পাহাড়কাটার দায়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজঃ 
কক্সবাজারে রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে ১১ লাখ ঘনফুট পাহাড় কাটার দায়ে পাঁচ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানিতে এই জরিমানা করেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসাইন। এসময় অন্যান্য অভিযোগে আরো ১০টি প্রতিষ্ঠানকে ৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রেললাইন নির্মাণে রামু এবং কক্সবাজার এলাকায় পাহাড় কেটে মাটি রেল লাইনে ব্যবহার করছে এমন অভিযোগে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল সরেজমিন পরিদর্শন করেন। তখন মোট ১১ লাখ ঘনফুট মাটি বিভিন্ন পাহাড় থেকে কাটা হয় এমন প্রমাণ পান পরিদর্শনকারী দলটি। এমসয় তাদের শুনানিতে পরিবেশ অধিদপ্তরে হাজির থাকতে বলা হয়। শুনানিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিসিইসিসি-ম্যাক্স জেভি, আদিব ব্রাদার্স, সিসি স্টুডিও, দি খান ট্রেডিং এবং রিতাজ এন্টারপ্রাইজ এর কর্মকর্তারা ১১ লাখ ঘনফুট মাটি বিভিন্ন পাহাড় থেকে কেটেছেন বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয় পরিদর্শক নাজনীন সুলতানা নীপার এবং পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসাইনের কাছে স্বীকার করেন। এসময় প্রতিটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া কক্সবাজারের পাহাড় কাটার অভিযোগে আরো তিনটি অভিযোগে তিনজন এবং বান্দরবনের একজনকে ৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা শুনানিতে জরিমানা করা হয়। এদিকে চট্টগ্রামে জাহাজভাঙ্গা শিল্পে শর্তভঙ্গ করায় আরেফিন এন্টারপ্রাইজ, এসএইচ এন্টারপ্রাইজ, কিং স্টীল এন বি স্টীল এবং কে আর স্টীলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে ছাড়পত্রের নবায়ন না থাকায় চাঁদপুরের আর এন্ড এস ব্রিকসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় শুনানিতে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসাইন জানান, কক্সবাজারের রামু এলাকায় রেল লাইন প্রকল্প বাস্তবায়নে ১১ লাখ ঘনফুট পাহাড়ের মাটি সরাসরি কেটেছে ঠিকাদারী ৫টি প্রতিষ্ঠান। এর কারণে ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়া অনান্য অভিযোগে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে ৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ১৯৯৫ এর ৭ ধারা অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে।

Comments are closed.