যমজ সন্তান কাদের হয়, কেন হয়

এক সঙ্গে একাধিক সন্তান গর্ভে আসলে সেটাকে অনেকে বলে থাকে যমজ। ইংরেজীতে একে বলা হয় twin. প্রশ্ন হলো যমজ সন্তান গর্ভে আসার সম্ভাবনা কাদের থাকে। অনেকের পারিবারিক হিস্ট্রি থাকে যে, তাদের মা, খালা বা শ্বশুর পক্ষের কারও না কারও যমজ সন্তান হয়েছিল। 

ইদানীং গর্ভে সন্তান আসার জন্য অনেকে একটা ওষুধ ব্যবহার করে থাকে। Ovulation inducing drugs. এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করলে একের অধিক সন্তান গর্ভধারণ হয়।

যদিও বা একের অধিক সন্তান অনেক মায়ের জন্য খুশির সংবাদ তথাপি আমাদের (ডাক্তার) জন্য এটা খুশির বিষয় না। কেননা, একের অধিক সন্তান গর্ভে ধারণ করলে মায়েরা প্রসবকালীন সময়ে ঝুঁকিতে থাকে। তাই প্রথম থেকেই তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে নানা রকম ব্যবস্থা নিতে হয়।

যমজ সন্তান গর্ভে এলে মায়েদের যে সমস্যাগুলো প্রকট হয় তার মধ্যে প্রথমটি হলো অতি মাত্রায় বমি। একটি সন্তান গর্ভে ধারণ করলে প্রথম তিন মাসে মায়ের যে বমি ভাব হয় একাধিক সন্তান গর্ভে ধারণ করলে মায়েদের বমি ভাব ও মাথা ঘোরানোর সমস্যা অনেক বেশী হয়। এই বমির ভাব এত বেশী মাত্রায় হয়, অনেক সময় মাকে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়। এই অবস্থাকে আমরা বলি হাইপার ইমেসিস গ্র্যাভিডেরাম। এ সমস্যা উত্তোরনের জন্য মাকে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করাই ও নানা ধরনের ওষুধ ব্যবহার করি। অনেক সময় তাকে না খাইয়ে শুধু স্যালাইনের উপর রাখতে হয় বমি ভাব দূর করার জন্য।

যমজ সন্তান গর্ভে এলে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। তার মধ্যে প্রধান সমস্যাটি হলো বাচ্চা `মিসক্যারেজ` বা `গর্ভপাত` হয়ে যেতে পারে। প্রসবের নির্দিষ্ট সময়ের আগে ব্যথা উঠে যেতে পারে। আমরা এটাকে বলি প্রি টার্ম লেবার। নির্দিষ্ট সময়ের আগে বাচ্চা প্রসব হয়ে যাওয়ায় বাচ্চাগুলো অপরিণত থাকে, ওজনে কম থাকে ও পরবর্তীতে তাদের এনআইসিইউ সহ বিভিন্ন ধরনের সাপোর্ট লাগে। আর যদি চার পাঁচ মাস সময়ে অ্যাবরসন হয়ে যায় তাহলে বাচ্চাগুলো টিকে থাকা মুশকিল হয়।

লেখক: কনসালটেন্ট, ইমপালস হাসপাতাল। গাইনী ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ।

Comments are closed.