‘কমলের নৌকা প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার’

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে মহাজোট মনোনীত প্রার্থী আলহাজ¦ সাইমুম সরওয়ার কমলের নৌকা প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তফসীল ঘোষনার পর থেকে নির্বাচনের আগ মূহুর্ত পর্যন্ত কক্সবাজার সদর, কক্সবাজার পৌরসভা এবং রামু উপজেলার আনাচে-কানাচে নৌকার কর্মী-সমর্থকদের তৎপরতা ছিলো ব্যাপক। জনতার স্বতঃস্ফূর্ত এ জোয়ারে ৩০ ডিসেম্বর (রবিবার) অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে নৌকার জয় সুনিশ্চিত বলে ধারনা করছেন, কমলের কর্মী-সমর্থকরা।

সর্বশেষ বৃহষ্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নৌকা প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে জনতার বাঁধভাঙ্গা ঢল ছিলো চোখে পড়ার মত। আগেরদিন বুধবার কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে আয়োজিত সমাবেশেও মানুষের ¯্রােত মাঠ পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে লালদিঘী সহ আশপাশের এলাকায়।

আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা বলেন, মহাজোট মনোনীত প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমল বিগত ১০ বছরের বেশী সময় এখানকার মানুষে সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন। কখনো তিনি মানুষের সেবা থেকে নিবৃত ছিলেন না। বন্যা, শৈত্যপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়সহ যে কোন দূর্যোগ এবং মানুষের সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে কমল ছুটে যেতেন। এলাকাকে এগিয়ে নিতে তিনি সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষার প্রসারে। তিনি ভূমিকা রেখেছেন অসংখ্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায়। নিজের কর্মের মাধ্যমেই সাইমুম সরওয়ার কমল কক্সবাজার-রামু গণমানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন। যে কারনে এবার নৌকাকে জয়ী করতে দলমত নির্বিশেষে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। নৌকার নিশ্চিত বিজয় দেখতে পাচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

এদিকে বৃহষ্পতিবার নির্বাচনী প্রচারনা শেষ দিনে কক্সবাজার সদর, রামু উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নের মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব মিছিল-সমাবেশে ছিলো জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহন। এতে নেচে-গেয়ে আনন্দ-উল্লাস করে জনতা।

মহাজোট প্রার্থী সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল বলেছেন, নৌকাকে জয়ী করতে জনতার এমন উচ্ছ্বাস তিনি অতীতে দেখেননি। তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে কক্সবাজারকে সিটি কর্পোরেশন, ঈদগাহকে উপজেলায় এবং রামুকে পৌরসভা করা হবে। কক্সবাজার-রামু আসনের জন্য প্রধানমন্ত্রী যে বরাদ্ধ দিয়েছেন তা বাংলাদেশের অন্য কোন এলাকায় দেননি। বিগত ৫ বছরে আওয়ামীলীগ সরকারের অনেক মেঘা প্রকল্প শুরু হওয়ায় এ অঞ্চলের চেহারা পাল্টে যাচ্ছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে কক্সবাজার-রামুতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এজন্য তিনি ৩০ ডিসেম্বর নৌকা প্রতীকে মূল্যবান রায় প্রদানের জন্য কক্সবাজার-রামুবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খাঁন বাহাদুর মোস্তাক আহমদ চৌধুরী বলেছেন, কক্সবাজার সদর এবং রামু উপজেলাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমলকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এ ঐক্য নিশ্চিত বিজয় এনে দেবে। কমলের সুযোগ্য নেতৃত্বে কক্সবাজার-রামুতে বিগত ৫ বছরে রেকর্ড পরিমান উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়নের ধারবাহিকতা ধরে রাখতে নৌকাকে আবারো জয়ী করতে হবে।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার পরিক্ষিত নেতা সাইমুম সরওয়ার কমল। এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার সকল যোগ্যতা রয়েছে বলেই জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে তৃতীয়বারের মত মনোনয়ন দিয়েছেন। তাই কক্সবাজার-রামুবাসীও নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে তাদের যোগ্য ও জননন্দিত নেতা কমলকে আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত করবেন।

রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি রিয়াজ উল আলম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে রামু উপজেলায় বিপুল ভোটে সাইমুম সরওয়ার কমল এগিয়ে থাকবেন। রামুতে এখন সব দল-মতের মানুষ সাইমুম সরওয়ার কমলের নৌকা প্রতীককে ভোট দিয়ে একাট্টা হয়েছে। আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মীরাও নৌকাকে জয়ী করতে দিনরাত প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

রামু উপজেলা জামায়াতের সাবেক নেতা ও কক্সবাজার জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হোসাইন আহমদ আনসারী জানিয়েছেন, জামাত-শিবির এখন বিএনপির সাথে নেই। জনগণের প্রতি এমপি কমলের ভালোবাসা, ত্যাগ ও উন্নয়নের অনন্য নজির দেখে তিনি নিজেও এমপি কমলের জন্য বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ভোট চাচ্ছেন। তিনি বলেন, কমলের পক্ষে এখন গণজোয়ার শুরু হয়েছে। এ জোয়ারে বিএনপি ভোটের আগেই ভেসে গেছে।

সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ লীগ সভাপতি আবু তালেব ও সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল করিম মাদু জানিয়েছেন, বিগত ৫ বছর ক্ষমতায় থাকালে এমপি কমলের নেতৃত্বে ঈদগাহবাসীর কাংখিত উন্নয়ন হয়েছে। এখনো অনেক প্রকল্পের কাজ চলছে। সড়ক-সেতু নির্মাণ, শিক্ষা, তথ্য-প্রযুক্তিসহ নানা খাতে কমলের নেতৃত্বে উন্নয়ন কর্মকান্ড দৃশ্যমান। তাই ঈদগাহবাসী নৌকাকে জয়ী করার শপথ নিয়েছে। একারনেই সম্প্রতি ঈদগাহ হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত দুটি জনসভা জনসমুদ্রে রুপ নেয়।

Comments are closed.