সাংবাদিক হামলার সপ্তাহ পার হলেও মামলা নেয়নি চকরিয়া থানা

received_906967039768506.jpeg

চকরিয়া প্রতিনিধিঃ
দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ আতঙ্কের মাঝে এবার হামলার শিকার হয়ে ঘরের বাইরে দিনাতিপাত করছেন দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ এর চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি নাজমুল সাঈদ সোহেল ও তার পরিবার । গত শুক্রবার রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তাকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে চকরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করলেও তার দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছাত্রী তাসমিয়া সাঈদ সোহা এখনো অবরুদ্ধ রয়েছেন।এদিকে একই ঘটনায় নাজমুলের স্ত্রী ও আহত অকস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এঘটনায় আহত সাংবাদিক নাজমুল চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স থেকে রিলিজ হয়ে সোমবার একটি এজাহার দায়ের করলেও চকরিয়া থানার ওসি এজাহারটি গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগে জানা যায়। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, এজাহার জমা দেওয়ার আগে উল্টো আহত সাংবাদিক নাজমুলের বিরুদ্ধে রহস্যজনকভাবে প্রতিপক্ষের একটি এজাহার গ্রহণ করেন বলে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়।পরবর্তী মেয়ের খুঁজে ঘটনাস্থল বাড়িতে গেলে ভিতরে বাইরে তালা ঝুলতে দেখা যায়।এসময় উক্ত বাড়ির ভাড়াটিয়া মারফত জানা যায় তার মেয়ে বাড়ির ভিতরেই আছে কিন্তুু ঘরের গেইটে এবং দরজায় তালা লাগিয়ে দেওয়ায় বের হওয়ার মত কোন সুযোগ মিলছে না।
আহত সাংবাদিক নাজমুলের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মেয়ের অবরুদ্ধ বিষয়টি চকরিয়া থানার ওসি হাবিবুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে আহত নাজমুল অবগত করেন।প্রতি উত্তরে ওসি জবাব দেন এলাকার কাউন্সিলর ও আত্নীয় স্বজনদের জানান, আমাকে জানিয়ে লাভ কি বলে ফোন কেটে দেন। আইন শৃংঙ্কলা স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখা যেখানে থানার অফিসার ইনচার্জের নৈতিক দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য সেখানে একজন সাংবাদিকের হামলার বিষয়টি ভিডিওসহ প্রকাশ হওয়ার পরেও ওসি হাবিবুর রহমানের বিদ্বেষী মনোভাব প্রশ্নবিদ্ধ শামিল বলে মনে করছে ভুক্তভোগী।এমতাবস্থায় ওসি হাবিবের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে যেমন পুলিশের প্রতি আস্থার চিট ধরেছে ঠিক তেমনি দেশের অন্যতম আইন শৃংঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী সনামধন্য বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা এবং ভরসা হারিয়ে সমাজের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে বলে জানান হামলায় আহত হওয়া সাংবাদিক পরিবার।
এ প্রতিবেদক নাজমুলের উপর হামলার বিষয়ে মূল ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানতে চাইলে স্ত্রী তসলিমা সাঈদ যিসান বলেন,২০০০ সালে আমরা দুজনেই সম্পর্কের মাধ্যমে বিবাহ বন্দনে আবদ্ধ হই।বিয়ের বিষয়টি তার পরিবার জানার পর তাকে ঘর থেকে বাবা-মা তাড়িয়ে দেন।সেই থেকে আমার স্বামী পড়ালেখার পাশাপাশি ব্যাবসা শুরু করেন।তার দীর্ঘ পরিশ্রমের মাধ্যমে চকরিয়ায় একজন প্রতিষ্ঠিত ফার্নিচার ব্যাবসায়ী হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন।পাশাপাশি সত্য এবং নিষ্ঠার সহিত সাংবাদিকতা পেশা চালিয়ে আসছেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় নাজমুলের পরিবার থেকে দীর্ঘ ২১ বছর দূরত্ব বজায় থাকলেও প্রতিহিংসাবসত ৭বার থানা ও আদালতের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন।যার প্রমাণ স্বরুপ থানার নোটিশ আদালতের সমনজারি কপি গচ্ছিত রয়েছে।সর্বশেষ আত্নীয় স্বজনদের চাপের মুখে গত ১৩ মার্চ ছোটভাই তারেকের বিয়েতে যাওয়ার জন্য মুঠোফোনে কল দিয়ে যেতে বলেন।আমরা স্বপরিবার বিয়ের উদ্দেশ্যে শশুর বাড়ি যাই।ছেলের অধিকার দাবি করায় বিয়ের পরদিন থেকে শুরু অমানুষিক নির্যাতন। একপর্যায়ে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান কাছে নালিশ শশুর পক্ষের লোকজন।উভয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে শালিস বৈঠকে উপস্থিত হন।সম্পুর্ণ বিশ্লেষণ করে উপজেলা চেয়ারম্যানের রায়ের প্রেক্ষিত ওয়ারিশ মূলে আমার স্বামীকে ১৫ লক্ষ টাকা প্রদানের নির্দেশ দেন। শশুর পক্ষের লোকজন টাকা যোগাড় করতে হবে মর্মে সময়ের আবেদ জনালে বিচারক পুনরায় নির্দেশনা দেন যতদিন পর্যন্ত ন্যাহ্য পাওনা পরিশোধ হবে ততদিন পর্যন্ত নাজমুল স্ত্রী,সন্তান নিয়ে তার বাবার বাড়িতে থাকবে। এরই আলোকে গত শুক্রবার সন্ধায় ন্যাহ্য পাওনা পরিশোধ না করার লক্ষে পরিকল্পিতভাবে লোক ভাড়া করে ঘর থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করার জন্য আমি এবং আমার স্বামীসহ মেয়ের উপর নির্মমভাবে হামলা চালায়।আমি উক্ত ঘটনার তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনের সংস্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে বিচারের জোর দাবী জানাচ্ছি।
শুক্রবার রাতে পারিবারিক কলহের জের ধরে নাজমুলের ছোট ২ ভাই সাইফুল ইসলাম, তারেকুল ইসলামসহ তাদের ৪/৫ জন বন্ধু মিলে নিজ বাড়িতে এই হামলা চালায়। বন্ধুদের মধ্যে মগবাজার ৬ নং ওয়ার্ডের সালাউদ্দিন ছিলেন বলে জানা গেছে।হামলার সময় প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে আহত নাজমুলকে উদ্ধার করে দ্রুত চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
আহত সাংবাদিক নাজমুল জানান, আমি হাসপাতাল থেকে রিলিজ হওয়ার পর থেকে ঘরে ঢুকতে পারছি না। হামলাকারীরা বাড়ির চারদিকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। এখন ঘরেও ঢুকতে না পেরে বাইরে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। এছাড়া নাজমুলের বড় মেয়েকে ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তাকে খাবারও দিচ্ছে না। এমনকি পাশের ভাড়াটিয়া এক কাপ চা দিতে গেলেও তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, এবিষয়ে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিব রহমানকে জানালে তিনি স্থানীয় কাউন্সিলর ও আত্নীয়স্বজনদের নিকট স্মরণাপন্ন হতে বলেন এবং তাকে বলে লাভ কি; একথা বলো ফোন কেটে দেন।
এদিকে, আহত সাংবাদিক নাজমুল সাঈদ সোহেলের এজাহার জমা দেওয়ার আগে উল্টো রহস্যজনকভাবে প্রতিপক্ষের একটি এজাহার গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে। অপরদিকে, এবিষয়ে কথা বলার জন্য দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি শাহজাহান চৌধুরী শাহীন বুধবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিব রহমানকে সরকারি নাম্বারে ফোন দেন। জানান, আমি ফোন করলে তিনি বিষয়টি হালকাভাবে নিয়ে বলেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ঝামেলায় আছি, এসব বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় আমার নাই বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।সোমবার রাতে সাংবাদিক নাজমুল এ সংক্রান্ত একটি লিখিত এজাহার নিয়ে থানা গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে বুধবার সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) মতিউল ইসলামের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছেন বলে জানান সাংবাদিক নাজমুল।