মেসি-রোনালদোকে ধুয়ে দিলেন লুকা মড্রিচ!

ওয়ান নিউজ ক্রীড়া ডেক্সঃ মেসি-রোনালদোর রাজত্বে হানা দিয়ে এ বছরের সবগুলো ব্যক্তিগত বড় পুরস্কারই জিতে নিয়েছেন লুকা মড্রিচ। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারের, উয়েফা বর্ষসেরা, ফিফা বর্ষসেরা, এমনকি জিতেছেন ব্যালন ডি’অরও।  কিন্তু যাদের হারিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় তুলেছেন, সেই মেসি-রোনালদো কোনো পুরস্কার অনুষ্ঠানেই যাননি। পুরস্কার তারা পাচ্ছেন না, এটা বুঝেই ক্ষোভে-দুঃখে পুরস্কার অনুষ্ঠানে যাওয়া থেকে বিরত থেকেছেন মেসি-রোনালদো। অখেলোয়াড়ী সূলভ এই আচরণের জন্য সমালোচিতও হয়েছেন তারা। তবে বাইরের লোকে সমালোচনা করলেও মড্রিচ কখনোই মুখ ফুটে কিছু বলেননি। কিন্তু কত দিন আর মনের কষ্ট মনে চেপে রাখা! অবশেষে মেসি-রোনালদোকে ধুয়ে দিলেন রিয়াল মাদ্রিদের ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার।

সরাসরি প্রশ্ন তুললেন মেসি-রোনালদো মানসিকতা নিয়ে। বললেন, পুরস্কার অনুষ্ঠানে না গিয়ে তারা হীন মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের মতো বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের পক্ষে এমন মানসিকতা মানায় না। এটা ঠিক না।

পুরস্কার পাবেন না জেনে, পুরস্কার অনুষ্ঠানে না যাওয়া-মেসি-রোনালদোর এই রোগ নতুন নয়। অতীতেও এই কাজ তারা করেছেন। গত ১০ বছর ধরেই বিশ্বের বড় বড় ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলো ভাগাভাগি করেছেন দুজনে। কখনো লিওনেল মেসি জিতেছেন তো কখনো শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় তুলেছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।

কিন্তু যখন মেসি জিতেছেন, রোনালদো পুরস্কার অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকেছেন। আবার রোনালদো জিতলে মেসিও অনুপস্থিত থেকেছেন। সময়ের সেরা দুই খেলোয়াড়ের এই হীন মানসিকতা অনেক ফূটবলপ্রেমীকেই কষ্ট দিয়েছে। তবে দৃশ্যটা দৃষ্টিকটু লেগেছে এবারই বেশি। এবারই প্রথম মেসি-রোনালদোর দুজনেই পুরস্কার অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকেছেন। মেসি তো কোনো পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকাতেই ছিলেন না। রোনালদো দৌড়ে থাকলেও পুরস্কার পাবেন না জেনে গোস্যা করে যাননি।

সেরাদের উপস্থিতিতে সেরার পুরস্কার নেওয়ার আনন্দই আলাদা। কিন্তু মড্রিচ সেই আনন্দ পাননি। পুরস্কার অনুষ্ঠানগুলোতে না গিয়ে মেসি সময় কাটিয়েছেন স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে। রোনালদোও ঘুরে বেড়িয়েছেন পরিবার নিয়ে। অনুষ্ঠানে না যাওয়ার মাধ্যমে তারা আসলে মড্রিচের অর্জনকেই খাটো করে দেখেছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন, পুরস্কারগুলো উঠেছে অযোগ্য একজনের হাতে! মড্রিচের ক্ষোভটাও এখানেই।

মনের ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেছেন, ‘আমি ঠিক জানি না, তারা কেন পুরস্কার অনুষ্ঠানগুলোতে আসে না। হ্যাঁ তাদের ইচ্ছা, তারা আসে না। কিন্তু আমার মনে হয়, তারা যখন পুরস্কার জিতে তখনই শুধু এই পুরস্কারগুলোর দাম থাকে তাদের কাছে। অন্যরা জিতলে তাদের কাছে দাম থাকে না। এটা ঠিক না। এতে সতীর্থ খেলোয়াড় এবং ভোটারদের প্রতি অসম্মান করা হয়। যারা গত ১০ বছর ধরে ভোট দিয়ে আপনাদের সেরা বানাল, সেসব সাংবাদিক, সতীর্থ, কোচ, সমর্থক-সবার জন্যই এটা (পুরস্কার অনুষ্ঠানে না যাওয়া) অবমাননাকর।’

মড্রিচ এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন, পুরস্কারগুলো দেওয়া হয় বছরের বা মৌসুমের সেরা পারফরম্যান্সের জন্য। খেলোয়াড়দের মান বিবেচনায় নয়। মানে বছরের সবগুলো পুরস্কার জিতলেও মড্রিচ নিজেকে বিশ্বসেরা মানতে রাজি নন, ‘এই পুরস্কারগুলো মূলত এক মৌসুমের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়ে যাকে। মৌসুমজুড়ে খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স বিবেচনা করেই সাংবাদিক, কোচ, অধিনায়ক-সমর্থকরা ভোট দিয়ে থাকেন।’

নিজেকে বিশ্বসেরা দাবি না করলেও তাই মেসি-রোনালদোকে খোঁচাটা মারতে ভুল করেননি মড্রিচ, ‘নাকি তারা (মেসি-রোনালদো) বলতে চায় তারা সবাই (সাংবাদিক, বিভিন্ন দেশের জাতীয় দলের কোচ-অধিনায়ক) একসঙ্গে ভুল করেছে? অযোগ্য মানুষকে নির্বাচন করেছে? কিন্তু পুরস্করগুলো তো শুধু কোনো খেলোয়াড়ের দক্ষতার বিচারে দেওয়া হয় না। সে রকম হলে তো ভোটাভুটি বাদ দিয়ে ফুটবলের সব পুরস্কার অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত ভাগাভাগি করে শুধু মেসি-রোনালদোর ভাগ্যেই জুটত!’

মেসি-রোনালদোকেই সেরা দাবি করে মড্রিচ বলেছেন, ‘আমার অভিমতটা পরিস্কার। মেসি-রোনালদো ফেনোমেনন। ফুটবলের সুপারস্টার। যারা গত ১০ বছর ধরে রাজত্ব করছে। কিন্তু তাই বলে অন্য কেউ জিততে পারবে না, এটা ঠিক না।’

মড্রিচের এই সমালোচনার কি জবাব দেন মেসি-রোনালদো, এখন কৌতুহলের বিষয় সিটই।

Comments are closed.