বিশ্বের চোখ এখন বাংলাদেশে

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশ্বের সব বহুল প্রচারিত গণমাধ্যমসহ জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের চোখ এখন বাংলাদেশের আগামীকাল রোববার অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের দিকে।

চলতি বছরের নির্বাচন অংশ্রগ্রহণমূলক বলা হলেও আগেরগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচনের দিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমের আগ্রহ কম দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বিরোধী জোটের ওপর ধরপাকড়, নির্বাচনী প্রচারে হামলা ও গত এক দশকে ক্ষমতাসীন দলের শাসনের নানা বিষয় তুলে ধরেছে।

এসব খবরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সহিংসতা কমে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের উদ্ধৃতি দিয়ে করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্যের সমৃদ্ধিকে এগিয়ে নিতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে।

এ ছাড়া আগামীকালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবারও বিজয়ের ব্যাপারে আভাস দেয়া হয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক সহিংসতা, আস্থাহীনতা, সরকারি ও বিরোধী নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত সত্ত্বেও একটি শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

অংশগ্রহণমূলক, আস্থাযোগ্য, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বলপ্রয়োগ, সহিংসতা ও ভীতিমুক্ত নির্বাচনের পরিবেশের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

একটি মুক্ত, অবাধ, সহনশীল ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ।

ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, আগামীকাল রোববার বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম একটি দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিতে পরিণত করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেকর্ড গড়া তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসছে কিনা- সেই সিদ্ধান্ত নেবে দেশটির জনগণ। যদিও তার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা প্রত্যাশা করেছেন-১০ লাখ ভোটার সহিংসতা উপেক্ষা করে ২০০৯ সাল থেকে মাথাপিছু আয় তিনগুণ বেড়ে যাওয়াসহ দেশের অসাধারণ অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকে লক্ষ্য রাখবে। বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি গত দশকে ৬ শতাংশের ওপরে ছিল। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে যেটি দ্রুততম।

বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের গবেষণা পরিচালক শাহাব এনাম খান বলেছেন, আমাদের দেশে বিশ্বের অতি ধনীদের দ্রুততম বৃদ্ধি ঘটেছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে নিম্নস্তরের লোকজন এর সুবিধাভোগী।

গার্ডিয়ান বলছে, নির্বাচনের মাসগুলোতে অসংখ্যবিরোধী নেতা হয় কারাগারে নতুবা নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও কারাগারে রয়েছেন। ভিসা দিতে অপ্রয়োজনীয় বিলম্বের অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনকে মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করে তার উদ্ধৃতি দিয়েছে গার্ডিয়ান। তিনি বলেন, বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি হয়রানি নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

সামাজিকমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো বন্ধ করতে উচ্চগতির মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) নির্দেশের কথাও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ফেসবুক ও টুইটার বলেছে-তারা বাংলাদেশ থেকে তৈরি করা বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট ও ভুয়া খবরের পেজ বন্ধ করে দিয়েছে, যেগুলোতে সরকার-বিরোধীদের বিরুদ্ধে নানা উপাদান ছিল।

সংস্থাটি জানায়, বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহের সহিংসতার পর শুক্রবার জাতীয় নির্বাচনের প্রচার শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যরা এসব সহিংসতার সমালোচনা করেছে।

গত দশকের অর্থনৈতিক রেকর্ডের কথা প্রচার করেছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বলছে-তাদের বহু নেতাকর্মী কারাগারে আটক রয়েছেন। নির্বাচনে জয়ী হলে তারা গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার নৈতিক সমর্থন হারিয়েছে। তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।

ফখরুল বলেন, জনগণ আমাদের সঙ্গে আছেন। তারা পরিবর্তন চান।

কাতারভিত্তিক আলজাজিরা টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, আগামীকাল একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। ব্যাপক সহিংসতার ভেতর দিয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বব্যাপী তারিফ কুড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার আলজাজিরা জানায়, এসব সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কর্তৃত্ববাদ, রাজনৈতিক বিরোধীদের ধরপাকড় ও গণমাধ্যমে লাগাম পরানোর অভিযোগ রয়েছে।

অ্যাসোসিয়েট প্রেস রিপোর্ট করেছে ঢাকা থেকে। বার্তা সংস্থাটি বলেছে- রোববারের নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো জয়ী হতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। তার সমালোচকরা বলছেন- যদিও দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে ব্যাপক অর্থনৈতিক বিকাশ ঘটেছে। কিন্তু তার বিনিময়ে দেশটির অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, বাংলাদেশের ভোটের উত্তাপে ভারত কেন আলোচনার ইস্যু থাকবে না?

পত্রিকাটি লিখেছে-এবারের নির্বাচনী প্রচারের বক্তৃতায় ভারতের কথা অনুপস্থিত ছিল। অথচ অতীতে নির্বাচন-পূর্ব আলোচনার অংশ ছিল ভারত।

সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন চাওয়া ছাড়া ভারত কোনো বিবৃতি দেয়নি, যা দেশটিকে বাংলাদেশের নির্বাচনের প্রচারে আলোচনার অংশ না হতে সাহায্য করেছে।

মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের খবরে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় ফিরছে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছেন এবং বাংলাদেশকে উচ্চ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির দেশে পরিণত করেছেন, যা অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতার নীতি নিশ্চিত করবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ স্থিতি রাখতে সহায়তা করবে।

ইউএন নিউজে বলা হয়েছে-ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসতে চাচ্ছেন। অন্যদিকে তার প্রধানবিরোধী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় কারাগারে রয়েছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হচ্ছে।

Comments are closed.