জাতীয় সংসদ নির্বাচন- কক্সবাজার-৩ সদর-রামুবাসির মুখে মুখে এমপি কমলের উন্নয়ন

নীতিশ বড়ুয়া, রামু :

বাংলাদেশের সমুদ্র জনপদ, সৈকত নগরী কক্সবাজার সদর আসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি নির্বাচনী এলাকা। কক্সবাজারের সদর ও রামু উপজেলা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-৩ আসনে দীর্ঘ বছর পর সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি নির্বাচিত হয়ে উন্নয়নের সাথে সাধারণ মানুষের ভালবাসা অর্জনে এলাকার চিত্র পাল্টে দিয়েছেন।

মুলত ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ঋণ খেলাপী হলে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা খুজে বের করেন তরুন নেতৃত্ব সাইমুম সরওয়ার কমলকে। উচ্চ শিক্ষিত সাইমুম সরওয়ার কমল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর, কক্সবাজারের শ্রেষ্ট সমাজ সেবক, সাবেক সাংসদ ও রাষ্ট্রদুত মরহুম আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর সন্তান।

অল্প সময়ে কমল এলাকার সকল স্থানে মানুষের কাছে পৌঁছতে না পারলেও নির্বাচনে বিএনপির দুর্গে বড় ধাক্কা দিয়ে সাতাশি হাজারের মতো ভোট পায়। যা ছিলো বিগত সময়ে আওয়ামীলীগ প্রার্থী যে ভোট পেয়েছিলো তার প্রায় দ্বিগুণ। পরবর্তীতে জননেত্রী শেখ হাসিানার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলে সাইমুম সরওয়ার কমলকে বাংলাদেশ সোনালী ব্যাংকের পরিচালক করা হয়। সরকারি দায়িত্ব পালন করার সাথে সাথে সাইমুম সরওয়ার কমল কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলার অবহেলিত ও অনুন্নত এলাকা চিহ্নিত করে উন্নয়ন যজ্ঞ শুরু করেন। সরকারের বরাদ্ধ পেতে দেরি হলে অথবা বরাদ্ধ না পেলে তিনি নিজে সংগঠনের নেতা-কর্মী ও এলাকার জনসাধারণকে সাথে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা-ঘাট নিমার্ণ করতে শুরু করে। সে সাথে এলাকার গরীব, অসহায় মানুষের মেয়ে-ছেলের বিয়েতে আর্থিক সহযোগিতা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, বিদেশ গামীদের আর্থিক সহযোগিতা, গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষায় সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা, উচ্চ শিক্ষা অর্জনে বিদেশগামিদের যাওয়ার ব্যাবস্থা করা সহ প্রত্যন্ত এলাকায় সরকারের উন্নয়ন পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের ভালবাসা অর্জন করেন।

২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পাঁচ বছর সংসদ অধিবেশন ও রাষ্ট্রীয় কাজ ছাড়া অন্য সময়গুলো তাঁর নির্বাচনি এলাকাতেই কাটিয়েছেন। প্রত্যন্ত জনপদের অনুন্নত এলাকাতে যেখানে রাস্তা ছিল না সেখানে রাস্তা করেছেন। রাস্তা ব্রিক সলিং, কার্পেটিং ও আরসিসি দ্ধারা উন্নয়ন, ব্রীজ, কার্লভার্ট নির্মাণ, ঘরে ঘরে বিদ্যুতায়ন, আইনশৃংখলার উন্নয়ন করেছেন চোখে পড়ার মতো।

তাছাড়া তাঁর সময়ের মেগা প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, রামু সেনানিবাস, রামু বিজিজি ক্যাম্প, বোটনিক্যাল গার্ডেন, সমুদ্র গবেষনা কেন্দ্র, বিকেএসপি’র রামু ক্যাম্পাস, শেখ কামাল আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট ষ্টেডিয়াম, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, খুরুশকুল আশ্রয়ন প্রকল্প, কক্সবাজার-খুরুশকুল সংযোগ সেতু, চাকমারকুল-দক্ষিন মিঠাছড়ি-রাজারকুল সংযোগ সেতু, ভারুয়াখালী-খুরুশকুল সংযোগ সেতু। সে সাথে দ্রæত গতিতে এগিয়ে চলছে কক্সবাজার রেললাইন সম্প্রসানের কাজ। তাছাড়া সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তে রয়েছে একলক্ষ দর্শক ধারন ক্ষমতার আন্তর্জাতিক ফুটবল ষ্টেডিয়াম, কারিগরি প্রশিক্ষন কেন্দ্র সহ বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প।
সাইমুম সরওয়ার কমল ২০০৮ সাল থেকে তাঁর আসন (কক্সবাজার-৩)কে শিক্ষার নগরী ঘোষনা দিয়ে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে সদর ও রামু উপজেলায় ১৯ টি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। যাহা শিক্ষা ক্ষেত্রে অভুতপূর্ব উন্নয়ন হিসেবে দেখছে এলাকায় শিক্ষানুরাগিরা। সে সাথে রামুর শতবর্ষি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও রামু কলেজকে সরকারি করন করা শিক্ষার নগরী কক্সবাজারকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়েছে।

উন্নয়ন আর মানুষের ভালবাসা অর্জনে সক্ষম হওয়ায় কক্সবাজারের সদর ও রামু উপজেলায় বিএনপির অনেক জনপ্রিয় নেতা সাইমুম সরওয়ার কমলের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামীলীগে যোগদান করেছেন। বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপি কমলের সমর্থিত প্রাথীরাই দু’উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জয় লাভ করেছেন।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদন্বিতা করতে কক্সবাজার-৩ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলো প্রায় আড়াই ডজনের মতো নেতা। এদের মধ্যে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে বর্তমান সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলের জনপ্রিয়তা বিষয়ক তথ্য। এ আসনে অনেকেই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও অপ্রতিদ্বন্ধী হিসাবেই নৌকার মাঝি হচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল। যা সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, অনলাইন নিউজ পোর্টল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে কমলের সমর্থকরা এলাকার সর্বত্র মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করে।

বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার কারণে নির্বাচনী এলাকায় তার জনপ্রিয়তা তুলনাহীন। কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলার আওয়ামীলীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, দলীয় সকলস্তর সহ সাধারন জনগনের মাঝে তার জনপ্রিয়তা নজির গড়ার মতো। গরীব দুঃখী, মেহনতী, ঘরহীন, আলোহীন, মানুষ থেকে শুরু করে, কৃষক, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সাথে তিনি এমপি হিসাবে নয়, মিশেছেন একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে।

সংগঠনের নেতাকর্মী নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি কেটে রাস্ত নির্মাণ, গরীবের ঘরের চালে টিন ও সোলার আলোর ব্যবস্থা করণসহ বিভিন্ন কারনে এলাকায় সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে তার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। নির্বাচনী এলাকায় দুর্যোগকালীন সময়ে দুর্গম ইউনিয়নে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনগণের সুরক্ষা ও খোঁজ খবর নিতে বেরিয়ে পড়েছেন একমাত্র সাংসদ কমলই। বন্যায় ত্রাণ বিতরনে এমপি কমল ছাড়া অন্য কোন নেতাকে জনগণ তেমন চোখে দেখেনি।

এমপি কমল তার নির্বাচনী এলাকায় যে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন তা শুধু কথার কথা নয়, এলাকায় গেলেই বোঝা যায়। নতুন নতুন উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, রাস্তাঘাটের ব্যাপক উনয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারী করন ও নতুন ভবন নির্মাণ, সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে তার যে কর্মযজ্ঞ। সে রকমটা বিগত ৪০ বছরেও দেখতে পায়নি সদর-রামুবাসি। নির্বাচনী এলাকায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন ও সফলতা কামনায় করেছেন শতশত উঠোন বৈঠক, সেসকল উঠোন বৈঠকে মানুষের উপস্থিতি ছিলো দৃষ্টি কাড়ার মতো। দিন কে দিন তা বেড়েই চলেছে। এক কথায় তার উপস্থিতিতে যেকোন জনসভা, উঠোন বৈঠক বা অন্যান্য সভা জনসমুদ্রে পরিণত হয় মুহূর্তেই।

বেশীর ভাগ সময় সকাল ১০ টা থেকে রাত ১/২ টা পর্যন্ত সভা, সমাবেশ, উঠুন বৈঠক, গণসংযোগ করেছেন সাংসদ কমল, দৈনিক ১৪টি জনসভায় যোগদান করে বক্তব্য রাখার নজীর কক্সবাজারে একমাত্র সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি’র। প্রতিটি গ্রামে ঘরে ঘরে সরকারের উন্নয়ন পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সাধারন মানুষের দু:খ, দুর্দশা ও এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান দিয়েছেন এমপি কমল। ফলে আগামী নির্বাচনে কক্সবাজার-৩ আসনের নৌকার মাঝি হিসাবে সাইমুম সরওয়ার কমলকেই আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড বেছে নিচ্ছেন।

কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলার উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যহত রাখতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাইমুম সরওয়ার কমলকে প্রার্থী মনোনীত করলে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করতে আওয়ামী পরিবারের সকলেই ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করবেন এমটাই প্রত্যাশা এলাকার আওয়ামী পরিবার ও সাধারণ জনগণের।

Comments are closed.