প্রিয় কক্সবাজারবাসীর জন্য মোহাম্মদ নজিবুল ইসলামের খোলা চিঠিঃ

Nozib.jpg

আসসালামু আলাইকুম।

নীল জলে ঘেরা সমুদ্র বেষ্টিত কক্সবাজার আজ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত রেডজোন। সারাদেশেই করোনা আক্রান্ত রোগির সংখ্যা বেড়ে চলছে। এমন অবস্থায় মনটা আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত। ইতিমধ্যে আমাদের অনেক স্বজন,প্রতিবেশী, বন্ধুকে আমরা হারিয়েছি। আমাদের কয়েক প্রজন্ম এর আগে কখনো বিশ্বজুড়ে এমন ভয়াবহতার মুখোমুখি হয়নি৷ দেশে নানা ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে আমরা গিয়েছি। কিন্তু কখনোই এমন কিছু আমাদের সবাইকে সমানভাবে প্রভাবিত করেনি৷

রোহিঙ্গা সংকটের মতোন কঠিন বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংকট আমরা শক্ত হাতে মোকাবেলা করেছি। কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানীয় সংকট কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকলে একসাথে মিলে নিরসন করেছি।

কিন্তু এখন এমন এক বিপদের সম্মুখীন আমরা, যা আমাদের সবাইকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে৷ বিশ্বজুড়ে এখন মানবজাতির একটাই শত্রু- নভেল করোনা ভাইরাস৷ একটা সাধারণ কথা আমরা বুঝতে পারছি না আর তা হলো, ভাইরাস কোনো ধর্ম চেনে না, দল চেনে না৷ ভাইরাসের জন্য নয়, ভাইরাস ঠেকাতে আপনাদের উদাসীনতায় আমি বেশি আতঙ্কিত৷

আমি নিজেকে নিয়ে নয়, বরং কক্সবাজারবাসীকে নিয়ে বেশি চিন্তিত৷

করোনা ভাইরাসের সংক্রমন থেকে দেশবাসীকে রক্ষায় আমার প্রাণপ্রিয় নেত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা রাত দিন দেশের মানুষের কল্যানে কাজ করে যাচ্ছেন। আমার সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কক্সবাজার পৌর শাখার নেতৃবৃন্দ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় কাজ করছেন। শুধু আপনাদের প্রাণ বাঁচানোর জন্যে।

লকডাউনে আপনাদেরকে প্রথম থেকেই ঘরে থাকার আহব্বান জানিয়ে আসছি। আজ আবারো মিনতি করছি দয়া করে বাসায় থাকুন। চায়ের দোকানে, বাজারে অযথা আড্ডা দিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাইরাস লেনদেন বন্ধ করুন। আমার আর আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা গুনতে ইচ্ছে করছে না।

যারা বিদেশ থেকে এসেছেন, আপনারা স্বার্থপর হলেও তো নিজের পরিবারের কথা চিন্তা করে কোয়ারান্টিনে থাকা উচিত৷ তা না করে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরছেন, বিয়ে করছেন, যেখানে সেখানে আড্ডা দিচ্ছেন৷ আমি আপনাদের কী বলবো, খুঁজে পাচ্ছি না৷

আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ঘর বন্দি। ৭১’এ যে মানুষটা রণাঙ্গণে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জেলার সকল ভালো কাজে নিজের জীবনের আত্মনিয়োগ করেছেন সেই মানুষটাও মাঝে মাঝে আমার কাছে জানতে চান আপনারা কেমন আছেন, ঘরে থাকছেন কি না?? আপনাদের সেবা করতে গিয়ে আমার প্রিয় নেতা পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান আজ স্বপরিবারে করোনা আক্রান্ত। আমি দেশে লকডাউন শুরুর থেকে পৌর আওয়ামীলীগ এর নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বিভিন্ন অনুূদান নিয়ে অক্সিজেন সিলেন্ডার সহ চিকিৎসা সামগ্রী ও পৌরসভার প্রায় ৬ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছাতে পেরেছি। ভবিষ্যতে ও আপনাদের পার্শ্বে থাকব শরীরের শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত।

আপনারা মাস্ক কেনার জন্য, স্যানিটাইজার কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন৷ রাস্তায় পানের পিক আর থুতু ফেলা বন্ধ করেছেন? টিস্যু যেখানে সেখানে ফেলা বন্ধ করেছেন?
মানুষ কতটা বুদ্ধিহীন হলে নিজের পরিবারকে এমন বিপদে ফেলতে পারে?

পুরো বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে বিজ্ঞানীদের দিকে, কবে আবিষ্কার হবে ভ্যাকসিন৷ বিষয়টা খুব সিরিয়াস, আপনারা সিরিয়াস হোন৷ গুজবে কান দেবেন না। বিজ্ঞানী ও ডাক্তারদের কথা শুনুন৷

আমাদের ডাক্তার-নার্সেরা প্রাণপন লড়াই করছেন। আমাদের মাননীয় জেলা প্রশাসক আপনাদের জন্যে নিজের সর্ব্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছেন। আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিজের জীবন বিপন্ন করে আপনাকে বাঁচাতে মাঠে আছেন।

আপনারা জানেন, ইটালি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, এস্তোনিয়াসহ ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশ হয় লকডাউনে আছে, না হয় জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে, অথবা কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে৷ কারণ একটাই, সবাইকে নিরাপদে রাখতে বাধ্য করা৷

আপনাদের কে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে আমার কর্মীদের শুনতে হচ্ছে অপবাদ, সইতে হচ্ছে। আমার পৌর আ.লীগের মানবিক, সাহসী,অকুতোভয় কর্মীদের প্রতি হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা

আর কেউ মানুক আর না-ই মানুক, আমি জানি, এই যুদ্ধে আমরা জয়ী হবো৷ এই অন্ধকার অমানিশা কেটে আলো আসবে। একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য অঙ্গীকার দিয়ে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামীর সকালটি শুভ হওক _ এটাই প্রত্যাশা

ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন,ঘরে থাকুন।

ইতি,
আপনাদের স্বজন
মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম
সভাপতি
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ,
কক্সবাজার পৌর শাখা।