২৮৯ রানেই শেষ হলো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস

ওয়ান নিউজ ক্রীড়া ডেক্সঃ শেষ বিকেলের আলোয় নাকি কিছুটা মায়া লেগে থাকে। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের পেসারদের বলে সেই মায়া কই! আছে খুনে উন্মাদনা। সাপের মতো ছোবল মারতে চেয়ে বলের ফনা তুলে হামলে পড়া। দিনটা শেষের পথে গিয়েও তাই শেষ হয় না। ভাঙাচোরা একটা দল নিয়েও তবু ক্রাইস্টচার্চে শুক্রবার দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে বলার মতোই লড়ল টাইগাররা। সৌম্য সরকারের ৮৬ রানের কামব্যাক ইনিংস, সাকিব আল হাসানের সাথে ১২৭ রানের জুটি, সাকিবের ৫৯, অভিষিক্ত নুরুল হাসানের ৪৭ রানের বীরত্বের যোগফল নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস। ৮৪.৩ ওভারে ২৮৯ রানে শেষ হয়েছে যা। এর সাথেই শেষ প্রথম দিনের খেলা। বাকি আরো চারটি কঠিন দিন।

টস হেরে হ্যাগলি ওভালে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের এই কন্ডিশনে ফাস্ট বোলারদের তোপের মুখে পড়ার কথা ছিল টাইগারদের। টিম সাউদি ও ট্রেন্ট বোল্ট দুই প্রান্ত থেকে শুরু থেকেই অস্বস্তি উপহার দিলেন ব্যাটসম্যানদের। অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবার খেলতে নামা তামিম ইকবাল (৫) বাউন্সি উইকেটে জেগে ওঠা বলের প্রথম শিকার। উইকেটের পেছনে সাউদিকে উইকেট দেওয়ার সময় দলের রান মাত্র ৭!

বিপদ শুরুতেই চোখ রাঙাল। মাহমুদউল্লাহ পরিস্থিতির কারণে তিন নম্বরে নামলেন। কিন্তু ১৯ রান করেই বোল্টের শিকার। ৩৮ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন। এই প্রথম টেস্টে ওপেন করতে নেমে সৌম্য তার কামব্যাক ম্যাচে শুরু থেকে মরিয়া ছিলেন। কিছুটা মারার বল পেলে ওয়ানডে মানসিকতায় কিছু না ভেবেই মেরে দিয়েছেন। আগের ম্যাচের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানের সাথে অবশ্য তার জুটিটা বেশ জমে উঠল। রান উঠতে থাকল দ্রুত। ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিটাও পেয়ে গেলেন সৌম্য। সাকিবও ফিফটি তুলে নেন। প্রথম সেশনে ২৭ ওভারে ২ উইকেটে ১২৮ রান!

জুটি ১০০ পেরোয়। সৌম্য সেঞ্চুরির সুবাস পেতে শুরু করেন। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে বোল্ট-সাউদি জুটি ১৪ রানের মধ্যে তিন আঘাতে হঠাৎই বিপর্যস্ত করে তোলেন বাংলাদেশ দলকে। ১৭ বলের মধ্যে এলোমেলো সব। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১৪ রান দূরে থাকতে সৌম্যর বিদায়। সাকিবের সাথে প্রায় ৫ গড়ে তার ১২৭ রানের জুটি ভাঙে। সৌম্যর পর সাব্বির রহমানকে (৭) তুলে নেন বোল্ট। সাউদির শিকার সাকিব। সৌম্য ১১ বাউন্ডারিতে ৮৬, সাকিব ৯ চারে ৫৯ রান নিয়ে ফেরেন। চা বিরতির আগে ৫ উইকেটে ১৭৯ রান। দারুণ বিপদে বাংলাদেশ।

কিন্তু দুই অভিষিক্ত নাজমুল হোসেন ও নুরুল হাসানের ব্যাটে প্রতিরোধের গল্পের দেখা মেলে। দুই নবীন ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৩ রানের জুটি গড়ে কিছুটা স্বস্তির বাতাস এনে দিলেন। নুরুল অবশ্য দুবার জীবন পেয়েও বেশ লড়ে গেলেন। কিন্তু বিরতি মানে সর্বনাশ।

৫ উইকেটে ২২৫ রান নিয়ে চা বিরতি। এরপর ফিরেই ১৮ রান করা নাজমুল সাউদির তৃতীয় শিকার। মেহেদী হাসান মিরাজ এবার রান করবেন? মনে হচ্ছিল এটাই ব্যাট হাতে তার প্রমাণের আদর্শ সময়। কিন্তু ১০ রান করে নেইল ওয়াগনারের একমাত্র শিকার মেহেদী । বোল্ড। এরপর লেজে শুধু বোলাররা। কিছু আশা করার উপায় নেই। একপ্রান্তে নুরুল। শর্ট বলের পুরস্কার সাউদির। তাসকিন আহমেদ (৮) ফেরেন। এরপরও কামরুল ইসলাম রাব্বিকে নিয়ে ১১ ওভার লড়ে যান নুরুল। তাতে আসে ১৬ রান মাত্র। কিন্তু লড়াইটা চলতে থাকে দিনের শেষের পথে। শেষ বিকেলে বোল্ট তার চতুর্থ শিকার বানিয়ে ফেলেন নুরুলকে। ৯৮ বলে ৫ বাউন্ডারিতে নুরুলের ৪৭ রানে গর্বিত লড়াইয়ের ওখানেই ইতি। প্রায় তিন ঘন্টা লড়ে ধরেন সাজঘরের পথ।

রুবেল এসেই টানা দুই বাউন্ডারি মারলেন। এরপর হেলমেটের গ্রিলে কানের ওপরের দিকটায় শর্ট-পিচ বলের আঘাতও পেলেন। তারপরও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে নিজেদের তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৮২ রানের ইনিংসের রেকর্ড টপকে যায় টাইগাররা। কামরুল খেলেন তামিম, মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বিরের খেলা বলের যোগফলের বেশি বল। রুবেল আবার বোল্টের শর্ট বলে নিদারুণ আঘাত পান বোলিং হাতের কনুইয়ে। দাঁতে দাঁত চেপে ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান কি লড়াইটাই না করলেন! পরের ওভারে রাব্বির প্রতিরোধ ভাঙে সাউদির পঞ্চম শিকার হয়ে। ইনিংস শেষ। তবে ৬৩ বলে কামরুলের এই লড়াই ভোলার নয়! ভুলবেন না নিশ্চয়ই রুবেলের এতো আঘাত সয়ে ২১ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১৬ রানের হার না মানার গল্পটাও।  সাউদির ৫ উইকেটের পাশে প্রথম ইনিংসে বোল্টের শিকার ৪টি।

চোটের কারণে এই ম্যাচ খেলতে পারছেন না অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম, ওপেনার ইমরুল কায়েস ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক। তামিম প্রথমবার অধিনায়ক। মুশফিকের জায়গায় অভিষেক নুরুলের। দলে ফেরেন সৌম্য। ডেভেলপমেন্টের অংশ হিসেবে দলে থাকলেও অভিষেক হয়ে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর। ২০১৫ সালের পর পেসার রুবেল হোসেন টেস্ট খেলেন। শুভাশিস রায়ের জায়গা নেন। প্রথম টেস্টে অসাধারণ খেলার পর অবিশ্বাস্য হার। সিরিজের শেষ ম্যাচে ভাঙাচোরা অনভিজ্ঞ দল নিয়ে প্রথম দিনে যা করল টাইগাররা, তা নিয়ে নিশ্চয়ই অভিযোগের কিছু থাকার কথা নয়।

Comments are closed.