আপডেটঃ
নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই সহিংসতায় নিহত ১গায়েবি মামলা, আটক ও রিমান্ড ফৌজদারি ও মানবতাবিরোধী অপরাধআজ পুলিশের দুই এসআই হত্যা মামলার রায়ছেড়া দ্বীপে নীল-সবুজের হাতছানিপরপুরুষের সঙ্গে দীপিকার ‘ঘনিষ্ঠ’ ভিডিও ভাইরাল!ভেনিজুয়েলায় পৌঁছাল রাশিয়ার ২ পরমাণু বোমারু বিমানআজ ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসরামু উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলামহিলাদের অধিকার আদায় ও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ধানের শীষে ভোট দিন : শিরিন রহমাননৌকায় ভোট দিলে গরীবের অধিকার নিশ্চিত হবে-এমপি বদিগিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ ৫০০ বিএনপি নেতাকর্মীর জামিনটাইগারদের হারিয়ে সিরিজ সমতায় উইন্ডিজকর্ণফুলীর ব্রিজঘাটে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ পথসভায়- ‘এই নৌকা আপনাদের কর্ণফুলী উপজেলা উপহার দিয়েছে’ফখরুলের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা, আহত ১০নির্বাচনী উত্তাপ যেন উত্তপ্ত না হয়: সিইসি

দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া

Shalbon.jpg

শালবন বিহার। ছবি সংগৃহীত

ওয়ান নিউজ ডেক্স: ঢাকার আশপাশে দর্শনীয় অনেক স্থান আছে। চাইলে এবারের শীত মৌসুমে পরিবারের সবাইকে নিয়ে কিংবা বন্ধুসহ ঘুরে আসতে পারেন এসব দর্শনীয় স্থান থেকে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক

গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। ৩ হাজার ৬৯০ একর আয়তনের এ পার্কে আছে- বাঘ, সিংহ, হাতি, ভাল্লুক, হরিণ, কুমির, বানর, খরগোশ, জিরাফ, অজগর সাপ, নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী। এ পার্কের বাঘ রেস্তোরাঁয় বসে খুব কাছ থেকে দেখা যাবে বাঘের বিচরণ। রেস্তোরাঁর চারপাশটা সাদা কাচের দেয়ালে ঘেরা। বাঘের রেস্তোরাঁর মতো সিংহ রেস্তোরাঁও আছে। এটিও মূলত সিংহ পর্যবেক্ষণ রেস্তোরাঁ।

এ পার্কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় হল বিশেষ গাড়িতে বনের ভেতর বেড়ানো। এ গাড়িতে করে বেড়ানোর সময় খুব কাছ থেকেই দেখা যাবে বাঘ, সিংহ, হরিণ বা অন্য প্রাণীর বিচরণ। আরও আছে কুমিরের প্রজনন কেন্দ্র, হাঁসের লেক, বিভিন্ন পাখিশালা, প্রজাপতির পার্কসহ নানা বন্যপ্রাণী।

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন। একসময় এ এলাকার নাম ছিল সুবর্ণ গ্রাম। ফাউন্ডেশনের ভেতরে দুটি জাদুঘর আছে। এর একটির নাম লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর, অন্যটি শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর।

গ্যালারিতে দেখা যাবে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নিপুণ কাঠখোদাই শিল্প, আবহমান বাংলার গ্রামীণ জীবনচিত্র, বাংলার পটচিত্র ও মুখোশ শিল্প, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নৌকার মডেল, বাংলাদেশের উপজাতীয়দের জীবনচিত্র, লোকজ বাদ্যযন্ত্র ও পোড়ামাটির নিদর্শন, তামা, কাঁসা ও পিতলের তৈজসপত্র, লোকজ অলঙ্কার, বাঁশ, বেত ও শীতল পাটির নিদর্শন এবং আদি আমলের মুদ্রা, গহনা ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন নিদর্শন।

পানাম নগর

লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন দেখা হলে যেতে পারেন হাজার বছরের পুরনো শহর পানাম নগরীতে। লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে এ নগরী। এ নগরের প্রতিটি ভবনই নান্দনিক কারুকাজে তৈরি। দেখে আসতে পারেন গোয়ালদি মসজিদ, শায়খ শরফুদ্দীন তাওয়ামার সমাধি, গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি, পাঁচ পীরের সমাধি।

বিক্রমপুর জাদুঘর

সবুজ গাছগাছালিতে ঢাকা চারপাশ। তার মাঝে বিশাল পুকুর। শানবাঁধানো ঘাটও আছে। আরও আছে সাম্পান নৌকা। পুকুর পাড়ে অনেক পুরনো বাড়ি। আর এ পুকুর পাড়েই পুরনো বাড়িগুলোর পাশে গড়ে তোলা হয়েছে বিক্রমপুর জাদুঘর। এছাড়া পুকুরে যে সাম্পান নৌকা ভাসান- এটা নৌকা জাদুঘরের প্রতীকী। আর এ জাদুঘরগুলো মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার উত্তর বালাসুর গ্রামে অবস্থিত।

তিনতলা ভবনের এ জাদুঘরে প্রবেশ করলেই দু’পাশে দেখা যাবে দুটি বড় মাটির পাতিল। নিচতলার বাম পাশের গ্যালারিটি যদুনাথ রায়ের নামে। এ গ্যালারিতে বিক্রমপুরের প্রাচীন মানচিত্র, রাঘুরামপুর, নাটেশ্বরসহ বিক্রমপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া পোড়া মাটির নল, মাটিরপাত্র, পোড়া মাটির খেলনাসহ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভিন্ন নিদর্শন রয়েছে।

নিচতলার ডান পাশের গ্যালারিটি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর নামে। দ্বিতীয় তলার বাম পাশের মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারিতে দেখা যাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ছবি, ইতিহাস, দলিল, বই ও বিভিন্ন নমুনা। আর ডান পাশের গ্যালারিতে রয়েছে বিক্রমপুরে জন্ম নেয়া মনীষীদের জীবন ও কর্মের বৃত্তান্ত।

আরও আছে কাগজ আবিষ্কারের আগে প্রাচীন আমলে যে ভূর্জ গাছের বাকলে লেখা হতো সেই ভূর্জ গাছের বাকল, তালপাতায় লেখা পুঁথি, কাঠের সিন্দুক, পাকিস্তান আমলের মুদ্রা, তাঁতের চরকা, পোড়া মাটির মূর্তি, সিরামিকের থালাসহ প্রাচীন আমলে স্থানীয় মানুষদের ব্যবহার্য বিভিন্ন নিদর্শন।

শালবন বিহার

ঢাকা থেকে প্রায় ৯৬ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লায় অবস্থিত শালবন বিহার। বর্গাকার এ বৌদ্ধ বিহারের ৪টি বাহুতে সর্বমোট ১১৫টি ভিক্ষু কক্ষ ছাড়াও বিহারাঙ্গনে রয়েছে ক্রুশাকার কেন্দ্রীয় মন্দির। মন্দিরের দেয়াল পোড়া মাটির ফলক চিত্র দ্বারা অলঙ্কৃত ছিল।

প্রত্নতাত্ত্বিক খননে এ প্রত্নকেন্দ্রে ৬টি নির্মাণ যুগের সন্ধান পাওয়া যায় এবং প্রথম নির্মাণ যুগ ষষ্ঠ শতক এবং শেষ নির্মাণ যুগ ১২শ শতক বলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা মনে করেন। শালবান বিহারের আশপাশে আরও আছে রূপবান মুড়া, ইটাখোলা মুড়া, ভোজ রাজার বাড়ি, আনন্দ বিহার, কোটিলা মুড়া, চারপত্র মুড়া, রাণী ময়নামতির প্রাসাদ ও মন্দির।

ময়নামতি জাদুঘর

পুরাবস্তু সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য ১৯৬৫ সালে কুমিল্লা কোটবাড়ির শালবন বিহারের দক্ষিণ পাশে শালবনকে সামনে রেখে পশ্চিমমুখী করে স্থাপন করা হয় ময়নামতি জাদুঘর। পুরো জাদুঘর ভবনে মোট ৪২টি অধ্যায় আছে। যাতে পুরাবস্তুগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে।

এখানে প্রদর্শিত নমুনার মধ্যে আছে ধ্বংসাবশেষের ভূমি-নকশা, ধাতুলিপি ফলক, প্রাচীন মুদ্রা, মৃন্ময় মুদ্রক-মুদ্রিকা, পোড়া মাটির ফলক, ব্রোঞ্জ মূর্তি, পাথরের মূর্তি, লোহার পেরেক, পাথরের গুটিকা, অলঙ্কারের অংশ এবং ঘরে ব্যবহৃত মাটির হাঁড়ি-পাতিলসহ ইত্যাদি।

জাদুঘরে আছে ব্রোঞ্জের তৈরি বিশালাকায় একটি ঘণ্টা। যার ওজন ৫০০ কেজি। আরও আছে ময়নামতিতে পাওয়া স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, পোড়া মাটির ফলক, ব্রোঞ্জ ও তামার তৈরি সামগ্রী, লোহার তৈরি সামগ্রী, মাটির তৈরি বিভিন্ন প্রকারের খেলনা, কাঠের কাজের নিদর্শন, তুলোট কাগজে লেখা প্রাচীন হস্তলিপির পাণ্ডুলিপি, বিভিন্ন নমুনার মৃৎপাত্রসহ নানা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

Top