অবরুদ্ধ নিয়ে এবার মুখ খুললেন গোলাম মাওলা রনি

ওয়ান নিউজ ডেক্স: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের বিএনপির প্রার্থী গোলাম মাওলা রনিকে আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এসএম. শাহজাদা সাজুর সমর্থকরা।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় দশমিনা উপজেলায় নলখোলা বন্দরস্থ বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় রনির বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকার স্লোগান দেয় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এ ব্যাপারে নিজ ফেসবুক পেইজে একটি স্ট্যাটাস দেন গোলাম মাওলা রনি। পাঠকদের জন্য তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

আজ এক অদ্ভূত ঘটনা ঘটলো আমার জীবনে। গত প্রায় সাত দিন ধরে অবরুদ্ধ থাকতে গিয়ে প্রচন্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ডিসি সহ গলাচিপা-দশমিনার প্রশাসনের নিকট থেকে কোন সাড়া শব্দ পাচ্ছিলাম না- ফলে কি করা উচিত তা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্থ সময় পার করছিলাম।

ব্যক্তিগত জীবনে আমি সর্বদা নম্র, ভদ্র থাকার চেষ্টা করি। সকল পরিস্থিতি পরম ধৈর্য্য, সাহস ও বুদ্ধিমত্তা দ্বারা মোকাবেলা করি। আজ সকালেও বহু পক্ষের নানামুখী উসকানী সত্বেও নিজ সিদ্ধান্তে অটল থেকে প্রানবন্ত অবস্থায় সময় পার করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে কি যে হলো বুঝতে পারলাম না। আমার ওপর কোন জ্বীন বা ফেরেশতা ভর করেছিলো কিনা তাও বলতে পারবো না। আমি একটি হোন্ডা নিয়ে কাউকে কিছু না বলে বাসা থেকে বের হয়ে দশমিনার দিকে রওয়ানা হলাম।

আমার বাসার আশে পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কয়েকশ বিএনপি নেতা কর্মী আমার পিছু নিলেন। দশমিনা বিএনপি অফিসে যখন পৌছালাম তখন দেখতে পেলাম কয়েক হাজার নেতা কর্মী জড়ো হয়ে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নিয়েছেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ, প্রশাসন, ম্যাজিষ্ট্রেট, ডিবি, এসবি সবাই এলেন। আরো এলেন আওয়ামীলীগের নামধারী গুন্ডা বাহিনী। তারা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি-সোটা, ইট পাটকেল নিয়ে আমাদের ওপর আক্রমনের চেষ্টা করলো। দশমিনা থানার ওসি সাহেব তার বাহিনী নিয়ে গুন্ডাদেরকে প্রতিহত করার চেষ্টা করলেন। গুন্ডারা পুলিশ ও প্রশাসনকে নিজেদের অনুগত বাহিনী মনে করে তাদের সঙ্গে অসম্মান জনক আচরন শুরু করলো। ডি এসবির একজন সিনিয়র সদস্য গুন্ডাদের ছবি ভিডিও করছিলেন। গুন্ডারা তাকে আক্রমন করে বসলো। পুলিশ তখন গুন্ডাদের ওপর লাঠি চার্জ শুরু করলো।

দশমিনা থানার ওসি আমাকে সসম্মানে তার পুলিশী গাড়ির প্রটোকল দিয়ে নিরাপদে আমার বাসস্থানে পৌছে দিলেন। পুলিশের এই নিরপেক্ষ আচরনে আমি বড়ই আশ্চর্য হয়েছি। একই সঙ্গে আমার পুলিশ ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতায় মন ভরে গিয়েছে। ধন্যবাদ দশমিনা থানা পুলিশ এবং ধন্যবাদ দশমিনার সুদক্ষ ওসি সাহেবকে। একই সঙ্গে দশমিনার দায়িত্বরত ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেবকেও ধন্যবাদ যিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পুরো পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গোলাম মাওলা রনি ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০১৪ সালে তাকে আর মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে নৌকার টিকিট না পেয়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।

Comments are closed.