একনজরে একাদশ জাতীয় নির্বাচন

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রোববার অনুষ্ঠিত হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হলো-

নির্বাচনের তফসিল-

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়েছিল ৮ নভেম্বর। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা করেন। যদিও ওই তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণের কথা ছিল ২৩ ডিসেম্বর কিন্তু সব দলের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে ১২ নভেম্বর পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হয় এবং ভোট গ্রহণের তারিখ ঠিক করা হয় ৩০ ডিসেম্বর।

ভোট গ্রহণের সময়-

রোববার সারা দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে সকাল আটটা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে। তবে প্রচারণাচলাকালীন গাইবান্ধা-৩ আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় এই আসনে ভোট হবে ২৭ জানুয়ারি।

মোট ভোটার-

এবারের ভোটার তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৩৮ লাখ ২৬ হাজার ৮২৩ জন। এরমধ্যে ৫ কোটি ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৬২০ জন পুরুষ, ৫ কোটি ১৪ লাখ ৫৫ হাজার ২০৩ জন নারী ভোটার।

ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ-

৩০০ আসনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪০ হাজার ৫১টি। এসব কেন্দ্রে সব মিলিয়ে ২ লাখ ৫ হাজার ৬৯১টি ভোটকক্ষ রয়েছে।

ইভিএম-

দেশে এবারই জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ হতে যাচ্ছে। ছয়টি আসনে সব কেন্দ্রে ভোট হবে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। আসনগুলো হলো- ঢাকা-৬, ঢাকা-১৩, চট্টগ্রাম-৯, রংপুর-৩, খুলনা-২ এবং সাতক্ষীরা-২। বাকি ২৯৩ আসনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে পুরনো পদ্ধতিতেই ভোট গ্রহণ করা হবে।

নির্বাচনের ফল-

ভোটগ্রহণের পর প্রতিটি কেন্দ্রে গণনা শেষে বেসরকারি ফল ঘোষণা করা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসাররা লিখিত ফলাফল রিটানিং অফিসারের কাছে পাঠাবেন। ঢাকায় নির্বাচন ভবনের ফোয়ারা প্রাঙ্গণে বিশেষ মঞ্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হবে।

মোট প্রার্থী-

এবার বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে এক হাজার ৮৬১ জন প্রার্থী নির্বাচনি লড়াইয়ে আছেন। এরমধ্যে রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী আছেন এক হাজার ৭৩৩ জন আর স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন ১২৮ জন।

নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় যুক্ত যারা-

সার্বিক তত্ত্বাবাধনে জেলা পর্যায়ে ৬৬ জন রিটার্নিং অফিসার এবং উপজেলা পর্যায়ে ৫৮২ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের অধীনে ২ লাখ ৭ হাজার ৩১২ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৬২৪ জন পোলিং অফিসার ভোটগ্রহণের সময় যুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।

নিরাপত্তা বাহিনী-

পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার, গ্রাম পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ৬ লাখ ৮ হাজার সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ ১ লাখ ২১ হাজার, আনসার ৪ লাখ ৪৬ হাজার, গ্রাম পুলিশ ৪১ হাজার, র‌্যাব ১৮ হাজার, বিজিবি ২৯ হাজার ৪৯০, সেনা সদস্য ১২ হাজার ৪২০, নৌবাহিনী ১ হাজার ৪৪০, কোস্টগার্ড ১ হাজার ২৬০ দায়িত্ব পালন করবেন।

বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে থাকছেন যারা-

সারা দেশে এক হাজার ৩২৮ জন নির্বাহী হাকিম এবং ৬৪০ জন বিচারিক হাকিম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে কাজ করবেন। কোন অপরাধ সংগঠিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিচার করে শাস্তি দিতে পারবেন তারা। এছাড়াও ১২২টি নির্বাচনি তদন্ত কমিটির ২৪৪ জন সদস্য নানান অভিযোগে খতিয়ে দেখতে কাজ করবেন।

দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক-

৮১টি দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার ২৫ হাজার ৯০০ জন প্রতিনিধি, ৩৮ জন (ফেমবোসা, এএইএ, ওআইসি ও কমনওয়েল্থ থেকে আমন্ত্রিত) বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন। এছাড়া বিভিন্ন বিদেশি মিশনের ৬৪ জন কর্মকর্তা ভোট পর্যবেক্ষণে থাকছেন। দূতাবাস ও বিদেশি সংস্থায় কর্মরত আরও ৬১ জন বাংলাদেশিও নজর রাখবেন জাতীয় নির্বাচনের দিকে।

ভোটে খরচ-

এবারের সংসদ নির্বাচনের নানান রকম প্রক্রিয়া সারতে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৭০০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করে নির্বাচন কমিশন।

Comments are closed.