ট্রাম্পের ওপর চটেছেন সিআইএ প্রধান

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হ্যাকিং চেষ্টা করার প্রতিবেদন জমা দেয়া ও মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে (সিআইএ) জার্মানির নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করায় ট্রাম্পের ওপর বেজায় চটেছেন সিআইএ প্রধান জন ব্রেন্নান। একইসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্যকে অপমানজনক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে এক টিভি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে এক হাত নিয়েছেনও জন ব্রেন্নান। ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে ও তিনি কী বলছেন তাতে সতর্ক থাকতে হবে তার।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন জমা দেয় সিআইএ। প্রতিবেদনটি বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও নতুন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেও দেখানো হয়। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কম্পিউটার হ্যাকিং ও অন্যান্য কয়েকটি উপায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে রাশিয়া। তবে সেই চেষ্টা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে কি-না সে বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

গত ১০ জানুয়ারি সিআইএর বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যমগুলো জানায়, রাশিয়ার কাছে ট্রাম্পের নৈতিক স্খলনজনিত কিছু ডকুমেন্ট ও ভিডিও চিত্র রয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় ওই খবরকে ‘ভুয়া’ উল্লেখ করে বলেন, তার রাজনৈতিক ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন করার লক্ষ্যে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সিআইএ প্রধান বলেন, এ খবরের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। এটি সকলের কাছে প্রকাশিত তথ্য। গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও পত্রিকায় খবর প্রকাশ হওয়ার পরেই সিআইএ’র গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। এমনকি সিআইএকে জার্মানীর নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করেছেন। এরপরেই ট্রাম্পের ওপর চটলেন জন ব্রেন্নান।

সিআইয়ের প্রকাশ করা তথ্যর বিরুদ্ধে ট্রাম্প অভিযোগের যে আঙ্গুল তুলেছেন তার কোনো ভিত্তি নেই বলেও উল্লেখ করেছেন জন ব্রেন্নান সেই টিভি সাক্ষাৎকারে।

সিআইএ প্রধান প্রশ্ন করে বলেন, আমেরিকার নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের যদি নিজ দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি বিশ্বাস না থাকে তাহলে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে কি বার্তা যাবে। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব বুঝে নেয়ার পরেই ট্রাম্প আমেরিকার ১৭টি গোয়েন্দা সংস্থার নিয়ন্ত্রক হবেন।

জন ব্রেন্নান আরও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর ট্রাম্পকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সংযত হয়ে কথা বলতে হবে। অসংলগ্ন কথাবার্তা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ভালো নয়। কাজেই তিনি যখন কথা বলবেন বা কোনো বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন তখন তাকে অবশ্যই এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে যে, তার এ কথার যে গভীর প্রভাব রয়েছে সেটি তিনি বুঝতে পেরেছেন। ট্রাম্পকে বুঝতে হবে তার চেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ অনেক বড়।

Comments are closed.