চকরিয়ায় বয়োবৃদ্ধ নির্যাতনকারী সেই যুবলীগ নেতাকে দলথেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার

received_250712219566225.jpeg


এম.মনছুর আলম, চকরিয়া:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ঘটনা নিয়ে বয়োবৃদ্ধকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনকারী সেই যুবলীগ নেতাকে অবশেষে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের প্রবীন মুরব্বী নুরুল আলমকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করার দায়ে ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা যুবলীগের আওতাধীন ঢেমশিয়া ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য আনছুর আলমকে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের পদ-পদবীসহ সকল প্রকার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সোহেলের নির্দেশ ও পরামর্শক্রমে
ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সেলিম রেজা মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রমিজের স্বাক্ষরিত উক্ত বহিস্কারাদেশ অনুমোদন করেন মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক অানছারুল করিম।
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি সেলিম রেজা মিটু ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রমিজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মঙ্গলবার (২ জুন) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারাদেশ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ একটি সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল দল। এখানে দলের নাম ব্যবহার করে উশৃংখলতা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হয়না।
উল্লেখ্য, উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য আনছুর আলম দলীয় দাপট দেখিয়ে প্রবীন মুরব্বী ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য ও কাউন্সিলর বয়োবৃদ্ধ নুরুল আলমকে প্রকাশ্যে দিবালোকে লুঙ্গী টেনেহিঁচড়ে ও গেঞ্জি ছিড়ে বিবস্ত্র করে মারধর পূর্বক চরম অপদস্ত করেন। তাই দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত ২৪ এপ্রিল ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ছয় কুড়িটিক্কা এলাকায় যুবলীগ নেতা আনছুর আলম কর্তৃক নির্যাতনের এ ঘটনাটি মোবাইল ক্যামরায় ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করলে এটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে এ হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে প্রশাসনসহ সাধারণ মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝেও তীব্র ক্ষোভ প্রতিক্রিয়া বিরাজ করে। এ ন্যাক্কার জনক ঘটনার পর গত ৩১ এপ্রিল বৃদ্ধ নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোসাইন বাদি হয়ে ঘটনায় জড়িত ৮ জনকে আসামী করে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়।