বান্দরবানে মেয়রের নির্দেশে প্রকাশ্যে চলছে পাহাড় কাটা

ওয়ান নিউজঃ  বান্দরবান শহরের কালাঘাটা এলাকায় প্রকাশ্যে পাহাড়কাটা চলছে। পাহাড়ের মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে নিচু এলাকা। এছাড়া পৌরসভার রাস্তার কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড়ের মাটি। প্রতিদিনই দিনে দুপুরে এস্কেভেটর দিয়ে বড় পাহাড় কেটে সেখান থেকে ট্রাকে করে মাটি সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পৌরসভার কাউন্সিলর অজিত কান্তি দাশের জায়গায় গত একমাস ধরে চলছে পাহাড়কাটা। ঠিকাদার মো. আবসার ও ছাত্রলীগের নেতা মো/ করিমসহ পৌরসভার উন্নয়ন কাজের ঠিকাদাররা কালাঘাটায় শিশুসদনের পাশে পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে নিচ্ছেন। গতকাল বুধবার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো. শামিম হোসেন ঐ এলাকায় গেলেও ঠিকাদাররা আগেভাগে পাহাড় কাটার এস্কেভেটর ও ট্রাক সরিয়ে নেন। ঠিকাদারা জানিয়েছেন, পৌরসভার মেয়রের নির্দেশে তারা পাহাড় কেটে মাটি ভরাট করছেন। গতকাল কাটাঘাটার শিশু সদন ও বড়–য়ার টেক এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে শিশু সদনের পেছনে কাউন্সিলর অজিত কান্তি দাশের জায়গায় এস্কেভেটর দিয়ে ব্যাপকভাবে বড় পাহাড় কেটে ফেলা হচ্ছে।

সেখান থেকে বেশ কয়েকটি ট্রাকে করে পাহাড়ের মাটি সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। ব্যাপকভাবে মাটি কাটার ফলে এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দিনে-দুপুরে এভােেব পাহাড়কাটায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঐ এলাকার লোকজন জানান, জায়গাটি সমতল করতেই পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। প্রতি ট্রাক থেকে কাউন্সিলর অজিত দাশ দুশ টাকা করে নিচ্ছেন। অন্যদিকে ঠিকাদার মো. আবসার ও ছাত্রলীগ নেতা মো. করিমসহ পৌরসভার বেশ কিছু ঠিকাদার পাহাড়ের মাটি রাস্তার কাজে ব্যবহার করছেন। এছাড়া নিচু এলাকাও ভরাট করা হচ্ছে পাহাড়ের মাটি দিয়ে। কাউন্সিলর অজিত কান্তি দাশ সাংবাদিকদের জানান, জায়গাটি তার নয়, এটি প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যার। পৌরসভার মেয়রের নির্দেশে ঠিকাদারা পাহাড়টি কাটছে। তবে তার জায়গার উপর দিয়ে ট্রাকে করে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঠিকাদার মো. আবসার জানান, রাস্তার কাজে মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে তিনি পাহাড় কাটার সাথে জড়িত নন। অন্যদিকে ছাত্রলীগ নেতা মো. করিম জানান, মেয়রের নির্দেশে উন্নয়ন কাজের জন্য মাটি নেয়া হচ্ছে। পৌরসভা মেয়র মো. ইসলাম বেবী জানিয়েছেন, রাস্তার কাজের জন্য পাশের বালু মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে পাহাড় কাটা হচ্ছে না। সহকারী কমিশনার মো. শমিম হোসেন জানান, কালাঘাটায় এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটার খবর পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এলাকাটি পরিদর্শন করা হলেও সেখানে কিছু পাওয়া যায়নি। এর আগেই হয়তো সংশ্লিষ্টরা এস্কেভেটর, ট্রাক ও সরঞ্জাম সেখান থেকে সরিয়ে নিয়েছে। ঠিকাদারা জানিয়েছেন, তারা পাহাড় থেকে মাটি সংগ্রহ করবে না। পাহাড় কাটা হলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান সহকারী কমিশনার।

Comments are closed.