বাংলার মাটিতে সন্ত্রাসীদের জায়গা হবে নাঃ র‌্যাব মহাপরিচালক

নেজাম উদ্দিন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ আটক রোহিঙ্গাদের নিয়ে পাহাড়ে রেব অভিযান টেকনাফে আনসার ব্যারাক থেকে লুন্ঠিত ৫টিসহ ১০ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার কক্সবাজারের টেকনাফের মুচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আনসার ব্যারাক থেকে লুন্ঠিত অস্ত্রের ৫টিসহ দশটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এসময় লুন্ঠিত কার্তুজের ১৮৯ রাউন্ডসহ ২১৫ পিস কার্তুজও উদ্ধার করা হয়। সোমবার সারারাত কক্সবাজারের উখিয়ার পার্শবর্তি গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পাহাড়ের পাদদেশে বিশেষ গর্ত করে প্লাস্টিকের ড্রাম্প ভর্তি করে অস্ত্রগুলো রাখাছিল। র‌্যাবের মহা পরিচালক বেনজির আহমদ ও আনসারের মহাপরিচালক মিজানুর রহমান উদ্ধার স্থলে বেলা দুটায় প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব এর মহাপরিচালক বেনজীর আহম্মদ সাংবাদিকদের  বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে কোন সন্ত্রাসীদের জায়গা হবে না। স্বনির্ভর বাংলাদেশকে র‌্যাব একটি সন্ত্রাসমুক্ত দেশ হিসাবে গড়তে চাই। র‌্যাব ডিজি বলেন, গত বছরের ১২ মে রাতে টেকনাফের নয়াপাড়া মুচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আনসার ব্যারাকে হামলা চালায় দূর্বৃত্তরা। এসময় তাদের প্রতিহত করতে গিয়ে খুন হন আনসার পিসি আলী হোসেন। দূর্বৃত্তরা ১১টি সরকারি অস্ত্র ও ৬৭০ রাউন্ড গুলি লুট করে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই পুলিশ বিজিবি ও র‌্যাব অভিযান চালায়। কিন্তু তেমন কোন সফলতা না আসলেও হাল ছাড়েনি র‌্যাব । এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ছয় জনকে বিভিন্ন সময় আটক করে র‌্যাব ও পুলিশ।

আটকদের দেয়া তথ্যমতে রবিবার প্রথম রাতে ঘটনায় সম্পক্ত খাইরুল আমিন (বড়) ও মাস্টার আবুল কালাম আজাদকে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে দুটি অস্ত্রসহ আটক করে। তাদের স্বীকারোক্তি মতে, আরেক সহযোগি হাসান আহমদকে আটক করে র‌্যাব তাদের নিয়ে অভিযানে নামে। তাদের দেখিয়ে দেয়া দুটি স্পট থেকে র‌্যাব লোকানো অস্ত্র গুলোর সন্ধান পায়।

র‌্যাব ও আনসার কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে মাটি কুড়ে ড্রাম্পভর্তী অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে। উদ্ধার অস্ত্রের মাঝে রয়েছে তিনটি এমটু, এসএমজি একটি, ৭.৬২ চাইনিজ রাইফেল একটিসহ দেশীয় তৈরী ৫টি অস্ত্র এবং লুন্ঠিত কার্তুজের ১৮৯ পিচ ও দূর্বৃত্তদের ২৬ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বাকী অস্ত্র উদ্ধারে আটকদের নিয়ে আরো অভিযানের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আনসার মহাপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, উদ্ধার অস্ত্র গুলো আনসার ব্যারাক থেকে লুন্ঠিত অস্ত্র বলেই প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরে নাম্বার ও অন্যান্য বিষয়াদি মিলিয়ে দেখে কোন কোন অস্ত্রটি পাওয়া গেছে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।সফল এ অভিযানের জন্য তিনি র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। সার্বিক নজনদারি রাখায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৭) কক্সবাজার ক্যাম্পের ইনচার্জ লে. কমান্ডার আশেকুর রহমান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি সফল অভিযান চালানো সম্ভব হয়েছে। অভিযুক্ত খাইরুলের দেখিয়ে দেয়া স্থান থেকে মাটি কুড়ে অস্ত্র গুলো পেয়েছি। এতে কষ্টগুলো সফল হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ মে রাতে টেকনাফের নয়াপাড়ায় শরণার্থী শিবিরের আনসার ক্যাম্পে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। তাদের বাধা দিতে গিয়ে আনসার কমান্ডার টাঙ্গাইলের শফিপুরের মৃত শুক্কুর আলীর ছেলে আলী হোসেন (৫৫) নিহত হন। এসময় লুট করা হয় ১১টি অস্ত্র ও প্রায় ৬৭০টি গুলি। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন অভিযুক্তের ভেতর খাইরুল আমিন অন্যতম।

Comments are closed.