দুইদিনের ‘সমুদ্র যাত্রা’ শেষ করলো সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার

FB_IMG_1582824500988.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুইদিনের ‘সমুদ্র যাত্রা’ শেষ করেছে সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার। সাংবাদিকদের বাৎসরিক এই আনন্দ আয়োজনে সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘন্টা গভীর সমুদ্র ভ্রমণ করে কক্সবাজার ফিরে এসেছেন। সেই সাথে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের বুকে দুই দিবস ও এক রজনী কাটিয়েছেন তারা। তাদের এই আয়োজনের এবারের শিরোনাম ছিল ‘এবার সমুদ্র যাত্রা’।

গেলো সোমবার ও মঙ্গলবার (২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি) ছিল বর্ণাঢ্য এই আয়োজন। সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার এর ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ও সর্বাধিক অংশগ্রহণের ওই আয়োজনে সাংবাদিক, তাদের পরিবারের সদস্যরা ও অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। এই অংশগ্রহণ ছিল শতাধিক।

সোমবার সকাল ৮টার পর কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে অত্যাধুনিক প্রমোদতরী ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেসে’ যাত্রা শুরু হয় ‘এবার সমুদ্র যাত্রা’র। কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলকারি এই জাহাজটি সমুদ্র উপকূল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের গভীর সমুদ্র পথে দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৫ ঘন্টায় সাংবাদিক ও অন্য যাত্রীদের সেন্টমার্টিন উপকূলে নিয়ে যায়। পরদিন মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় ফিরতি পথে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে অন্ধকার রাতে গভীর সমুদ্র পাড়ি দিয়ে সেই জাহাজটিই আবার সাংবাদিকদের কক্সবাজার ফিরিয়ে নিয়ে আসে। রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের নাজিরারটেক মোহনায় পৌঁছায় এবং রাত পৌণে ১১টার দিকে ঘাটে ভিড়ে।

অতীতে সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার এর বাৎসরিক পিকনিক আয়োজন ছিল ৪০-৫০ কিংবা ৬০ জনের বহর। এবার সেই অংশগ্রহণ ছিল একশতেরও উপরে। এই আয়োজনের আরেকটি সফলতা ছিল অতীতে যে সকল সিনিয়র সাংবাদিকরা কখনোই সাংবাদিক ইউনিয়নের পিকনিকে অংশগ্রহণ করেননি তাঁদেরও ছিল এবারের আয়োজনে সরল অংশগ্রহণ।

সিনিয়র সাংবাদিক ও অতিথিদের মধ্যে ছিলেন কক্সবাজার প্রেস ক্লাব সভাপতি মাহবুবর রহমান, ইউনিয়নের সদ্য সাবেক সভাপতি মুহম্মদ নূরুল ইসলাম, বর্তমান সভাপতি মমতাজ উদ্দিন বাহারী, সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রশীদ, এনটিভির ইকরাম চৌধুরী টিপু, বাংলাদেশ অনলাইন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আকতার চৌধুরী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আনছার হোসেন, দৈনিক সাগর দেশ সম্পাদক মোস্তফা সরওয়ার, টিভি সাংবাদিক এসএম জাফর, বনিক বার্তা প্রতিনিধি ও পরিবেশ নেতা ইব্রাহিম খলিল মামুন প্রমূখ।

এবারের আয়োজনে তরুণ সাংবাদিকদের মধ্যে যাদের সরব উপস্থিতি ছিল তারা হলেন এমআর মাহবুব, ছফওয়ানুল করিম, আবদুল মতিন চৌধুরী, সারওয়ার সাঈদ, হুমায়ুন সিকদার, ইমাম খাইর, মুহাম্মদ ছলিম উল্লাহ সুজন, আবদুর রহমান, ইসলাম মাহমুদ, সৈয়দ আলম, বেদারুল আলম, আতিকুর রহমান মানিক, মহিউদ্দিন মাহী, এইচএন আলম, নুরুল হক চকোরী, মো. মাহবুবুর রহমান, খোরশেদ আলম হেলালী প্রমূখ।

সেন্টমার্টিনের বুকে ৫টি আবাসিক হোটেলে ছিল সাংবাদিকদের জন্য থাকার আয়োজন। ছিল বর্ণাঢ্য র‌্যাফেল ড্র, যেখানে পুরস্কার হিসেবে বই, কম্পিউটার ও কসমেটিকস সামগ্রীর সমন্বয় ঘটানো হয়েছিল। এবারের আয়োজনে সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে বিষয়টি ছিল তা হলো সাংবাদিকদের জন্য সামগ্রী, যা জাহাজে উঠার আগপর্যন্ত সকল সাংবাদিকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ভাবে ‘গোপন’ রাখা হয়েছিল। তাহলে কী ছিল উপহার আয়োজনে? ছিল সাংবাদিকদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পোষাক ‘প্রেস’ ও ‘সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার’ লেখা বেষ্ট, সাংবাদিক ইউনিয়নের নাম এমব্রয়ডারি করা ক্যাপ, টি-শার্ট, নোট বুক, কলম আর ক্যালেন্ডার। আর সাংবাদিক পরিবারের জন্য আকর্ষণীয় দামের বেডশিট। ছিল তিনবেলা খাবার ও চারবেলা নাস্তার আয়োজন।

এবারের যাত্রায় আনন্দ আয়োজনও ছিল চমৎকার। সাংবাদিক মোস্তফা সরওয়ারের সমন্বয় ও এমআর মাহবুবের উপস্থাপনায় সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল মনে রাখার মতো। সেই আয়োজনের মধ্যমণি হয়ে উঠেছিলেন অধ্যাপক আকতার চৌধুরী ও মোস্তফা সরওয়ার আর সাংবাদিক এসএম জাফরের শিশু পুত্র ইসমাম কবির। এই ইসমাম কবির বয়সে শিশু হলেও তার কন্ঠ ছিল পরিণত ও অসাধারণ। তার গজল মুগ্ধ করেছে সকলকে। আর আকতার চৌধুরী ও মোস্তফা সরওয়ারের পরিবেশনা ছিল এক কথায় মনোমুগ্ধকর।

অনেকেই মনে করেন, ‘এবার সমুদ্র যাত্রা’ নামের এই আয়োজন ছিল অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে, যা আগামী দিনের কোন কমিটি এই রেকর্ড ভাঙতে পারবেন কিনা তা নিয়েও সন্দেহ পোষণ করছেন কেউ কেউ।

তবে এই আয়োজনে যাদের কথা না বললেই নয়, তাদের মধ্যে আছেন হাসানুর রশীদ, হুমায়ুন সিকদার, সারওয়ার সাঈদ, ইসলাম মাহমুদ, ইব্রাহিম খলিল মামুন, এমআর মাসুদ, আবদুর রহমান, ছৈয়দ আলম, বেদারুল আলম, এইচএন আলম আর মহিউদ্দিন মাহী। আলাদা ভাবে বলতে হবে সেই মানুষটির নাম, যিনি নিজের কথা পরিবারের কথা ভুলে এই পিকনিক আয়োজনের সব কাজকে নিজের করে নিয়েছিলেন, তিনি ইসলাম মাহমুদ। আয়োজনের মাঝে মাঝে ইউনিয়নের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন বাহারী ও সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীর সহযোগিতা মিলেছে।

বৃহৎ এই আয়োজনে সবধরণের ক্রুটি-বিচ্যুতির দায় সাধারণ সম্পাদক আনছার হোসেন নিজের কাঁধে তুলে ধরেছেন। তিনি সকলের ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি প্রত্যাশা করেছেন।