আমরা জালেম আমাদের ক্ষমা করুন

Islam-2.jpg
মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

খোদা তোমার নাম জপি কখনও বা যাই ভুলে ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে নাও-গো আপন করে।

আমরা এগারোটি সিয়াম পালন করে ফেলেছি। যে করুণ পরিস্থিতিতে আমরা সিয়াম শুরু করেছিলাম, এখন বিশ্ব পরিস্থিতি তার চেয়ে ভয়াবহ হয়ে উঠছে। করোনাভাইরাস দমনে মানুষের সব প্রচেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়ছে। আমরা জানি না, সামনের দিনগুলোয় আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে।

সূরা আরাফে আল্লাহ বলেছেন, অতীতে যখনই কোনো প্রজন্মের ওপর আসমানি গজব নেমে এসেছে, তারা মুখ থুবড়ে পড়ার আগে শুধু একটি বাক্যই উচ্চারণ করেছে-কুন্না জালিমিন। হে আল্লাহ, আমরা জালেমদের অন্তর্ভুক্ত। সব ক্ষেত্রে যখন মানুষের জুলুমের সীমা ছাড়িয়ে যায়, যখন মানুষ পরিবেশ-প্রকৃতিকে মাত্রাতিরিক্ত বিষাক্ত করে ফেলে, তখনই গজব নেমে আসে পৃথিবীতে। গজব মানে রাগ। প্রভু আমাদের ওপর রাগ হয়েছেন। তাই তিনি আমাদের জন্য শাস্তি নাজিল করেছেন।

প্রভুর মান ভাঙিয়ে দিতে পারলে আশা করা যায়, কালো মেঘ কেটে যেতে পারে। তাই আমাদের এখন একটিই করণীয়, খোদার কাছে কান্নাকাটি করে তার মান ভাঙানোর চেষ্টা করা। খোদাকে রাজি-খুশি করানোর জন্য যত ধরনের নেক কাজ করা যায়, সবকিছুর বিনিময়ে হলেও প্রভুকে রাজি-খুশি করতে হবে এ দশকে।

একটি কাজ করতে পারলেই প্রভু আবার আমাদের দিকে রহমতের নজরে তাকাবেন। সেটি হল ক্ষমা প্রার্থনা করা। পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, কোনো প্রজন্ম ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে আর আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন- এমনটি কখনোই হবে না। আল্লাহতায়ালার শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করাই একমাত্র দাওয়াই। আনন্দের কথা হল, এখন চলছে মাগফিরাতের দশক। মাগফিরাতের বিশেষ বৃষ্টি ঝরে পড়ে এ দশকে। এ সময় যদি পৃথিবীবাসী প্রভুর কদমে লুটিয়ে পড়ে, তাহলে আশা করা যায় প্রভু গ্রহবাসীকে রহম করবেন।

হজরত ইউনুস (আ.)-এর উম্মতের ওপর শাস্তির ফায়সালা হয়ে গিয়েছিল। আজাব আসতে আর বেশি বাকি ছিল না। ইউনুস (আ.) পর্যন্ত লোকালয় ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে গিয়েছিলেন। আর কিছুক্ষণ পর কওমে ইউনুস খোদায়ী গজবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে-এমন সময় ইউনুস (আ.)-এর উম্মত একসঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ভিক্ষে চেয়েছিল। তারা বলেছিল, হে আল্লাহ, আমরা ভুল করে ফেলেছি। আপনি আমাদের মাফ করে দিন। সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহতায়ালা আজাব রুখে দিয়েছিলেন। ক্ষমাপ্রার্থী কওমকে রহমতের চাদরে ঢেকে মায়ার কোলে জড়িয়ে নিয়েছিলেন আল্লাহ। আর ইউনুস (আ.)-কে ওহি পাঠিয়ে বলেছিলেন, হে ইউনুস, এভাবে চলে আসাটা তোমার জন্য ঠিক হয়নি। আজ যদি আমরা প্রভুর ক্ষমার কদমে লুটিয়ে পড়ি, তাহলে তিনি আমাদেরও মায়ার কোলে টেনে নেবেন। হে আল্লাহ, আমাদের ক্ষমা করে দিন। করোনাভাইরাস থেকে আমাদের রক্ষা করুন। এ মানবগ্রহকে বাঁচিয়ে, বসবাস উপযোগী করে দিয়ে আমাদের বন্দেগি করার সুযোগ দিন।

লেখক : মুফাসসিরে কোরআন; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি।

www.selimazadi.com