৩৭ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা

ডেস্ক নিউজ
ভারতে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পরপরই ঘণ্টায় ঘণ্টায় পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল দুপুর থেকে পেঁয়াজের মজুদ শেষ হওয়ার কথা জানিয়ে সরবরাহ না থাকার অজুহাতও দেখাতে শুরু করেছেন তারা। ভারতের রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার পরপরই ভোগ্যপণ্যের বাজারে ফের পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির এ প্রভাব মানতে নারাজ ক্রেতারা। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে উদাসীন ও পর্যবেক্ষণে ব্যর্থ হওয়ায় ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়ছে বলে দাবি করে কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ সহ নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজার সরেজমিনে পরিদর্শন করে ও পেঁয়াজের দাম বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার সাথে সাথে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম ৮ টাকা বাড়িয়ে দেয় ব্যবসায়ীরা। গতকাল (সোমবার) সকালে খাতুনগঞ্জে পেয়াঁজ বিক্রি হয় কেজি প্রতি ৩৭ টাকা। দুপুরের ঘোষণা পেয়ে পেঁয়াজের দাম ৮টাকা বাড়িয়ে বিক্রি হয় ৪৫ টাকায়।

আজ (সোমবার) সকাল থেকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। সকালে শুরুতেই পাইকারি বাজারে ৫০ দরে বিক্রি হলেও দুপুর নাগাদ ৭০টাকায় গিয়ে ঠেকে পেঁয়াজের দাম। ফলে খুচরা বাজার ও পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম একই হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু কিছু খুচরা ব্যবসায়ী পেঁয়াজের দাম আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আভাস পাওয়ায় বিক্রি বন্ধ রেখে পেঁয়াজ মজুদ রেখেছে।

বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় ক্রেতা হিসেবে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ৮০ টাকা বিক্রি করা এক দোকানিকে দাম বৃদ্ধির কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘দাম বাড়ছে কেন, সেটা চিন্তা না করে কিনে নিন। দাম আরো বাড়বে। দেখছেন না? আশেপাশের অনেক দোকানে পেঁয়াজ বিক্রি করছে না। দাম বেড়ে পছন্দ মতো জায়গায় গেলেই বিক্রি শুরু করবে।’

খাতুনগঞ্জের মেসার্স মোহাম্মদিয়া বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী মিন্টু সওদাগর জানান, আজ ৫-৬ ট্রাক পেঁয়াজ এসেছে বিভিন্ন আড়তে। তবে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। সরবরাহ না বাড়লে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রোববার সকালে ৩৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে ভারতের পেঁয়াজ। বিকেলে দর উঠে ৪৫ টাকায়। সোমবার সকাল থেকে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আড়তে।’

এ নিয়ে কেন্দ্রীয় কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম গত বছর একই সময়ে বেড়েছে। এছাড়া আমরা আরো আগে থেকে দেখে আসছি ভারতের পেঁয়াজ চাষ হওয়া রাজ্যে বৃষ্টি-বন্যায় সমস্যা হয়েছে। ফলে তাদের উৎপাদন কম হয়েছে। এরপরেও সরকার পেঁয়াজের জন্য শুধু ভারতের উপর নির্ভর করেছিলো। অর্থাৎ সরকার বাজার এনালাইসিস (পর্যবেক্ষণ) করতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়াও ব্যবসায়ীদের যে পরিমাণ পেঁয়াজের মজুদ থাকার কথা, তাতে ভারতের রপ্তানি বন্ধ করার প্রভাব সাথে সাথে পড়ার কথা না। কিন্তু সরকার এ জায়গায় উদাসীন। প্রশাসন যদি ব্যবসায়ীদের সাথে পেরে উঠতো, তাহলে বাজার মনিটরিংয়ে কড়াকড়ি থাকতো। ব্যবসায়ীরা তাদের মর্জি মতো ক্রেতাদের জিম্মি করতে পারতো না।’

এদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) নগরীর ১০টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পেঁয়াজ, চিনি, মশুর ডাল ও সয়াবিন তেল বিক্রি করা হচ্ছে। টিসিবি’র চট্টগ্রাম আঞ্চলিক প্রধান জামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, প্রতি ট্রাকে ৩০০ কেজি করে পেঁয়াজ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতি ২ কেজি থেকে কমিয়ে ১ কেজি করে দিতে বলেছি। আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত ট্রাক সেলের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এরপর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Comments are closed.