রেলের রাস্তায় বিলীন হলো পায়ে হাঁটার রাস্তা, পথচারীদের দুর্ভোগ

received_1607350532774763.jpeg

শাহীন মাহমুদ রাসেল:

নব নির্মিত রেল লাইনের রাস্তা নির্মাণে অধিগ্রহণকৃত জমির কোনো কোনো অংশ পূর্বে চলাচলের রাস্তার উপর পড়েছে। যার দরুন বিপাকে পড়েছে কক্সবাজার সদরের তিনটি ইউনিয়নের জনসাধারণ। তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পিএমখালী, ঝিলংজা ও খুরুশকুল উল্লেখযোগ্য। এই তিন ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ নিয়মিতভাবে এই চলাচলের জন্য শতবর্ষী পুরোনো এই রাস্তাটি ব্যবহার করেন।

কিন্তু সেখানে নব নির্মিত রেল লাইনের রাস্তা নির্মানের কাজ শুরু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বিলীন হয়ে গিয়েছে পূর্বেকার পায়ে হেঁটে গমন করার পুরোনো রাস্তাটি। যার ফলে চলাচলের রাস্তা হারিয়ে জনজীবনে চরম জনদুর্ভোগ নেমে এসেছে। ইতিপূর্বে এবিষয়ে ভুক্তভোগী জনসাধারণের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সাংসদসহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। কিন্তু এর কোনো আশানুরূপ ফলাফল দেখছেন না বলে জানান স্থানীয়রা ।

সরেজমিন, উক্ত রাস্তা দিয়ে কক্সবাজার সরকারি কলেজ গেইট হতে জানারঘোনা, দক্ষিণ চাঁন্দের পাড়া, উত্তর চাঁন্দের পাড়া, ঘাটকুলিয়া পাড়া, ছনখোলা, ও বড়ুয়া পাড়াসহ হাজার হাজার মানুষের এই পথে চলাচল রয়েছে। রাস্তা দিয়ে উল্লেখিত গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার কর্মজীবি, কলেজ, স্কুল, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া শত শত শিক্ষার্থীসহ রোগী যাতায়াত করতে বাধ্য থাকেন। কিন্তু রেল লাইনের কারণে উক্ত রাস্তা বিলীন হয়ে যাওয়ায় মানুষগুলো বিপাকে পড়েছে। দিনে দিনে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

ঝিলংজা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজলুল করিম জানান, উক্ত রাস্তা দীর্ঘদিনের পুরোনো চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। এর বিকল্প কোনো সড়কও নেই। এই রাস্তা দিয়ে যাবতীয় কাজকর্ম সারতে হয় স্থানীয়দের। যদিও অস্থায়ীভাবে একটি বিকল্প রাস্তা বর্তমানে দেওয়া হয়েছে কিন্তু তা চলাচলের উপযোগী নয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, এই রাস্তা দিয়ে কক্সবাজার সরকারি কলেজ, পলিটেকনিক কলেজ, বিসিক শিল্প এলাকা, ইলিয়াস মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, যুব উন্নয়ন, বাংলাদেশ বেতার, কলেজিয়েট কেজি স্কুল, বীচ পাবলিক স্কুলসহ লিংকরোডস্থ কর্মব্যস্ত বড় বাজারে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয় হাজারও শিক্ষার্থীসহ অর্ধলক্ষাধিক লোকজনের।

এলাকাবাসীর অনুরোধ, পুরাতন রাস্তা বন্ধ না করে রেল লাইনের মাঝপথে ব্রীজের উপর দিয়ে গাড়ি চলাচল ও যাতায়াতের জন্য বিকল্প রাস্তা কিংবা ফ্লাইওভার নির্মাণ করে দিয়ে জনসাধারণের জন্য একটি সু-ব্যবস্থা করা হয়। সুতরাং সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যাক্তিরা যেনো বিষয়টি আমলে নিয়ে তার বিহীত আদেশ দেন সেই কামনা করেছেন তারা।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ দাবি আদায় নাহলে আন্দোলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দেন তারা। অন্যথায় প্রদত্ত গণতান্ত্রিক নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সরকারকেই দায়ী থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীরা।