ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় কেন নাম নেই ঝিনাইদহের নন্দদুলাল সাহার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহ শহরের সদর থানার সামনে মৃত জগন্নাথ সাহার ছেলে নন্দ দুলাল সাহা (৮১)। ১৯৫২ সালের ৮ম শ্রেণীতে পড়া কালীন সময়ের দেশ যখন রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই এই দাবীতে উত্তাল তখন নন্দ দুলাল সাহা সহ ঝিনাইদহের প্রায় ১৫/১৬ জন যুবক রাজ পথে বের হয়েছিল মিছিল নিয়ে। পাকিস্থানি শাসক গোষ্ঠী তাকে রুখে দিতে পারে নি। সেই নন্দ দুলাল সাহা আবার স্থির থাকতে পারেনি ১৯৭১ সালের বাঙ্গালীর জাতির মুক্তির স্বাধীনতা সংগ্রামে। তিনি জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেছিল।

১৯৭১ সালে বিষয় খালী, গাড়াগঞ্জের যুদ্ধে তার ছিল সরাসরি অংশ গ্রহণ। দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে ঝিনাইদহ কেসি কলেজে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। তিনি সেখান থেকে ৭ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। তারপর তিনি ভারতে যাওয়ার পথে সীমান্তে পাক হানাদার বাহিনীর কবলে পড়ে হাতে গুলিবিদ্ধ হয়। যার কারনে ভারতের কল্যাণী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রশিক্ষণ নিতে পারে নি। ১৯৭১ সালে তাকে কয়েক বার রাজাকারেরা হত্যার জন্য চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে ঝিনাইদহের আরাপ পুরে ৩ জন পাক সেনা ধরে পরে তার মধ্যে থেকে একজন পাক সেনাকে হত্যা করে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা সংগ্রাম শেষ হওয়ার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ঝিনাইদহের গন মিলিশিয়া ক্যাম্পে অস্ত্র জমা দেন। অস্ত্র জমা দেওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সনদ প্রদান করেন। কিন্ত মুক্তিযুদ্ধের সনদ থাকার পরও বর্তমান সরকারের তৈরি করা মুক্তিযুদ্ধোদের তালিকায় তার নাম নেই।

 

বর্তমানে সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নতুন করে যাচাই বাছাইয়ের জন্য দরখস্তের ফরম নিতে গেলে তাকে বলা হয়েছে যে অন লাইন তালিকায় তার নাম আসেনি তাই তাকে ফরম দেওয়া সম্ভব না। এ প্রসঙ্গে নন্দ দুলাল সাহা জানান, আমি নিয়মনিতি মেনে অন লাইন দরখাস্ত করেছি কেন তালিকায় নাম নাই তাহা আমার জানা নেই।

 

বর্তমানে এই ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা ঝিনাইদহের বিভিন্ন সমাজ সেবা মূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত আছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে তিনি ঝিনাইদহ থিয়েটারের উপদেস্টা, প্রবীণ হৈতসী সংঘের সদস্য, একধারে একজন ক্রীড়াবিদ, সাহিত্য পরিষদের সদস্য, নবীন সমিতির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক, রেডিও ঝিনুকের নিয়মিত গীতা পাঠক, নবগঙ্গা উন্নয়ন কমিটির সহ সভাপতি, জেলা অটো-মাহেন্দ্র মালিক সমিতির উপদেষ্টা, সোনালি অতিত ক্লাবের উপদেস্টা।

 

তাকে বিভিন্ন সময়ে ঝিনাইদহের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্রেস্ট উপহার দিয়াছে। ঝিনাইদহ থিয়েটার তাকে যাত্রা জগতের মঞ্চ প্রদীপ বলে আখ্যায়িত করে ক্রেস্ট উপহার দেন। তিনি একা ধারে কবি, একজন হিন্দু ধর্ম গ্রন্ত  লেখক ও হোমিও প্যাথিক চিকিৎসক হিসাবে তার খ্যাতি ঝিনাইদহের সর্বত্র বিরজমান।

 

এই প্রসঙ্গে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, তার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় আসবে কি আসবে না সেটা ঠিক করবে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় আমারা নাম পাঠিয়ে দিয়াছি।

Comments are closed.