সামাজিক যোগাযোগে পরিচয়, বন্ধুত্ব, প্রেম ও বিয়ে অতঃপর …

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ ইন্টারনেটের মাধ্যমে আলাপ আজকাল আর নতুন কিছু নয়! টুইটার, ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের যুগে বরং ভার্চুয়াল জগতের মানুষরাই আজকাল যেন বেশি আপন। বর্তমান সময়ে ফেসবুককে বিবেচনা করা হচ্ছে একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশের উল্লেখযোগ্য একটি জায়গা হিসেবে। এবং সেই সাথে সম্পর্ক তৈরিরও। ফেসবুকের বন্ধুরা হয়ে উঠছেন আপনের চেয়েও আপন!

শুধু কি বন্ধুত্ব : প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার মাধ্যম হিসেবেও ফেসবুক এখন ব্যাপক আলোচিত। ফেসবুক বন্ধুকে ভালো লেগে যাওয়া, কাছাকাছি আসা, অতঃপর প্রেম- এ যেন এখন ফেসবুকের নিত্যকার কাহিনী। একে অপরকে জানা, মানসিকতা বিচার, জীবনযাপন সম্পর্কে ধারণা লাভ- সবকিছুই হচ্ছে ফেসবুকের মাধ্যমে। তাই এখন ফেসবুক শুধু সংহতি প্রকাশ বা বন্ধুত্বের মাধ্যম হিসেবে নয়, বিবেচিত হচ্ছে রোমান্টিক সম্পর্কের মাধ্যম হিসেবেও!

মোবাইল, ল্যাপটপ বা পিসিতে কোনও সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের মাধ্যমে চ্যাট করছেন। হঠাৎ একজনের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট৷প্রোফাইল বা ছবি দেখে পছন্দ হয়ে গেল আপনার। বাস; ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করলেন। এরপর চ্যাট, পরিচয়। আপনার মনের কোনে একটু একটু করে জায়গা করে নেয় বন্ধুটি। এক সময় আপনার হৃদয় জুড়ে শুধু সেই রয়েছে। এবার তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

 

কিন্তু বিয়ে করার পর দেখলেন সাইবার দুনিয়ায় আপনার সেই প্রিয় জীবনসঙ্গী বাস্তবে একেবারে আলাদা। বাস আপনি পড়লেন আকাশ থেকে। কি হবে এখন? শেষমেষ নিজেকে মানাতে না পেরে বিবাহ বিচ্ছেদ করতে বাধ্য হলেন আপনি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্টের একদল গবেষক জানিয়েছেন অনলাইনে তৈরি হওয়া সম্পর্কই সবচেয়ে দ্রুত ভেঙে যেতে পারে। গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, মুখোমুখি সাক্ষাৎ হওয়া বা সরাসরি সাক্ষাৎ হওয়ার থেকে অনলাইনে সাক্ষাৎ হওয়া সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরিমাণ অনেকটাই বেশি।

সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট, অনলাইন ডেটিং সাইট ও পারস্পরিক যোগাযোগের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনগুলো এখন তুমুল জনপ্রিয়। অনলাইনে তাই অনেকেই সম্পর্ক গড়ে তুলছেন এবং এ সম্পর্ককে ভবিষ্যত সঙ্গী হিসেবে পাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন বেলজিয়ামের ভার্চুয়্যাল রিয়েলিটি মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারাক্টিভ মিডিয়া ইনস্টিটিউটের গবেষক ব্রেন্ডা কে ওয়েডারহোল্ড। গবেষণা সংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে সাইবারসাইকোলজি বিহেভিয়ার অ্যান্ড সোস্যাল নেটওয়ার্কিং পত্রিকাতে।

Comments are closed.