একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: আ’লীগের ইশতেহার ঘোষণা আজ

ওয়ান নিউজ ডেক্স: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আজ তাদের ইশতেহার ঘোষণা করবে।

মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ইশতেহারের বিস্তারিত তুলে ধরবেন দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দলটির উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ব্যারিস্টার বিপ্লব বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের ইশতেহার ঘোষণা করবেন।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন জাতিকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা পূরণ করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন দেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ ও দিন বদলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনিও তা বাস্তবায়ন করেছেন।’

বিপ্লব আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখন যে প্রতিশ্রুতি দেবে তাও বাস্তবায়ন করবে।’

আওয়ামী লীগের ইশতেহারে দুটি বিষয়ে বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। প্রথমত, ‘আমার গ্রাম-আমার শহর’ শিরোনামে অঙ্গীকারে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা পৌঁছে দেয়ার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি- এই শিরোনামে করা অঙ্গীকারে তরুণ ও যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে।

ইশতেহারে গণতন্ত্র, নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনে ২০২০ ও ২০২১ সালকে মুজিববর্ষ ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ।

ইশতেহারের শেষের দিকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া ২০৩০ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন, ২১০০ সাল পর্যন্ত বদ্বীপ বা ডেল্টা পরিকল্পনা এবং শেখ হাসিনার বিশ্বজনীন স্বীকৃতির বিষয়গুলো রয়েছে।

ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির একাধিক সদস্য জানান, এবারের ইশতেহারের মূল স্লোগান হচ্ছে- ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ’। এতে ২১টি বিশেষ অঙ্গীকার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইশতেহারে আরও যেসব অঙ্গীকার করা হয়েছে তার মধ্যে আছে- দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ; নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গসমতা ও শিশুকল্যাণ; পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা; সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ নির্মূল; মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন; গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা; সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি; দারিদ্র্য নির্মূল; সর্বস্তরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি; নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা; প্রবীণ কল্যাণ কর্মসূচি।

ইশতেহারে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন (২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত) সরকারের সময়টাকে সংকট উত্তরণ ও দিনবদলের যাত্রা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমান শাসনামলকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশকে বিশ্বের বিস্ময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও খাতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অর্জন এবং ভবিষ্যতে কী করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে।

Comments are closed.