আপডেটঃ
কমলকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী করতে দলে দলে দেশে ফিরছে সদর ও রামু উপজেলার প্রবাসীরানির্বাচনের আগে ওয়াজ মাহফিলের অনুমতি না দেয়ার নির্দেশখেতাবপ্রাপ্ত ১০১ মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মানী দিলেন প্রধানমন্ত্রীসংসদ নির্বাচন: ‘ক্লিন ইমেজের ক্যান্ডিডেট’ বলতে কী বোঝেন প্রার্থীরা?এক নজরে বিশ্বের সেরা কয়েকটি ভ্রমণ গন্তব্যবিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শেষ দিনের সাক্ষাৎকার শুরুসশস্ত্র বাহিনী দিবস শিখা অনির্বাণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাটেকনাফে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২জিএম রহিমুল্লাহর প্রথম জানাযা সম্পন্ন, শোকাহত জনতার ঢলকক্সবাজারের জয়া চৌধুরী পোলিং এজেন্ট উপ কমিটির সদস্য মনোনীত।। বিভিন্ন মহলের অভিনন্দন।।যশোরে মা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রীসহ ৪১ জন ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশীবিএনপির অভিযোগ ঢালাও, নির্দিষ্ট প্রস্তাব পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থাজিএম রহিমুল্লাহর মৃত্যুতে লুৎফুর রহমান কাজলের শোকরফিকুল ইসলাম মিয়া গ্রেফতারশেষ চেষ্টা ৩০ ডিসেম্বর: ফখরুল

ধন নয়,ভাই-ই বড় সম্পদ

Moon-1.jpg

লেখক: মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম:

ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ বহু পুরাতন, সেই সৃষ্টির শুরু থেকেই। কখনো সম্পদ, কখনো রাজত্ব নিয়ে। একই মায়ের পেটে থেকে, একই পিতার ওরসে জন্ম নিয়ে হয়ে যায় পরস্পরের চরম শত্রু। ঘটে যায় অনাকাংখিত খুন-খারাবি, মারামারি, মামলা অথবা রক্তের বন্যা।

 

পরস্পরায় চলে যায় সেই রেষারেষি, প্রজন্মের সাথে প্রজন্মের, মুখ দেখা-দেখি বন্ধ। যেই ভাই বাল্যকালে ভাইয়ের চোখে অশ্রু দেখলে কান্নায় বুক ভাসাতো, কিংবা যার কারণে ভাই আঘাত পেয়েছে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ত সেই ভাই হয়ে উঠে ভাইয়ের রক্তপিপাসু।

কেন?? আগে মুরুব্বিদের মুখে শুনেছি-“ভাই ভাই বড় ধন, রক্তের বাঁধন যদিও বা পর হয়, নারীর কারণ।’ কিন্তু এটি আমি খুব বেশি সত্য বলে মানিনা। আমার কাছে মনে হয়, “যদি হয় পর, লোভের কারণে।’

সম্পদ, টাকা নিয়েই ম‚লত দ্বন্ধ হয় ভাইয়ে ভাইয়ে। এখানে মানসিকতা মুখ্য। আর এই দ্বন্ধ হয় মুলত কেউ একজনের জন্য। যখন কেউ অন্য একজনকে কম দেয়, দিতে চায় কিংবা বঞ্চিত করে তাহলে সেখান থেকেই অসন্তোষ এর সুত্রপাত হয়। সেটা বাড়তে থাকে।

প্রায়ই দেখা যায়, এই ধরনের বিরোধের কারণ। আমাকে জায়গা ১০০ বর্গফুট কম দিয়েছে বা আমার রাস্তার জায়গা দিচ্ছেনা, বা আমাকে নিরস অংশে দিয়েছে বা দিতে চায় কিংবা শুধু সাইন নিয়ে চলে গেছে, পরে দেখা গেল জায়গা বিক্রি করে দিয়েছে। আহা, ভাই!! মায়ের পেটের ভাই!!

জায়গা কিংবা টাকা বেশি পাওয়ার জন্যই তো এত্ত কিছু, সম্পদের জন্যই তো এত্ত কিছু – নিজের ভাইকে কি সম্পদ মনে হয়না? ভাইকে ঠকানো এত্ত কি দরকার। যে জ্ঞান বুদ্ধি লিখা পড়া সব খাটিয়ে ভাই ঠকাতে হবে!! কে জিতবে তাতে আসলে?

ভাইকে গরীব করে আপনি বড় লোক হয়ে সুখে থাকতে চাচ্ছেন, নিজের ছেলে মেয়ে নিয়ে? সেই সুখের বানে উত্তপ্ত হয়ে যাবে সংসার, যার উত্তাপ আপনার সন্তানদেরও একই ভাবে পরস্পরকে ঠকাতে তৈরি করবে। তা পরপারে নয় বরং জগতে ঘটছে অহরহ। একটা জিনিস বুঝে আসেনা, যে ভাই আর আপনার দেহে একই রক্ত, সেই ভাইকে কেন কষ্ট দিতে চান?

যার চোখের জল একসময় নিজ হাতে মুছে দিতেন! আজ সেই ভাইয়ের রক্ত ঝঁরাতে চান শুধুই সম্পদের জন্য। জগত বড়ই বিচিত্র আর নিষ্ঠুর!!

ইসলামের প্রথম যুগে দুই ভাইয়ের গল্পটা মনে আছে? দুই ভাইয়ের এক ভাইয়ের সন্তান-সন্ততি ছিল, আরেক ভাই নিঃসন্তান। দুইজনেই একই পরিমান জমিতে একই ফসল ফলাতো। তো ফসল কাটা হল, ঘরেও আনা হল। কিন্তু একভাই ভাবছে, আমার তো ছেলে মেয়ে আছে, ভাইয়ের তো কিছুই নেই, বুড়ো বয়সে টাকার, সেবার দরকার হবে। যাই ওকে ফসল গুলো দিয়ে আসি।

অপর ভাই ভাবলো আমি একা মানুষ, ফসল দিয়ে আমি কি করব, যাই ফসল গুলো ভাইকে দিয়ে আসি। যেমন ভাবা, তেমন কাজ। সকালে উঠে দুইজনেই অবাক! তাদের ঘরে একই পরিমাণ ফসল রয়ে গেছে। তারা বুঝে গেল কি ঘটেছে।

এক চিলতে হাসি ছড়িয়ে পড়ল দুজনের মুখে। বিনিময় হলো ভালোবাসার- শস্য সবার রহিলো সমান, এ দান মহিমাময়। আমাদের এই যুগেও শস্য সমানই থাকতো, কিন্তু চিন্তা ভিন্ন হতো। দুইজনই ভাবতো ওর এত্ত দরকার নাই, নিয়ে আসি। পার্থক্য শুধু দিয়ে আসি বনাম নিয়ে আসিতে- খালি চিন্তায়।

আপনি যদি একটু ত্যাগ আপন ভাইয়ের জন্য করেন, দুনিয়া বদলে যাবে। লাউ দিয়ে ভাত খেলে মনে হবে মুরগির মাংস। এটাই সুখ। আর যদি মনে করেন সম্পদই আপনার বেশি দরকার, সেটি ও আপনি পাবেন। অন্যকে ঠকানোর চিন্তা করতে করতে আর ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি করতে করতে কখন যে সব হারাবেন বুঝবেন-ই না।

মান সম্মান, সময়, শান্তি, যৌবন, সম্পর্ক সব যাবে। পাবেন শুধু মাটির জায়গা তথা সম্পদ। তাই বলি, ত্যাগ যদি না করতেও পারেন, অন্যের ভাগ নিয়েন না। নিজের অংশ নিয়ে নিজে সুখে থাকেন, ভাইদের অংশ তাদের দিন।

মনে রাখবেন, সম্পর্ক খারাপ হয় কোন একজনের বাকিদের বা অপরজনকে বঞ্চিত করার অভিপ্রায় থেকে। আর এর জের বহন করতে হয় ২০/৩০/৪০ বছর কিংবা পরম্পরায়। কি বুঝে আসছে?

বিপদে আপদে, রোগে শোকে,আনন্দ বেদনায়, লাশের খাটিয়ায়, কিংবা মৃত্যুর পরেও ঠিকে থাকে সম্পর্ক, সম্পদ নয়। ভাই-ই তো ঝাঁপিয়ে পড়ে ভাইয়ের জন্য। সম্পদ কবরে যায়না, সম্পর্ক যায়। আপনার ভাই ই তো কবর পাড়ে দাঁড়িয়ে আপনার জন্য দোয়া করবে, আপনার জন্য হাউমাউ করে কাঁদবে। বলবে, আহারে ভাই, তুই কেন আমারে ছেড়ে আগে চলে গেলি?

আল্লাহ তোর আগে আমাকে নিলনা কেন?? হে আল্লাহ, এটা কেমন বিচার!! আপনার ভাই মনে মনে বলবে, আয় ভাই, আমার বুকে আয়, আর একবার জড়িয়ে ধরি। আপনি জীবনে প্রথমবার তাকে জড়িয়ে ধরবেন না। বলবেন, “তুই ওপারে থাক, অনন্তকাল। এপারে আসলে যে ফিরে যেতে পারবিনা।”

আপনার ভাই বলবে আমার এপার ওপার লাগবেনা, শুধু তোর বুকে একটু বুক মিলাতে চাই। আপনি মুখ ফিরিয়ে নিবেন। আপনার ভাই চোখে জল নিয়ে ফিরে যাবে, অনন্ত হাহাকার আর শুন্যতায়। আপনি দ‚র থেকে দেখবেন। নিঃম্ব কবরের অন্ধকারে সেই জল আর তার বুকের শুন্যতার অনুভব আপনার প্রশান্তিময় সঙ্গী হয়ে থাকবে।

প্রায়ই আপনার কবরের প্রশান্তিময় ঘুম ভেংগে যাবে আপনার ভাইয়ের গলার স্বরে, -“আল্লাহ আমার ভাইকে তুমি ভালো রেখো!! আপনার মুখ খিল খিল হাসিতে প্রশস্ত হবে। সেই শব্দ আপনার ভাইয়ের কানে পৌঁছাবে। সে চমকে এদিক ওদিক তাকাবে, আর খুঁজে বেড়াবে তার প্রিয় ভাইকে।

জন্ম জন্মান্তরে। নিরন্তর, আমৃত্যু। এটাই সুখ, এটাই জীবন। এটাই ভাই ভাইয়ের সম্পর্ক। ভাই বড় ধন, মায়ার বাধন, যদি যায় প্রাণ, যায়না ছেদন। কি চান? এ রকম ভাই, নাকি নিষ্প্রাণ সম্পদ??

লেখক: সিনিয়র পুলিশ কমিশনার
মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ
সিএমপি চট্টগ্রাম।

Top