৩০ কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল

ওয়ান নিউজ ডেক্স: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য ৩০ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়। বাছাইয়ে বাতিল হয় ৭৮৬টি মনোনয়ন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের এতো সংখ্যক মনোনয়নপত্র বাতিলের ৩০টি কারণ পাওয়া গেছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ইসিতে আসা তথ্য থেকে জানা যায়, লাভজনক পদ থাকা, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, অসম্পূর্ণ ফরম জমা দেওয়া, ১ শতাংশ ভোটার সঠিক না থাকা, ঋণ খেলাপী, বিল খেলাপীসহ  ৩০ কারণে  মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

সবচেয়ে বেশি বাতিল হয়েছে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন না থাকার কারণে। বাতিলের এ খাতায় রয়েছেন ৩২১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ হলো ঋণখেলাপী। এ জন্য ১২৯ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তৃতীয় সর্বোচ্চ কারণ হচ্ছে  হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা। এ কারণে ৬০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

এছাড়া দলের মনোনয়নের প্রমাণ না থাকার কারণে ৫৪ জন, লাভজনক পদের জন্য ৪৬ জন, বিল খেলাপীর দায়ে ৩৯ জন, রিটার্ন দাখিল না করার কারণে ৩১ জন, তথ্য গোপনের জন্য ২৪ জন, সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে ১৬ জন, নমুনা স্বাক্ষরে মিল না থাকার কারণে ৫জন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না খোলার কারণে ৫ জন, হলফনামায় ভুল তথ্য ও তথ্যে গড়মিলের কারণে ৫ জন, সমর্থক প্রার্থীর আসনে ভোটার না হওয়া, অবসরের পর ৩ বছর অতিবাহিত না হওয়া, চুক্তিবদ্ধ ঠিকাদার হওয়া, নোটারি পাবলিকেশনের স্বাক্ষর না থাকার কারণে ২ জন করে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

একজন করে বাতিল হওয়ার কারণের মধ্যে রয়েছে- ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষরে অমিল, অনিবন্ধিত দলেল প্রার্থী হওয়া, প্রস্তাবক ও সমর্থক একই ব্যক্তি হওয়া, জামানতের টাকা না দেওয়া, অনলাইনে দাখিল করলেও বাছাইয়ের সময় মূল কপি দাখিল না করা, প্রার্থীর নাম ও আসন নম্বর ফ্লুইট দিয়ে পরিবর্তন করা, ভোটার তালিকায় প্রার্থীর নাম না থাকা, মনোনয়নপত্র ঘষামাজা করা ও ফ্লুইট দিয়ে মোছা, প্রস্তাবক ও সমর্থক সঠিক নয়, প্রার্থীর ভোটার নম্বর ভুল, প্রার্থী বাংলাদেশের ভোটার নয়, তফসিল ঘোষণার আগের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নম্বর না দেওয়া।

এছাড়া বেশ কিছু মনোয়নপত্র একাধিক কারণে বাতিল করা হয়েছে বলেও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৮ নভেম্বর দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত সারাদেশে ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে দলীয় ২ হাজার ৫৬৭টি ও স্বতন্ত্র ৪৯৮টি মনোনয়র জমা পড়ে।

২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ৭৮৬ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। এগুলোর মধ্যে-বিএনপির ১৪১টি, আওয়ামী লীগের ৩টি এবং জাতীয় পার্টির ৩৮টি, স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয় ৩৮৪টি। বিএনপির বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৫৫ জনে ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংখ্যা ২৭৮ জন।

বর্তমানে বৈধ মনোনয়ন রয়েছে ২ হাজার ২৭৯টি। ৩৯টি আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং ১৩টি আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকছে না।

সোমবার আপিলের প্রথম দিন ৮৪টি ও দ্বিতীয় দিন ২৩৫টি আবেদন জমা পড়ে। বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। আগামী ৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শুনানি করে নিষ্পত্তি করবে কমিশন।

৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ।

Comments are closed.