কক্সবাজারের অবস্থা ভয়াবহ হতে চলেছে….

Sampadocer-Diary.jpg

কক্সবাজারের অবস্থা দিন দিন ভয়াবহ হতে চলেছে। এই ভয়াবহ সঠিক সময়ে প্রতিরোধ করা না হলে পর্যটন নগরী তথা কক্সবাজার আরেকটি ইতালির মৃত্যুপূরীতে পরিণত হবে।

বিশ্বে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ইতালির মতো শক্তিধর রাষ্ট্র কে মৃত্যুপূরীতে পরিণত হতে হয়েছে, সেখানে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের অবস্থা আরও ভয়াবহ রুপ নিতে পারে। সময় এসেছে এখনই সিদ্ধান্ত নেয়ার। আমরা এখনও চিন্তা-চেতনা ও গবেষণায় ব্যস্থ হয়ে পড়েছি।

অদৃশ্য মহামারির জন্য পৃথিবীর কেউ প্রস্তুত ছিল না, আমরা ছিলাম না। তাই এখন আর বসে থাকার সময় নেই। আজকে অর্থ্যাৎ ২৮মে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে নতুন সনাক্ত হয়েছে ৫৯জন। প্রতি দিন দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বিভিন্ন মাধ্যমে খবর আসছে, রামু বিশেষায়িত আইসোলেশনসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে কোন বেড/সিট খালি নাই, এতে করে রোগীদের মাঝে আরও ভয়ের সৃষ্টি হচ্ছে।

আমাদের দৃষ্টিতে খারাপ হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে- পজেটিভ রোগীদের দ্রুত আইসোলেশনে না নেয়ায় যত্র-তত্র বিচরণ করছে, অপর দিকে অল্প সময়ের মধ্যেই ট্রান্সমিশন হয়ে পড়ছে। 
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক হোটেল-মোটেল রয়েছে। এখান থেকে ২/১টা হোটেলকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইসোলেশন সেন্টার তৈরী করে, প্রতিদিন সনাক্ত হওয়া রোগীদের চলাচলের গতি-বিধি নিয়ন্ত্রণ করলে অবশ্যই পজেটিভ রোগীর সংখ্যা কমে আসবে।

আইসোলেশন সেন্টারে তেমন কোন যন্ত্রপাতির দরকার নেই, শুধুমাত্র কিছু অক্সিজেন সিলিন্ডার,পালস অক্সিমিটার, নেবুলাইজেশন মেশিনসহ কিছু প্রাথমিক যন্ত্রপাতি দিয়ে আইসোলেশন সেন্টার চালু করার জন্য আহবান করছি।

পজেটিভ হলেই রোগীদের অস্থায়ী আইসোলেশন সেন্টারে নিয়ে আসা হলে এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার দরকার হলে, কক্সবাজার সদর হাসপাতাল, রামু বিশেষায়িত ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত সেন্টারে স্থানান্তর করা হলে-

একদিকে ট্রান্সমিশন অনেকাংশে কমে যাবে। পাশাপাশি হাসপাতাল সমুহে রোগীর চাপ কমবে এবং রোগীরা সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পাবে।

কক্সবাজার জেলায় প্রায় ১২লক্ষের অধিক জনসাধারণের জন্য চিকিৎসা সেবা খুবই অপ্রতুল্য বললেই চলে। সরকারী হাসপাতাল সমুহে কোভিড-১৯ রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ রোগীরাই ভয়ে হাসপাতালে যেতে সাহস পাচ্ছে না।
সেখানে যদি বেসরকারী হাসপাতালসমুহকে কোভিড-১৯ হাসপাতালে রুপান্তর করা হয়, কক্সবাজারের চিকিৎসার পরিবেশ আরও মারাত্বক ঝুঁকিতে পরিণত হবে।
কক্সবাজারে শুধু কোভিড-১৯ রোগী আছে তা নয়, কোভিড-১৯ রোগীর পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের কথা মাথায় রেখে আমাদের সামনে অগ্রসর হতে হবে। আমাদের মনে আছে, স্বাভাবিক সময়ে সরকারী হাসপাতালগুলোতে রোগীর জন্য সিট পাওয়াও দুস্কর ছিল। ফ্লোরে বেডিং করে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে হয়েছে।
কোভিড-১৯ একটি খুবই দ্রুত ট্রন্সিমিশন হওয়ায় রোগ, যেখানে-সেখানে এই রোগের জন্য হাসপাতাল প্রস্তুত করা ঠিক না হতে পারে। অবশ্যই সদর হাসপাতালের আশে-পাশে হলে ভাল হয় কিন্তু সদর হাসপাতালের আশে-পাশে কক্সবাজারের সবচেয়ে ব্যস্থতম এলাকা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান ও সরকারী বিভিন্ন অফিস আদালত।
সরকারী হাসপাতালগুলোকে কোভিড-১৯ রোগীদের বেশি সময় ব্যয় করলে এবং বেসরকারী হাসপাতালগুলোকে সপ্তাহে ১/২দিন করে (সপ্তাহে ৭দিন) সম্পূর্ণ ফ্রি তে চিকিৎসা সেবা প্রদান করলে সাধারণ রোগীদের যেমন উপকার হবে, ঠিক তেমনি কোভিড-১৯ রোগীও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়ে উঠবে বলে মনে করি।

গত ২৬মে ২০.০৮ মিনিটে DC Cox’s Bazar ফেইসবুক আইডি থেকে প্রিয় কক্সবাজারবাসীর জন্য যে সুখবর ও কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা সক্ষমতার জন্য, বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ এবং দ্রুত সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ আশা করছি।

 

মুহাম্মদ ছলিম উল্লাহ সুজন, সম্পাদক ও সিইও

1news.com.bd.