সমান সুযোগ নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর প্রতি ফখরুলের আহ্বান

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

একদাশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আমি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি।’

রোববার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান। বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ফখরুল বলেন, ‘আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়োগের সিদ্ধান্ত আমরা স্বাগত জানাই। আমরা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি, সেনাবাহিনী নিয়োগের ফলে নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ সৃষ্টি হবে; যা এতদিন মোটেও বিদ্যমান ছিল না।’

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, আমাদের দেশের গর্বিত সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য জনগণের স্বার্থের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন এবং কোনোভাবেই একজন ব্যক্তি বা একটি গোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করবেন না। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময়ই দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত; কোনো ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষার কারণে তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে না।’

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামীকাল সোমবার থেকে সারাদেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। তারা ২৪ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে টহল ও অন্যান্য আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা।

গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়।

পরিপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তা সহায়তা চাইলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করবেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজন অনুসারে উপজেলা থানায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ করা হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা বা প্রিজাইডিং কর্মকর্তার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বা ভোট গণনাকক্ষের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে সশস্ত্র বাহিনী। সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনে ইসির কাজে যাবতীয় সহায়তা দেবে সশস্ত্র বাহিনী। প্রয়োজনে পরিস্থিতি বিবেচনা বা নির্দেশক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এই বাহিনী।’

চাকরির বদলে ঘরে ঘরে মামলা দিয়েছে সরকার

এদিকে, রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখাঁনগর ইউনিয়নে এক পথসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ঘরে ঘরে চাকরির বদলে ঘরে ঘরে মামলা দিয়েছে। তাই এই সরকার পরিবর্তনের জন্য ধানের শীষের বিকল্প নেই।

এ সময় ধানের শীষে ভোট চেয়ে ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের নায্যমূল্য পাবে। যারা বেকার রয়েছেন তাদের কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বেকার ভাতা প্রদান করা হবে। এছাড়া হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নানা রকম সমস্যার জন্য আলাদা একটি মন্ত্রণালয় গঠন করে তা সমাধান করা হবে।

ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, এই সরকারের পরিবর্তন একমাত্র আপনারাই করতে পারেন। আমরা শান্তি চাই, ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন চাই। কিন্তু আওয়ামী লীগ জনগণকে পুলিশ প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে মামলা করে আবারও ক্ষমতায় আসতে চায়। মামলা, হামলা, ভয় দেখিয়ে ক্ষমতাই বেশিদিন টিকে থাকা যায় না।

পরে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী আসনে বিভিন্ন পথসভা ও গণসংযোগে যোগ দেন। ৩০ ডিসেম্বর ধানের শীষে ভোট প্রদানের জন্য সাধারণ ভোটারদের কাছে আহ্বান করেন তিনি।

Comments are closed.