চকরিয়ায় এক বৃদ্ধকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, ফেসবুকে ভিডিও

received_267529420973328.jpeg

এম.মনছুর আলম,চকরিয়া :
কক্সবাজারের চকরিয়ায় নুরুল আলম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে বিবস্ত্র করে অমানবিক নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ইতিমধ্যে ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসলে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, গত ২৪ মে ঈদের আগের দিন বিকালে চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়ার ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ার হায়দার বাপের দরগাহ এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। আনছুর আলম নামের এক যুবকের নেতৃত্বে নুরুল আলম নামের ওই বৃদ্ধকে পূর্বশক্রতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটানো হয়। এসময় ওই বৃদ্ধকে লুঙ্গি খুলে দিয়ে শার্ট ছিঁড়ে দেয়া হয়। একই সময় ওই বৃদ্ধকে কিল-ঘুষি মেরে নির্যাতন চালানো হয়। আর কয়েকজন যুবক তা মোবাইলের ক্যামরায় ভিডিও ধারণ কর। তবে এসময় কেউ ওই বৃদ্ধকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর প্রশাসনসহ সবার নজরে আসলে তা দ্রুত সময়ে ভাইরাল হয়ে যায়। এ ব্যাপারে বৃদ্ধের পুত্র আশরাফ হোছাইন বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় ইতিমধ্যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে, বিষয়টি এখনো থানায় তদন্তধীন বলে জানা গেছে।
এতে আসামী করা হয়েছে- ওই এলাকার মৃত মনির উল্লাহর ছেলে বদিউল আলম (৫৫), আনছুর আলম (৩৫),শাহ আলম (৫২), শাহ আলমের স্ত্রী আরেজ খাতুন (৪৮), বদিউল আলমের ছেলে মিজানুর রহমান (২৮), আবদুল জাব্বারের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (৩২), জয়নাল আবেদিন (৩০) এবং মনজুর আলমের ছেলে মো.রুবেল (২৮)।
এজাহারে বাদি দাবি করেছে, গত ২৪ এপ্রিল আমার বয়োবৃদ্ধ বাবা নুরুল আলম ঈদের বাজার করে ঢেমুশিয়া স্টেশন থেকে টমটম গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে আনছুর আলমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী টমটম থেকে আমার বাবাকে নামিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পড়নে থাকা লুঙ্গি, গেঞ্জি ছিড়ে পেলে। পাশাপাশি তাকে মারধর ও অসভ্য গালিগালাজও করে। কয়েকজন যুবক এসব ঘটনার মোবাইলের ক্যামরাতে ধারণ করে। এসময় আমার বাবা বাঁচাও বাঁচাও বলে শোর-চিৎকার করতে থাকে। পরে ঘটনাটি শোনার পর আমার ছোট ভাই সিএনজি চালক সালাহউদ্দিন স্থানীয় লোকজনসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার বাবাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করায়।
মামলার বাদি আশরাফ হোসাইন এজাহারে আরো দাবি করেন, ঘটনার সময় আমার বাবার ব্যবহৃত একটি মোবাইল সেট ও পকেটে থাকা নগদ সাড়ে সাত হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয়। তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে আমার বাবার উপর অমানবিক এই ঘটনাটি গঠিয়েছে ঘটনার অন্যতম সন্ত্রাসী আনছুর আলম। সে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। এমন কোন অপকর্ম নেই যা সে করেনা। আমরা এ ঘটনার সুষ্ট তদন্তপূর্বক প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি করছি।
ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম জিকু কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তুচ্ছ একটি ঘটনার জের ধরে বয়স্ক নুরুল আলমের সাথে এমন অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। তিনি এই এলাকার বয়োবৃদ্ধ। সবাই ওনাকে খুব সম্মান করে। এলাকার কিছু চিহিৃত সন্ত্রাসী ঘটনাটি ঘটিয়েছে। বিষয়টি আমাকে জানানোর পর থানায় এজাহার দেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে আনছুর আলমের মোবাইলে অনেকবার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগি বৃদ্ধার ছেলে আশরাফ হোসাইন বাদি হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করে। বিষয়টি নিয়ে খুব তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
চকরিয়া সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মো.মতিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টা আমি ফেসুবকে দেখেছি। ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমি ওসিকে নির্দেশ দিয়েছি।##