আপডেটঃ
নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই সহিংসতায় নিহত ১গায়েবি মামলা, আটক ও রিমান্ড ফৌজদারি ও মানবতাবিরোধী অপরাধআজ পুলিশের দুই এসআই হত্যা মামলার রায়ছেড়া দ্বীপে নীল-সবুজের হাতছানিপরপুরুষের সঙ্গে দীপিকার ‘ঘনিষ্ঠ’ ভিডিও ভাইরাল!ভেনিজুয়েলায় পৌঁছাল রাশিয়ার ২ পরমাণু বোমারু বিমানআজ ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসরামু উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলামহিলাদের অধিকার আদায় ও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ধানের শীষে ভোট দিন : শিরিন রহমাননৌকায় ভোট দিলে গরীবের অধিকার নিশ্চিত হবে-এমপি বদিগিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ ৫০০ বিএনপি নেতাকর্মীর জামিনটাইগারদের হারিয়ে সিরিজ সমতায় উইন্ডিজকর্ণফুলীর ব্রিজঘাটে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ পথসভায়- ‘এই নৌকা আপনাদের কর্ণফুলী উপজেলা উপহার দিয়েছে’ফখরুলের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা, আহত ১০নির্বাচনী উত্তাপ যেন উত্তপ্ত না হয়: সিইসি

পাকিস্তান বলেই এভাবে হারা সম্ভব!

Pak-2.jpg

ওয়ান নিউজ ক্রীড়া ডেক্সঃ আজ শুক্রবার সকালেও আবুধাবির তৃতীয় টেস্টে এগিয়ে ছিল পাকিস্তান। কিন্তু দিন শেষে তাদের নামেই লেখা হয়ে গেল হার। একটু ভুলই হলো। দিন শেষে নয়। পাকিস্তান হার মেনেছে দিন শেষ হওয়ার ২২ ওভার আগেই! চতুর্থ দিনেও হার শঙ্কায় ভোগা নিউজিল্যান্ড ম্যাচটা জিতে নিয়েছে ১২৩ রানে। কল্পনাকেও হার মানানো এই জয়ে কিউইরা গড়ল অন্য একটা কীর্তিও। দীর্ঘ ৪৯ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘অ্যাওয়ে টেস্ট সিরিজ’ জিতল তারা। ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজটা নিউজিল্যান্ড জিতল ২-১ ব্যবধানে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে কিউইরা সর্বশেষ অ্যাওয়ে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল সেই ১৯৬৯ সালে। এরপর থেকেই কেবলই অপেক্ষার পালা। অবশেষে সেই অপেক্ষাটা শেষ হলো নাটকীয় পথে। প্রথম ইনিংসে ৭৪ রানে পিছিয়ে থাকা নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৭ উইকেটে ৩৫৩ রান করে। মানে চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের জন্য লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ২৮০ রান।

আজ সকালে যখন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ইনিংস ঘোষণা করেন, দিনের খেলা তখন ৭৮ ওভার বাকি। মানে জয় না হোক, ৭৮ ওভার কাটিয়ে দিতে পারলেই টেস্টটা ড্র করতে পারত পাকিস্তান। সেক্ষেত্রে বেঁচে যেত সিরিজটাও। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা উইকেটে টিকতে পারলেন মাত্র ৫৬.১ ওভার! তাতে মাত্র ১৫৬ রান সংগ্রহ করে হার মানল ১২৩ রানে।

এক পর্যায়ে ৫৫ রানেই হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট। পাকিস্তানের পরাজয় মূলত নিশ্চিত হয়ে যায় তখনই। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার মিছিলের পর শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের সাধ্য কি টেস্ট বাঁচিয়ে দেওয়ার! বিলাল আসিফ, ইয়াসির শাহ, হাসান আলি, শাহীন শাহ আফ্রিদিরা তা পারেনওনি। উল্টো টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারাও প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছেন দ্রুত। মাঝে বাবর আজম ও অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ একটু লড়াকু চেতনা না দেখালে পাকিস্তানের নামে হারটা আরও দ্রুতই লেখা হতো।

একটু আগে হোক বা পরে, চেষ্টা করলেও বাবর আজম, সরফরাজ দলের হার ঠেকাতে পারেননি। ফলে তাদের ৪৩ রানের জুটির ওই চেষ্টাটুকু বিফলেই গেছে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেছেন বাবর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ রান করেছেন সরফরাজ। এছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন আর মাত্র দুজন। ওপেনার ইমাম-উল-হক ২২ ও বিলাল আসিফ করেছেন ১২ রান। বাকি সবাই মেরেছেন টেলিফোন ডিজিট।

২৮০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৫৬.১ ওভারে মাত্র ১৫৬ রানে অলআউট। শেষ ইনিংস বলবে নিউজিল্যান্ডের জয়ের নায়ক বোলাররা। তারা নায়কও। টিম সাউদি, অ্যাজাজ প্যাটেল, উইলিয়াম সমারভিলরা দুর্দান্ত বোলিং করেছেন বলেই কিউইরা জয় পতাকা উড়াতে পেরেছে। পাকিস্তানকে দ্রুত ধসিয়ে দিতে এই তিনজনেই নিয়েছেন সমান ৩টি করে উইকেট।

কিন্তু এই সত্যের মধ্যে বড় সত্য হলো, নিউজিল্যান্ডের জয়ের আসল নায়ক দুই ব্যাটসম্যান। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামন ও হেনরি নিকোলস। প্রথম ইনিংসের ৭৪ রানের ঋণ কাঁধে নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৬০ রানেই হারিয়ে ফেলে ৪ উইকেট। তখনও ১৪ রানে পিছিয়ে তারা। হাতে ছিল মাত্র ৬টি উইকেট। পাকিস্তানের জয় আর কিউইদের পরাজয়টাকেই তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচের নিয়তি।

কিন্তু দৃশ্যমান সেই নিয়তি পাল্টে দেন উইলিয়ামস ও নিকোলস মিলে। দুজনে মিলে পঞ্চম উইকেটে গড়েন ২১২ রানের জুটি। বড় এই দুটির পরও আজ সকালে আবার শঙ্কায় পড়ে যায় কিউইরা। কারণ দিনের শুরুতেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান আগের দিনই সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া উইলিয়ামসন। আগের দিন করা ১৩৯ রানেই আউট হন তিনি। এরপর টেস্ট বাঁচানোর দায়িত্বটা বর্তায় নিকোলসের উপর। শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে সেই চেষ্টায় অবিশ্বাস্য সফল তিনি। শুধু টেস্ট বাঁচানোর লড়াইয়েই জয়ী নন, দ্রুত রান তুলে জয়ের স্বপ্নও আঁকিয়ে ফেলেন।

শেষ পর্যন্ত অস্পষ্ট সেই জয় স্বপ্নটাই ধরা দিয়েছে বাস্তব হয়ে। আগের দিন ৯০ রানে অপরাজিত থাকা নিকোলস আজ আরও ৩৬ রান যোগ করেছেন। ইনিংস ঘোষণার সময় তিনি অপরাজিত ছিলেন ১২৬ রানে।

তবে তিনি নন, ম্যাচ সেরার পুরস্কারটা পেয়েছেন অধিনায়ক উইলিয়ামসন। প্রথম ইনিংসেও যিনি খেলেছিলেন ৮৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। সিরিজ সেরার পুরস্কারটি উঠেছে পরাজিত পাকিস্তানের বোলার ইয়াসির শাহ’র পকেটে। কিন্তু ওই পুরস্কারের সাধ্য কি ম্যাচ ও সিরিজ হারের কষ্টে সান্ত্বনার প্রলেপ দেয়!

Top