আকাশপথের দুর্ঘটনায় ২০১৬

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ আকাশযাত্রায় ২০১৬ সালটি খুব একটা ভালো যায়নি। বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিমান ও হেলিকপ্টার মিলিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে অন্তত ৩৩টি। যার মধ্যে রয়েছে ভারত, কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া ও মিসরের মতো বাঘা বিমান সংস্থাও। শঙ্কার বাইরে ছিল না খোদ বাংলাদেশও। গেল নভেম্বরে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ‘ফ্লাইট ৭৭৭’ যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে তুর্কমেনিস্তানে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়।

বছরের প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে জানুয়ারির ৮ তারিখে। ওয়েস্ট এয়ার সুইডেনের ফ্লাইট ২৯৪ কার্গো বিমানটি উড্ডয়নের ৩০ মিনিট পর বিধ্বস্ত হলে ২ আরোহীর সবাই নিহত হন। অসলো থেকে বিমানটি ট্রমসো যাচ্ছিল।

জানুয়ারির ১৪ তারিখ হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে মার্কিন মেরিন সেনাদের দুটি হেলিকপ্টার আকাশপথেই ধাক্কা খেলে প্রাণ হারান ১২ আরোহীর সবাই।

সোমালিয়ায় ফেব্রুয়ারির ২ তারিখে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান ডাল্লো এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৫৯ এর আরোহীরা। মোগাদিসু থেকে উড্ডয়নের ২০ মিনিট বাদে এক ব্যক্তি সঙ্গে আত্মঘাতী বোমা রয়েছে জানালে বিমানের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পাইলট সাথে সাথেই আবার মোগাদিসুর পথ ধরেন। অবস্থা বেগতিক দেখে বোমার বিস্ফোরণ ঘটান হামলাকারী। বোমারুর চেষ্টা অবশ্য বিফলে যায়। তিনি প্রাণ হারালেও বিমানের সবাই নিরাপদেই মাটিতে নামেন।

২৪ ফেব্রুয়ারি নেপালের তারা এয়ারের ফ্লাইট ১৯৩ উড্ডয়নের ৮ মিনিট পর নিখোঁজ হয়। বিমানটি পোখরা থেকে জমসম বিমানবন্দরে যাচ্ছিল। পরে মায়াগদি জেলায় বিধ্বস্ত বিমানটির সন্ধান মেলে। অনুসন্ধানী দল নিশ্চিত হয়, ২০ যাত্রী ও ৩ কর্মীর সবাই প্রাণ হারিয়েছেন।

ঘটনার ১ দিন পর আবারও দুর্ঘটনায় পড়ে নেপালের কাঠমান্ডাপ পিএসি ৭৫০এক্সএল বিমান। নেপালগঞ্জ থেকে জুমলাগামী বিমানটির ৯ আরোহীর সবাই অবশ্য প্রাণে বেঁচে যান।

মার্চের ১৫ তারিখে দুর্ঘটনায় পড়ে ইকুয়েডরের সেনাবাহিনীর বিমান। এতে ২২ আরোহীর সবাই নিহত হন।

মার্চের ১৯ তারিখে রুশ বিমান ফ্লাইডুবাই ফ্লাইট ৯৮১ দুর্ঘটনায় পড়ে। বোয়িং ৭৩৭ বিমানটিতে ৫৫ জন যাত্রী ও ৭ ক্রু ছিলেন। ডুবাই থেকে রাশিয়ায় যাওয়ার পর অবতরণের ঝামেলায় পড়ে বিমানটি। প্রথমবার অবতরণে ব্যর্থ হয়ে দ্বিতীয়বার চেষ্টা করেন বিমানের পাইলট। তবে সেবারও ব্যর্থ হলে রানওয়ের কাছেই এটি বিধ্বস্ত হয়। আর এই দুর্ঘটনায় আরোহীদের সবাই নিহত হন।

মার্চের ২৯ তারিখে কুইবেক যাওয়ার পথে কানাডীয় বেসরকারি বিমান সংস্থা এয়ারো টেকনিক’এর মিতসুবিশি এমইউ-২ বিমানও বিধ্বস্ত হয়। পরিবারের বেশ ক’জন সদস্যকে নিয়ে বিমানটিতে যাচ্ছিলেন কানাডার সাবেক রাজনীতিক জেন লাপিয়েরে। দুর্ঘটনায় নিহত হন ৭ আরোহীর সবাই।

২০১৬ সালের ২৯ এপ্রিল, নরওয়ের উত্তরে সাগরে বিধ্বস্ত হয় দেশটির সিএইচসি হেলিকপ্টার সার্ভিসের ইসি২২৫ সুপার পুমা। সাগরে বিধ্বস্ত হলে নিহত হন ১৩ আরোহীর সবাই।

মে মাসের ১৮ তারিখে আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয় সিল্কওয়ে এয়ারলাইন্সের অ্যান্টনোভ এএন ১২ কার্গো বিমান। তুর্কিমেনিস্তানগামী বিমানটিতে ৯ আরোহীর মধ্যে ২ জন সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান।

১৯ মে প্যারিস থেকে কায়রো যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে বিধ্বস্ত হয় মিসরের বিমান সংস্থার ফ্লাইট ৮০৪। বিমানটিতে থাকা ৫৬ যাত্রী এবং ১০ ক্রু’র সবাই এতে প্রাণ হারান। কোনো ধরনের সতর্কবার্তা ছাড়াই এভাবে বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ জানতে তদন্ত করে মিসর কর্তৃপক্ষ। ডিসেম্বরে জানানো হয়, প্রাপ্ত ধ্বংসস্তুপ থেকে তারা বিস্ফোরকের আলামত সংগ্রহ করেছেন।

জুনের ২৬ তারিখে কলম্বিয়ায় এমআই ১৭ মডেলের একটি সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলে ১৭ আরোহীর সবাই নিহত হন।

জুলাইয়ের প্রথম দিনই রাশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রিত (Ilyushin Il-76) বিমানটি সার্বিয়ার কাছে বৈকাল হ্রদে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় নিহত হন ১০ আরোহীর সবাই।

জুলাইয়ের ২২ তারিখ দুর্ঘটনায় পড়ে ভারতীয় বিমান বাহিনীর এন্টোনভ এএন-৩২। দুই ইঞ্জিনের বিমানটি চেন্নাই থেকে আন্দামান যাচ্ছিল। গণমাধ্যমে প্রকাশ, বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে চলার সময় হঠাৎই বিমানটির সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিমানটিতে ২৯ জন আরোহী ছিলেন, যাদের সবাই এখনও নিখোঁজ।

ওই মাসে বেলুন বিধ্বস্তের ঘটনাও ঘটে। ৩০ জুলাই ১৬ আরোহী নিয়ে সেটি টেক্সাসের আকাশে উড়ছিল। তবে পথেই সেটিতে আগুন ধরে যায়। মাটিতে আছড়ে পড়লে প্রাণ হারান আরোহীদের সবাই।

অক্টোবরের ২৪ তারিখে ৫ আরোহী নিয়ে সিএই এভিয়েশনের একটি বিমান মাল্টা বিমানবন্দরের কাছেই কিরকপে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা দফতরের কিছু সদস্য গোপন অভিযানে লিবিয়া যাচ্ছিল। উড্ডয়নের পর পরই বিমান বিধ্বস্তের কারণ জানতে তদন্ত এখনও চলছে।

নভেম্বরের ২৮ তারিখ বিমান দুর্ঘটনায় অকালে ঝড়ে যায় ব্রাজিলের উদিয়মান একঝাঁক তরুণ ফুটবলার। একটি ফুটবল ম্যাচে অংশ নিতে কলম্বিয়ার বেসরকারী বিমান সংস্থা লামিয়া’র ফ্লাইট ২৯৩৩ এ যাচ্ছিলেন ব্রাজিলের শীর্ষস্থানীয় ফুটবল টিম শাপেকোয়েন্সের খোলোয়াড় ও কর্মকর্তারা। ৪ ক্রু বাদে ৭৩ জন যাত্রীর মধ্যে আরও ছিলেন দলের কোচ, সাংবাদিক ও সমর্থক। ভাগ্যগুণে ৬ জন প্রাণে বাঁচলেও নিহত হন বাকি ৭১ জন।

৭ ডিসেম্বর দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পাকিস্তানের বিমান সংস্থার ফ্লাইট ৬৬১। চিত্রল থেকে ইসলামাবাদ যাওয়ার পথে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে ৪৭ আরোহীর সবাই প্রাণ হারান।

১৮ ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার বিমান বাহিনীর সি-১৩০ হারকিউলিস বিমানও বিধ্বস্ত হয়। এতে প্রাণ হারান ১৩ আরোহীর সবাই।

বছরের শেষদিকে গেলো ২৫ ডিসেম্বর রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের টুপোলেভ টু ১৫৪ বিমানটি কৃষ্ণ সাগরে বিধ্বস্ত হলে ৯২ আরোহীর সবাই প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।সুত্রঃপরিবর্তন

Comments are closed.