১৪ দিন ধরে থানা হাজতে টমটম চালককে আটকে রাখার অভিযোগ

received_793838354442241.jpeg

বার্তা পরিবেশকঃ
টেকনাফের নোয়াখালীয়া পাড়ার বাসিন্দা মোঃ আইয়ুব, সাধারণ একজন টমটম চালক। কোন অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নেই। কোন থানা বা আদালতে মামলার কথাও জানা নেই পরিবারের। তিনি ৪ কন্যা সন্তানের জনক এবং ওই এলাকার মো: ইসলামের ছেলে।
স্ত্রী মরিয়ম সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারী নিজ বাড়ি থেকে একদল পুলিশ স্বামী মোঃ আইয়ুবকে তুলে নিয়ে যায়। ১৪ দিন পার হলেও হদিস মেলে নি। তাকে নিয়ে সন্তান-স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। যে কোন মূল্যে নিরপরাধ স্বামীকে ফেরত চায় স্ত্রী মরিয়ম।
স্থানীয়রা বাসিন্দারা জানিয়েছে, মোঃ আইয়ুব পেশায় একজন টমটম চালক। খুব সাদাসিধে লোক। অপরাধ করতে দেখে নি কেউ। দৈনিক টমটম চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে মামলা তো দূরের কথা কোন অভিযোগও নেই। তবু সাধারণ একজন টমটম চালককে পুলিশ কেন আটক করেছে? তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন।
এদিকে, থানার ওসির নাম ভাঙিয়ে ভিকটিমের পরিবারের নিকট থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবীর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সাথে থানার একজন পুলিশ উপপরিদর্শ (এসআই) এর নামও বলছে ভুক্তভোগির স্বজননেরা।
দাবীকৃত টাকা না দিলে যে কোন মুহুর্তে তাকে ক্রসফায়ার দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ তুলেছেন স্ত্রী মরিয়ম।
তিনি বলছেন, পুলিশের এই সব কথা কারো কাছে প্রকাশ করলে পরিবারের সদস্যদের মাদক, মানবপাচার ও অজ্ঞাত মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে।
কোন মামলার আসামীকে আইন অনুযায়ী আটকের ২৪ ঘন্টার মধ্যে এখতিয়ারাধীন আদালতে উপস্থিত করতে হবে। কিন্তু আটকের ১৪ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত আইয়ুবকে আদালত কিংবা কারাগারে প্রেরণ করা হয় নি।
এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ‘ক্রসফায়ারের’ ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতে আইয়ুবকে টেকনাফ থানা হাজতে আটকে রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের মাদক বিরোধী অভিযানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। যার কারণে মূল অপরাধীরা পার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদিপ কুমার দাসকে রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) দিবাগত রাত ১০.২৯ টায় সরকারী নাম্বারে (০১৭১৩…৩৬৬) ফোন করলে পাওয়া যায় নি।