কর্ণফুলীতে অযত্ন অবহেলায় নিমজ্জিত মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান চত্বর

জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো:

অযত্ন-অবহেলায় ঝরাজীর্ণ আর সৌন্দর্য্যহীন হয়ে পড়ছে কর্ণফুলী মইজ্জ্যারটেকের অন্যতম বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান চত্বর। যেন দেখার কেউ নেই ।

বর্তমানে এর অবস্থা এতই নাজুক যে চত্বরের কোন বৈশিষ্ট্য এতে অবশিষ্ট নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে, কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

চত্বরটির নামকরণ করা হয় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বনামখ্যাত প্রয়াত রাজনীতিবিদ আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর নামে। কর্ণফুলী মইজ্জ্যারটেক গোল চত্বরটিকে ঘিরে নানা ইতিহাস আর স্মৃতিবিজড়িত একটি জায়গা। বর্তমানে আখতারুজ্জামান চত্বরটি অযত্ন অবহেলায় নিমজ্জিত। চত্বরটির চারপাশে গাছগাছালির আগাছা আর ময়লা আবর্জনার স্তুপে ভরে গেছে।

ফলে উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষের সাধারণ মানুষেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে। এ অবস্থা থেকে চত্বরটিকে জনগণের উপযোগী করার ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন উপজেলাবাসী।

২০১০সালে বর্তমান প্রবাসী ও জনকল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ও পটিয়ার সংসদ সদস্য শামশুল হক এমপি চত্বরটি নতুন রুপে নামফলক উদ্ধোধন করেছিলেন। সাদা ফলকটিতে লেখা আছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এমপি চত্বর।

যদিও পুরা মাসব্যাপী এই চত্বরটি এখন দখল থাকে নানা নেতাদের ব্যানার, পোস্টার, সভা সমাবেশের বিলবোর্ড , ট্রাক ও সিএনজি মালিক সমিতির রং বে-রংয়ের নানা পোস্টারে ছেয়ে যায়। অখ্যাত নানা নেতাদের নামীয় বড় বড় ব্যানার ফেস্টুন ঝুলে থাকে আখতারুজ্জামান চত্বরের চারপাশের পুরা গায়।
জানা যায় , কিছুদিন আগে আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চাতরী চৌমুহনী বাজারের যানজট নিরসনে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু নামে দ্বিতীয় চত্বরটি ৬৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। যা গত ২১শে সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) উদ্বোধন করেন তারই সুযোগ্য পুত্র ভ‚মি প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি।

কর্ণফুলীবাসীও দাবি জানান, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মইজ্জ্যারটেকে অবস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান চত্বরটি সংস্কার বা উন্নয়নে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কেননা চৌরাস্তা মোড়ে মূলত চত্বর তৈরী করা হয় সড়কের সৌন্দর্য্যবৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য নিরাপদ ফুটপা ও যানজট নিরসন সুবির্ধাথে।

দীর্ঘ ৯বছর আগে চত্বরটি নির্মাণ করা হলেও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের বালাই দেখা যায় না। চত্বরটির আশেপাশে ময়লা ফেলায় স্থানটি যেমন পরিবেশ দ‚ষন করছে। পাশাপাশি এই স্থাপনার ভেতরে এলোমেলো অপ্রয়োজনীয় গাছ আর ঘাসে ঝোঁপঝাড়ে পরিণত হয়েছে।

ফলে এক পাশে চলমান গাড়ির ড্রাইভারেরা অন্য পাশের গাড়ি দেখতে পারে না। নানা সময়ে ছোট বড় দূর্ঘটনার খবরও আমরা পেয়ে থাকি। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন সংষ্কার না হওয়ায় এই চত্বরটি অযতেœ অবহেলায় সৌন্দর্য্য হারিয়েছে।

এমনকি চত্বরে থাকা প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার নামফলকটিও চোখে না পড়লে কোন ভাবেই চেনার উপায় নেই যে ওটা ‘আখতারুজ্জামান চত্বর’। নামফলকের পাশে অনেক গাছ। চত্বর ঘিরে থাকা লোহার বেষ্টনীর অবস্থাও করুণ, কোথাও আছে, কোথাও নেই। ভাঙ্গা ঝরাজীর্ণ চত্বরের ভেতরেই নাকি প্রবেশ করা যায়না দুর্গন্ধে।

মইজ্জ্যারটেক বাসীরা জানান, চত্বরটির তিন পাশ জুড়ে নানা দোকান আর ভ্রাম্যমান বাজার। এসব দোকানের নানা ময়লা আবর্জনা এবং ফেলে দেওয়া পরিত্যক্ত ময়লা-সবজির অবশিষ্টাংশের ঠাঁই হয় চত্বরের ভেতর। যেন অঘোষিত এক ডাস্টবিন।

চত্বরটির পাশে মায়মুনা টাওয়ারের নিচতলায় মায়া ফার্মেসীর সত্বাধিকারী মনির উদ্দিন মনির জানান, চত্বরটি আরো ছোট করা দরকার ছিল কেননা মইজ্জ্যারটেক মোড়ে এত বড় চত্বরের প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করিনা। এমনকি এটা রক্ষণাবেক্ষণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখনো চোখে পড়েনি দীর্ঘদিন।

এছাড়াও মার্কেটে অবস্থিত শাহ্ আমানত টাইস্ এন্ড সেনেটারী দোকানদারেরা ও একই কথা বলেন।

চালক ও যাত্রীদের অনেকে মনে করেন, গোলচত্বরটি বড় করায় দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা। চট্টগ্রাম-আনোয়ারা রুটের বাসচালক মোহাম্মদ শফি জানান, ‘গোলচত্বর বড় হওয়ায় দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে। গোলচত্বরটি ছোট হলে গাড়ি চলাচলের জায়গা বেশি পাওয়া যেত। এতে দুর্ঘটনা কমত বলে মনে করছি।’

শাহ আমানত তৃতীয় সেতু নির্মাণের সহযোগী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আল আমিন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড বলছিলেন, যথাযথভাবে নিয়ম মেনেই গোলচত্বর করা হয়েছে। গোলচত্বরের ব্যাস ৩৬ মিটার। চত্বরের চারপাশের সড়ক ১২ মিটারের স্থলে সাড়ে ১৩ মিটার করা হয়েছে। আর গোলচত্বর শুধুই গাড়ি ঘোরার জন্য। এখানে অবৈধ পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামা হচ্ছে বলেই দুর্ঘটনা ঘটছে।’

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানান,‘গোলচত্বরকে সুব্যবস্থাপনার আওতায় এনে সম্প‚র্ণ যানজটমুক্ত রাখতে হবে। কিন্তু এ ব্যবস্থা এখনো গৃহীত হয়নি।’

এ প্রসঙ্গে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামশুল তাবরীজ বলেন, ‘আমি উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি মাত্র। বিষয়টি নিয়ে আমিও ভেবেছি মিনি র্পাক কিংবা সংস্কারে নতুনত্ব আনা যায় কিনা তা প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সাথে পরামর্শ করে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান চত্বরের সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য অনেক আগেই প্রকল্প জমা দিয়েছি ,শুধু ফোর লেইনের কাজ সমাপ্তির জন্য অপেক্ষা করছি। অনেক ভাল আর্কিটেকচার দিয়ে তৈরী করছি মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনায়।’

এছাড়াও তিনি আরো জানান, চত্বরের উপরে একটি ফুটওয়্যার ব্রীজের জন্য ডিও লেটার জমা দেওয়া হয়েছে সড়ক ও জনপথ মন্ত্রনালয়ে।’

চত্বরের সব ব্যবস্থা করা সত্বেও এক্ষেত্রে জনগণ দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন না দেখায় প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কর্ণফুলীবাসী।

Comments are closed.