ঝিনাইদহে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে গাছ তলায় হতাশ অবিভাবক মহল

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহে ১৫টি স্কুলে ক্লাস চলে খোলা আকাশের নিচে, শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে গাছ তলায় হতাশ অবিভাবক মহল । ঝিনাইদহে ৪৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ১৫টিতে ক্লাস চলে খোলা আকাশের নিচে। বাকিগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান। এ অবস্থায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা শিক্ষকদের।

 

অন্যদিকে শিক্ষা অফিস বলছে ঝুঁকিপুর্ণ বিদ্যালয় গুলো পুন:নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য সরকার পদক্ষেপ নিয়েছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, ঝিনাইদহের ৬ টি উপজেলায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৮৯৬টি। বেসরকারি বিদ্যালয় আছে ৩৮টি, এনজিও পরিচালিত বিদ্যালয় আছে ১’শ ৩৮টি এবং কিন্ডার গার্টেন স্কুল আছে ২’শ ৫৫টি। ঝুঁকিপুর্ণ বিদ্যালয়গুলো হলো (উপজেলা ভিত্তিক) কালীগঞ্জ উপজেলা- নরেন্দ্রপুর ঘোষনগর, কাশিপুর, মথনপুর, চাপালী ও নিয়ামতপুর, কোটচাঁদপুর উপজেলা- সারুটিয়া, চতুরপুর ও সিঙ্গিয়া, সদর উপজেলা-পুটিয়া, লৌহজঙ্গা, ডাকাতিয়া, পোড়াবেতাই ও শহীদ মোশারফ, শৈলকুপা উপজেলা-শাহী মসজিদ, জিকেএইচ, গোলকনগর, মান্দারিপাড়া, রুপদাব্যাসপুর, রতনপুর, দক্ষিণ মনোহরপুর, পূর্ব-বসন্তপুর, শাহাবাড়িয়া, বন্দেখালী, কবিরপুর, ব্রহ্মপুর, বাহাদুরপুর ও গোবিন্দপুর, হরিণাকুন্ডু উপজেলা-পার্বতীপুর, সনাতনপুর, মান্দিরা, তোলা, ভবানীপুর, সাবেক নিত্যানন্দপুর, ২০ নম্বর দৌলতপুর, পারদখলপুর, রঘুনাথপুর, লালনশাহ, নারায়ণকান্দি, তেলটুপিবাজার, বাগআঁচড়া, জোড়াদাহ, ধুলিয়া, নারায়ণকান্দি অনির্বাণ ও খলিসাকুন্ডু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

শৈলকুপা বন্দেখালি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, ১৯৯৩ সালে কমিউনিট স্কুল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয় শৈলকুপা বন্দেখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। স্কুলের পাকা ভবন নির্মান করা হয় উপজেলা পরিষদ থেকে। নির্মাণ কাজ নিন্মমানের হওযায় কিছু দিন যেতে না যেতেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরে।

 

ছাদ থেকে কংক্রিটের প্লাস্টার ভেঙ্গে পড়তে থাকে। এরপর প্রকৌশল বিভাগ থেকে স্কুল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষনা করা হয়। যে কারণে কয়েক বছর ধরে স্কুলটি চলছে পার্শবর্তী লিচু বাগানে। শিক্ষার্থীরা চট বিছিয়ে বসে শিক্ষা নেয়। বৃষ্টি হলে স্কুল ছুটি হয়ে যায়। অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের অন্য স্কুলে নিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে স্কুলের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

 

কালীগঞ্জ চাপালি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আক্তার জাহান শিল্পী জানান, একই দশা কালীগঞ্জের চাঁপালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ১৯৯৬ সালে নির্মিত একমাত্র ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে দেখে ভবনটিতে ক্লাস না করার পরামর্শ দিয়েছে। কালীগঞ্জ চাপালি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমল কান্তি মজুমদার জানান, ভবনের ছাদ ধরে রাখতে বাঁশের খুঁটি লাগানো হয়েছে। এ অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নিতে হচ্ছে।

 

ডাকাতিয়া সরকারি ন্ত্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নিজেদের তৈরি টিনশেডের নিচে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে সদর উপজেলার এ বিদ্যালয়ে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় চলছে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান। এদিকে খোলা মাঠে পাঠদান করার কারণে শিক্ষার্থীরা অমনোযাগী হয়ে পড়ছেঝিনাইদহ জেলা প্র্রথমিক শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান জানান, জেলার ঝুঁকিপুর্ণ বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে স্বীকার করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বললেন বিদ্যালয় গুলো পুন:নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য সরকার পদক্ষেপ নিয়েছেন।

Comments are closed.