সরকারের দায়িত্ব পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেখাবে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান

aziz-ahmed.jpg

চট্রগ্রাম প্রতিনিধিঃ  নতুন ক্যাডেট কমিশন লাভ করা সেনা সদস্যদের উদ্দেশে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, সেনাবাহিনীর মূলমন্ত্র ও শপথ কর্মক্ষেত্রে পাথেয় হিসেবে থাকবে। এই দুটি বিষয়কে অন্তরে ধারণ করা ও কার্যক্ষেত্রে এর প্রতিফলনের মাধ্যমেই একজন সৈনিক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তা পেশাদারিত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীতে ৭৮তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স এবং ৫৩ স্পেশাল কোর্সের রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে তিনি এসব কথা বলেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রেজা-উল করিম শাম্মী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ জানা যায়।

সেনাপ্রধান বলেন, সারাবিশ্ব আজ কোভিড-১৯ মহামারির প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত। মানব সভ্যতা আজ সত্যিকারের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আমাদের দেশেও এই মহামারি আঘাত হেনেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংকটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী করোনাযুদ্ধে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সাথে সারাদেশে বিভিন্ন জনমুখী ও বাস্তবধর্মী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনকালে আমাদের অনেক সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। এমন কঠিন বাস্তবতায় আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে সুপার সাইক্লোন আম্ফান। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনে নেমে আসে অবর্ণনীয় দুর্দশা। রমজান মাসে রোজা ও ঈদের দিনও পরিবার-পরিজন ফেলে দেশ মাতৃকার সেবায় আত্মনিয়োগ করেছে।

কুচকাওয়াজে শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার যে দায়িত্ব দেবে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তা পেশাদারিত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করবে। করোনা মোকাবিলায় দেশের সব সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের সক্ষমতা আগের চেয়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, করোনা মোকাবিলায় সেনাবাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। করোনায় এ পর্যস্ত সেনাবাহিনীর সদস্য ও তাদের ওপর নির্ভরশীল এমন ৪ হাজার ১৫৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মারা যাওয়া ২৬ জনের মধ্যে মাত্র দুজন সেনা সদস্য রয়েছেন বলে জানান তিনি।

এর আগে বেলা ১১টায় বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে নবীন ক্যাডেটদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এবার কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ২৫৫ জন অফিসার কমিশন লাভ করেন। যার মধ্যে ২৩১ জন পুরুষ ও ২৪ জন নারী অফিসার। এ বছর সব বিষয়ে কৃতিত্ব দেখিয়ে ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার তামিম আহমেদ সোর্ড অব অনার লাভ করেন। এছাড়া সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য কোম্পানি সিনিয়র আন্ডার অফিসার মারুফ হাসান সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক লাভ করেন।