নিষিদ্ধ হলো ‘আনসার আল ইসলাম’

ওয়ান নিউজঃ বাংলাদেশে উগ্রপন্থি ইসলামী সংগঠন ‘আনসার আল ইসলামের’ সব ধরনের কর্মকাণ্ড সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে; সাম্প্রতিক কয়েকটি গুপ্তহত‌্যার ঘটনায় দায়ী করা হচ্ছে এই জঙ্গি সংগঠনটিকে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ থেকে সংগঠনটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে আদেশ জারি করা হয়েছে। গত ১ মার্চ আনসার আল ইসলাম নিষিদ্ধের গেজেট জারি করা হয়।

গত বছরের শেষের দিকে জঙ্গি সংগঠনটি নিষিদ্ধ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আনসার আল ইসলামকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ এর উপসচিব মো. নায়েব আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়েছে, ‘সরকারের কাছে এ মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, আনসার আল ইসলাম নামক জঙ্গি দল বা সংগঠনটির ঘোষিত কার্যক্রম দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা পরিপন্থি। ইতোমধ্যে দল বা সংগঠনটির কার্যক্রম জননিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচিত হওয়ায় বাংলাদেশে এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।’

জঙ্গি সংগঠন হিসেবে আনসার আল ইসলামের বিরুদ্ধে গত বছর একাধিক জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলা এবং একাধিক লেখক ব্লগার হত্যার অভিযোগ উঠে।

এটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠন আল কায়দার আদর্শে গড়ে উঠা জঙ্গি সংগঠন। শুধু তাই নয়, আনসার আল ইসলাম উক্ত আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের বাংলাদেশ শাখা বলেও দাবি করে।

জানা যায়, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নিষিদ্ধ হওয়ার পর এর সক্রিয় সদস্যরাই ‘আনসার আল ইসলাম’ নামে তৎপরতা চালায়। একাধিক হামলায় তাদের সদস্যদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলে। তারই প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংগঠনটি নিষিদ্ধ করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানায়।

জঙ্গি সংগঠন হিসেবে এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০০৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি শাহাদত ই আল হিকমা, ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ, একই বছরের ১৭ অক্টোবর ‘জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি) ও জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)’ ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর হিযবুত তাহরীর এবং ২০১৫ সালের ২৫ মে আনসারুল্লাহ বাংলাকে টিম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

Comments are closed.