাংকঋণ পরিশোধে কেউ এগিয়ে আসছেন না।

সংশ্লিষ্ট গ্রুপের কর্ণধার ও পাওনাদার ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যবসায়িক গ্রুপগুলোর প্রতিটির যথেষ্ট সম্পত্তি রয়েছে। চাইলেই সম্পত্তি বিক্রি করে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করতে পারেন তারা। কিন্তু পারিবারিক সদস্যরা ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারায় তা হয়ে উঠছে না। এতে দীর্ঘদিন ধরে পাওনাগুলো আটকে থাকে।

-সূত্রঃ বণিক বার্তা

Comments are closed.