সেই বিতর্কিত এসিল্যান্ড নাজিমের বিরুদ্ধে অবশেষে তদন্ত শুরু

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ কক্সবাজার থেকে সদ্য শাস্তিমূলক বদলি হওয়া বহুল বিতর্কিত কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অবশেষে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও বিভিন্ন ব্যক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেয় চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়। ওই কার্যালয়ের নির্দেশের প্রেক্ষিতে  ২৬ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারি কমিশনার অজিত দেব এর কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত অভিযোগের শুনানী অনুষ্ঠিত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজারের বহুল বিতর্কিত কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দিন সন্ত্রাসী কায়দায় নফু মাঝি নামের এক বৃদ্ধের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এছাড়া তিনি এভাবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে মারধর, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদান সহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এযাবত কালের সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ, বদমেজাজী, ব্যক্তিত্বহীন, অসদাচরণ, অজনবান্ধব ও সমালোচিত কর্মকর্তা’র তকমা নিয়ে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় বদলি হয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা মো. নাজিম উদ্দিন কক্সবাজার সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদানের পরপরই বেপরোয়া হয়ে উঠেন। নির্বিচারে ঘুষ গ্রহন, হুমকি-ধমকি দেয়া, ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা দেয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায়, সেবা প্রার্থীদের হয়রানি, ভূমি অফিসে ফাইল আটকে ঘুষ গ্রহন, দুর্ব্যবহার, অসদাচরণ, সরকারি জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মানে সহায়তা, উচ্ছেদ অভিযানের নামে সাধারণ মানুষকে ধরে এনে বড় অংকের উৎকোচ আদায়, অভিযানে নারী পুরুষের গায়ে হাত তোলা, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, সাধারণ মানুষসহ নানা শ্রেণী পেশার লোকজনকে মিথ্যা অজুহাতে নাজেহাল করা এবং ভূমিদস্যুদের সাথে আঁতাত করে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত বিভিন্ন পয়েন্টের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা বেদখল ও বহুতল ভবনসহ নানা অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার সুযোগ করে দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অল্প দিনেই নানা সমালোচনার জন্ম দেন তিনি। একই সাথে অবৈধ পন্থায় আয় করে নেন কাড়ি কাড়ি টাকা। অযাচিত সব আচরণের কারণে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথেও একাধিকবার বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর এমন আচরণে জেলা প্রশাসনকে সুধীজনদের নিয়ে ঘরোয়া সমঝোতা বৈঠকও করতে হয়েছে। তাঁর এসব অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তাকেও হিমশিম খেতে হয়েছে। একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে তাঁর কাছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিজেই দু’হাতে ঘুষ নিতেন ওই কর্মকর্তা। এছাড়া ভূমি অফিসের সাহাব উদ্দিনকে দিয়ে ঘুষের টাকা লেনদেন করতেন তিনি। সাহাব উদ্দিন ওরফে পান সাহাব উদ্দিনের মোটর সাইকেলের পেছনে বসে ঘুরে ঘুরে তিনি টাকা আদায় করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভূমি অফিসে নামজারি খতিয়ান, ডিসিআর, সরকারি নির্দেশনার আলোকে মামলাধীন জমির তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার সময় লাখ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করেন। এমনকি টাকার বিনিময়ে একই ঘটনায় বাদি ও বিবাদী দু’পক্ষকেই একই ধরণের তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন। জেলার বৃহত্তর বাজার ঈদগাও বাজারে খাস কালেকশানের নামে সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সাবেক জেলা প্রশাসক আলী হোসেন ও এসিল্যান্ডের সময়ে উমেদার ও দালাল মুক্ত হলেও বর্তমানে উমেদার ও দালালের রাজত্ব চলছে সদর ভূমি অফিসে।

সূত্র আরও জানায়, নাজিম উদ্দিন যোগদানের পর থেকে বাঁকখালী নদী, হোটেল-মোটেল জোনের সরকারি মূল্যবান খাস জমি, সরকারি পাহাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক অভিযান পরিচালনা করে স্থাপনা উচ্ছেদ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ঘুষের বিনিময়ে উচ্ছেদকৃত স্থানে আবারও স্থাপনা নির্মানে মৌখিক অনুমতি দেন। যার কারণে তাঁর উচ্ছেদকৃত অধিকাংশ স্থানে স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এমনকি দিনে সীলগালা করে রাতে খুলে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এছাড়া স্যার না ডাকায় বিভিন্ন সেবাপ্রার্থী ও পেশাজীবীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন তিনি। সংবাদের বক্তব্য নেয়ার কারণে একাধিক সাংবাদিকের সাথেও বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন এ কর্মকর্তা। বিভিন্ন অজুহাতে লোকজনকে ধরে নিয়ে তার অফিসে নিজেই মারধর করতেন তিনি।

Comments are closed.