ইংল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিতীয় টেস্টই বড় অনুপ্রেরণা বাংলাদেশের

ওয়ান নিউজ ক্রীড়া ডেক্সঃ খারাপ সময় নাকি পেছনে ফেলে আসা সোনালি দিনগুলোই হয় অনুপ্রেরণা। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দাঁড়িয়ে এখন সেই সব সোনালি অতীত হাতরে বেড়াচ্ছেন টাইগার কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে। অনুপ্রেরণার প্রতীক খুঁজতে গিয়ে হাতের কাছেই পেয়ে গেছেন ইংল্যান্ডের সঙ্গে হোম সিরিজ। তিনি ঐ সিরিজ থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। এই তো গত বছর অক্টোবরে; চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচের ঐ সিরিজের প্রথম টেস্টের বেশির ভাগ সময় ইংলিশদের সঙ্গে সমান তালে লড়েও শেষ রক্ষা হয়নি। প্রায় পুরো ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে মুশফিকের দল হারে ২২ রানে।

আর ঠিক তার পরের টেস্টে টাইগারদের অন্যরূপ। একদম বাঘের গর্জনে ঘুরে দাঁড়ানো। মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টে টাইগারদের উজ্জিবীত ও অনুপ্রাণিত পারফরমেন্সের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ ইংলিশদের। মাত্র দুইমাস পর এবার নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্টেও প্রায় একই কাহিনী। বরং এবার আরও ভালো অবস্থা তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত হেরে যাওয়া।

এখন ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের আগে ইংল্যান্ডের সাথে দ্বিতীয় ম্যাচের কথা ভেবে অনুপ্রাণিত হতে পারে টাইগাররা। মনে সাহস সঞ্চার ও ভালো খেলার রসদ পেতে ইংলিশদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের উজ্জীবিত পারফরমেন্স এবং দারুণ জয়ই হতে পারে খুব ভালো দাওয়াই।

কিন্তু প্রশ্ন হলো টাইগাররা কি তা ভাবছে? কোচ হাথুরুসিংহের কথা শুনে মনে হলো খুব ভালো ভাবেই তা মাথায় আছে তাদের। কথা বার্তায় বোঝা গেল হাথুরুসিংহে ছেলেদের ঐ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে থেকে অনুপ্রেরণা নেবার কথা বলেছেন। তাই তো কণ্ঠে এমন কথা, ‘অবশ্যই আমরা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের কথা ভেবে অনুপ্রাণিত হতে পারি। ভালো খেলেও প্রথম ম্যাচ হারার ঠিক পরের ম্যাচ কিভাবে আরও ভাল খেলে জেতা যায়? ছেলেরা এই সেদিন শেরে বাংলায় করে দেখিয়েছে। মনে রাখতে হবে, সেটা ছিল টার্নিং উইকেট। আর এখন নিউজিল্যান্ডে এসে সামলাতে হচ্ছে সিমিং কন্ডিশন। চ্যালেঞ্জ দুই জায়গায় সমান। আমি মনে করি তখন যেমন ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে ছেলেরা, এখনও পারবে।’

তা যে পারবে, প্রথম ইনিংসের দুর্দান্ত ব্যাটিং শৈলিই তার প্রমাণ। আমার বিশ্বাস, ছেলেরা যেমন নিজ মাটিতে স্পিনিং ট্র্যাকে চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সাথে উৎরে গেছে, একইভাবে এখন নিউজিল্যান্ডে এসে কিভাবে সিমিং কন্ডিশন সামলানো যায়, সেটাও তারা রপ্ত করে ফেলেছে। ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংই তার প্রমাণ।’

নিজ দলের ব্যাটসম্যানদের কৃতিত্ব দিয়ে হাথুরুসিংহে বলেন, দলকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তারা ইংলিশদের সঙ্গে ভালো মতই দেখিয়েছে টার্নিং উইকেটে ভালো ব্যাটিং করার পর্যাপ্ত সামর্থ্য আছে তাদের। আবার নিউজিল্যান্ডে এসে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সিমিং কন্ডিশনেও তারা ভালো খেলতে পারে। আর এটা যে কোন দলের জন্যই একটা বড় গুণ। কাজেই আমার কাছে স্কিল আর কন্ডিশন কোনটাই খুব বড় নয়।  আমি এর কোনটাকেই খুব বড় করে দেখতে চাই না।’

এরপর আর কিছু বলেননি টাইগার কোচ। তবে তার শরীরী অভিব্যক্তি বলে দিচ্ছিল কথা অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। তা হলো, নিজ দলের স্কিল আর কন্ডিশন নিয়ে মোটেই মাথা ব্যথা নেই তার। তিনি বিশ্বাস করেন, তার শিষ্যদের সামর্থ্য আছে নিউজিল্যান্ডের মাটিতেও ভালো খেলার। তা যে আছে ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংই তার প্রমাণ। দরকার শুধু সেই দ্যুতিমাখা ব্যাটিংয়ের পুনরাবৃত্তি আর ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।সুত্রঃ জাগো নিউজ

Comments are closed.