৮ বছর আগে বিক্রিত জমি জবর দখলের চেষ্টা

received_235030654312738.jpeg

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার
কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডিতে ৮ বছর আগে বিক্রিত জমি জবর দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সৃজন করা হয়েছে ভুয়া দানপত্র দলিল।
অভিযোগ উঠেছে -চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দখলবাজ ও নারীদের জমি দখলে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা কয়েকদফা দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। এ যেন হক টাকায় জমি কিনে বিপদে পড়া! দখলবাজ ও জালিয়াতচক্রের কাছে অনেকটা অসহায় ক্রেতা মেজবাহ উদ্দিন। তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সঠিক প্রতিকার চেয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডির ৩ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাড়ার মৃত আবদুল কাদেরের স্ত্রী ছকিনা খাতুনের নিকট থেকে ২০১২ সালে ১০ শতাংশ কৃষি জমি ক্রয় করেন একই এলাকার মোঃ ইলিয়াছের ছেলে মেজবাহ উদ্দিন।
রেজিস্টার্ড বিক্রয় দলিলের তিন সাক্ষির মধ্যে প্রথম সাক্ষি বিক্রেতার বড় ছেলে আশকর আলি। আরেক সাক্ষি আশকর আলির মেয়ের জামাতা মোঃ রাসেল।
পরে বিক্রয় দলিলমূলে ক্রেতা মেজবাহ উদ্দিনের নামে খতিয়ান সৃজন হয়। যার নং-৪২৪৯। তখন থেকেই ক্রেতার দখলে রয়েছে জমি।
ক্রেতা মেজবাহ উদ্দিনের অভিযোগ, তার কেনা জমিতে স্ট্যাম্পমূলে দানপত্র দেখিয়ে জেলা জজ আদালতে মামলা করেন বিক্রেতা ছকিনা খাতুনের নাতি মোঃ ফয়সাল। যার নং-এমআর ২৩৩/১৬। মামলাটির সরকারিভাবে তথ্য অনুসন্ধান শেষ। এখন ইস্যু গঠনের জন্য রয়েছে।
ইতোমধ্যে যে স্ট্যাম্পমূলে (যার নং-ছ-৪২৮৯৬২৩, ছ-৪২৮৯৬২২, ছ-৪২৪৯৬২৪) দানপত্র দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে, ভেন্ডারে অনুসন্ধান করলে ওই নাম্বারগুলোর তথ্য মেলেনি।
স্ট্যাম্পসমূহ কক্সবাজারের ট্রেজারি থেকে কোন ভেন্ডারদের নিকট সরবরাহ করা হয় নি বলে জেলা ট্রেজারি অফিসে অনুসন্ধানি প্রতিবেদনে জানানো হয়।
ঘঁষামাজা একটি স্ট্যাম্পে নাতি মোঃ ফয়সালকে দানপত্র দেখানো হয়েছে ২০০২ সালে। তখন ছকিনা খাতুনের চার সন্তানই জীবিত এবং ভূমিহীন।
নিজের সন্তানদের নিঃস্ব রেখে দানপত্র কতটুকু আইনসিদ্ধ? আদৌ দানপত্র করেছেন কিনা? পুরোটাই সন্দেহ। নিজের নাতিকে দানপত্র করে থাকলে ১০ বছর পরে ২০১২ সালে নিজের বড় ছেলে আশকর আলিকে সাক্ষি রেখে বিক্রি দলিল কেন করলেন ছকিনা? নাতি মোঃ ফয়সালের বয়স ৫ বছর থাকতে দানপত্রের বৈধতা কতটুকু? তাও ট্রেজারিতে অস্তিত্বহীন স্ট্যাম্পে কেন? -প্রশ্ন কিন্তু সবার।
খতিয়ানমূলে জমির মালিক মেজবাহ উদ্দিন জানান, অংশীদারদের জ্ঞাতসারে ৮ বছর আগে ছকিনা খাতুনের নিকট থেকে তিনি ১০ শতাংশ কৃষি জমি কিনেন। অনুকূলে খতিয়ানও সৃজন করেন। যার নং-৪২৪৯।
২০০২ সালের একটি ভুয়া স্ট্যাম্পে দানপত্র দেখিয়ে বিক্রিত জমি জবরদখল করতে চেষ্টা করা হচ্ছে। দখল প্রক্রিয়ায় সন্ত্রাসী প্রকৃতির নারী ব্যবহার করছে।