বিনা নোটিশে র‌্যাফেল ড্র বন্ধ করলো প্রশাসন

স্টাফ রিপোর্টারঃ

অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও কক্সবাজার শিল্প ও বাণিজ্য মেলার বিনোদনমূলক র‌্যাফেল ড্র বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এতে দুই কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করছেন মেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষ।
মেলা  কর্তুপক্ষ দাবি করেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই র‌্যাফেল-ড্র বন্ধ করে দেয়। এসময় র‌্যাফেল ড্র এর সরঞ্জাম গুলো জব্দ করা হয়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো মেলায়। এসময় অনেক দর্শণার্থী তাদের কাছে লাঞ্চিত হয়েছে বলে দাবী করেন আয়োজকেরা।
সূত্রমতে, গত ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর কলাতলী গণপূর্তের মাঠে শুরু হয় কক্সবাজার শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। এর আগে ৯ নভেম্বর জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন যৌথভাবে কক্সবাজার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের নামে মেলার অনুমোদন দেন। ওই সময় মেলায় বিনোদনমূলক র‌্যাফেল ড্র ও বিচিত্রা অনুষ্ঠানেরও অনুমোদন দেন তিনি। কয়েকদিন আগে অনুমোদিত র‌্যাফেল ড্র কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসকের অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনের র‌্যাফেল ড্র বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয় বলে দাবি করেন আয়োজকরা।
আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানান, ব্যবসায়ীরা তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করে মেলা আয়োজন করেছেন। এখনো বিনিয়োগের ২০ শতাংশ টাকাও উঠে আসেনি। এরই মধ্যে অনুমোদিত র‌্যাফেল ড্র বন্ধ করে দেওয়াতে দুই কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে তাদের। এছাড়া এক সপ্তাহ আগে অজ্ঞাত কারণে বিচিত্রা অনুষ্ঠানও বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।
আয়োজক কর্তৃপক্ষের প্রধান সমন্বয়ক সাহেদ আলী সাহেদ জানান, পুলিশ সুপারের মতামতের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক বিনোদনমূলক র‌্যাফেল ড্র ও বিচিত্রা অনুষ্ঠান চালানোর অনুমোদন দেওয়ায় ফেরত আসার প্রত্যাশায় তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করে মেলার আয়োজন করা হয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা যথেষ্ট শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও র‌্যাফেল ড্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে দুই কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এধরণের আচরণ কেন?

তিনি আরো জানান, শেখ হাসিনা যুবকদের ব্যবসায়ী উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই মেলায় বিনিয়োগকারিরা প্রত্যেকেই যুবক এবং আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। এই টাকা ফেরত না পেলে বিনিয়োগকারিরা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তখন তারা কোথায় যাবে? প্রশাসনের এহেন হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবী জানান তিনি।

Comments are closed.