অবশেষে সেই শঙ্কা থেকে দলকে স্বস্তি এনে দিয়েছেন মিরাজ

ওয়ান নিউজ ক্রীড়া ডেক্স: রিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে ২১১ রানের বিশাল পুঁজি গড়েছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে এ নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো দলীয় রান ২০০ পেরোল বাংলাদেশের। কিন্তু বিশাল এই সংগ্রহকেও নিরাপদ মনে হচ্ছিল না! বরং শাই হোপ ঝড়ে হারের শঙ্কাই বাজতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ শিবিরে। ২১২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শাই হোপ ঝড়ে মাত্র ৫ ওভারেই যে ৬২ রান তুলে ফেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

অবশেষে সেই শঙ্কা থেকে দলকে স্বস্তি এনে দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি থামিয়েছেন শাই হোপ ঝড়। ৩৬ রানে বিদায় করেছেন সীমিত ওভারের সিরিজে বাংলাদেশের আতঙ্ক হয়ে উঠা হোপকে।

ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে একাই কাঁপিয়েছেন শাই হোপ। কাঁপাচ্ছেন টি-টোয়েন্টি সিরিজেও। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে শাই হোপ ২৯৭ রান। তিন ম্যাচের দুটিতেই করেছেন অপরাজিত সেঞ্চুরি। গড়ও ২৯৭! বাংলাদেশের বোলারদের উপর দিয়ে হোপ ঝড় চলছে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও। সিলেটে প্রথম ম্যাচে দলকে অনায়াস জয় এনে দিতে ক্যারিবীয় ওপেনার খেলেন ২৩ বলে ৫৫ রানের এক টর্নেডো ইনিংস।

আজও সেই ঝড়ই তুলেছিলেন। ৬ চারে মাত্র ১৮ বলেই করে ফেলেছিলেন ৩৬ রান। কিন্তু এরপরই তাকে থামতে হয়েছে। বাংলাদেশের ভাগ্য ভালো তাকে থামাতে পেরেছেন মিরাজ। হোপ ঝড় থামার আগেই অবশ্য দুই উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই এভিন লুইসকে ফেরান আবু হায়দার রনি। এরপর নিকোলাস পুরানকে ফেরান সাকিব আল হাসান। কিন্তু তখনো শঙ্কার বড় কারণ হয়ে ছিলেন শাই হোপ। তাকে বিদায় করে জয়ের রাস্তাটা আবার নতুন করে আবিষ্কার করেছে বাংলাদেশ। এই প্রতিবেদন লেখার সময় ৩ উইকেট হারিয়ে ক্যারিবীয়দৈর সংগ্রহ ৭ ওভারে  ৭৩ রান। মানে জয়ের জন্য ক্যারিবীয়দের দরকার ১৩ ওভারে আরও ১৩৯ রান। বাংলাদেশের দরকার ৯টি উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ আরেকটু হলে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটাই গড়ে যাচ্ছিল। সেই ইঙ্গিতই মিলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ফলে এ বছরই মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোতে করা ২১৫ রানই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ হয়ে রয়েছে।

দলের সংগ্রহ দুইশ পার করতে সবচেয়ে বড় অবদান ওপেনার লিটন দাসের।  ৪ ছক্কা ও ৬ চারে তিনি ৩৪ বলে করেছেন ৬০ রান। এছাড়া অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ২৬ বলে অপরাজিত ৪২ (একটি ছক্কা ও ৫ চারে), মাহমুদউল্লাহ ২১ বলে অপরাজিত ৪৩ (৭ চারে), সৌম্য সরকার ২২ বলে করেছেন ৩২ রান।

সিরিজ বাঁচিয়ে রাখার লক্ষ্যে আজ বাংলাদেশের শুরুটাও হয়েছিল দারুণ। তামিম ইকবাল ও লিটন দাস ৪ ওভারেই তুলে ফেলেন ৪২ রান। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে এই জুটি ভাঙে তামিমের বিদায়ে। ১৬ বলে ১৫ রান করে ফিরে যান তামিম। তবে তামিম ফিরলেও লিটন ঝড় চলতেই থাকে।  সৌম্য সরকারকে নিয়ে ৫৮ রানের জুটি গড়েন তিনি। এরপর অবশ্য দুজনেই ফিরে যান যুগপত। একটু পর মুশফিকও ফিরে গেলে একটু চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে সাকিব-মাহমুদউল্লাহ জুটি সেই চাপ উপড়ে ফেলে দলকে নিয়ে গেছেন দুইশ’র উপরে। পঞ্চম উইকেটে দুজনে মাত্র ৭ ওভারে গড়েছেন ৯১ রানের অবিচ্ছিন্ন চুটি।

শীতের রাতে সন্ধ্যার পরই মাঠে কুয়াশা পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই শিশিরের কথা মাথায় রেখে টস জিতেও প্রথমে ফিল্ডিং নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক কার্লোস ব্রাফেট। কিন্তু তার সেই সিদ্ধান্তকে বুমেরাংই প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আরিফুল হক, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আবু হায়দার রনি ও মোস্তাফিজুর রহমান।

Comments are closed.