আপডেটঃ
চট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় মেয়েরা এগিয়েচট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসির পাসের হার ৬২ দশমিক ৭৩ শতাংশকর্ণফুলী আওয়ামীলীগ,সাংগঠনিক দুর্বলতায় ভোগছেযে দানে চরম শত্রু থেকে বন্ধু হলেন প্রিয়নবিআসছে শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ!ঈদে সাত পর্বের নাটকে ঊর্মিলাবাংলাদেশের যে কোনো সংকটে পাশে থাকবে ভারতহৃদয় জেতা ক্রোয়েশিয়া আজ ট্রফিও জিতুক!কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বহুতল অফিস ভবনের নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধনচট্টগ্রাম পানির ট্যাংক থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধারআওয়ামীলীগের প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত, ৮৫টি সংসদীয় আসনে আসছে নতুন মুখবহিষ্কৃত এএসআই ইয়াবা সহ ডিবির হাতে গ্রেফতার:চট্টগ্রাম শাহ আমানত মার্কেটে আগুনক্ষমতা চিরস্থায়ী করার পাঁয়তারা করছে সরকার: ফখরুলভিসির বাসভবনে হামলাকারীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সঙ্কটে কক্সবাজারের সাংবাদিক

1news.jpg

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।
রোহিঙ্গা সঙ্কটকে পুরোবিশ্বের সামনে তুলে ধরতে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন কক্সবাজারের কিছু সংবাদকর্মী। সাংবাদিকদের রিপোর্টিংয়ের কারণে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ সৃষ্টি হয়েছে মিয়ানমারের ওপর। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের কারণে রোহিঙ্গা সঙ্কট বিষয়ে অবগত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। তবে অবহেলিত কক্সবাজারের এসব সাংবাদিক।
জানা যায়, গত বছরের ২৬ আগস্ট থেকে কক্সবাজার জেলায় কর্মরত কিছু সংখ্যক ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মী রোহিঙ্গা বিষয়ে এ পর্যন্তও রিপোর্টিংয়ের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা সরকার ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে নিয়মিত পাচ্ছে বিভিন্ন সুযোগসুবিধা। রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় ব্যক্তিরাও পেয়েছে সরকার ও একাধিক এনজিওর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন সহযোগিতা। তবে যাদের কারণে রোহিঙ্গা সঙ্কট পুরো বিশ্বে জেনেছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা বন্ধে এবং তাদের ওপর চাপ সৃষ্টিকল্পে সোচ্চার হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মহল। যাদের সচিত্র প্রতিবেদনে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অসহায় জাতিগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছে বহু দাতা সংস্থা। অনুপ্রবেশকারী নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে একাধিক রাষ্ট্র। সরেজমিনে পরিদর্শন করে গেছেন বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, ফাস্টলেডি ও মন্ত্রিবর্গ। কিন্তু রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে যাদের টানা চার মাস ধরে চোখে ঘুম ছিল না, গত বছরের ২৬ আগস্ট থেকে ঠিকমতো খাওয়া, ঘুম, গোসল এমনকি পরিবারের খোঁজখবরও নিতে পারেননি তারা। বর্তমানে ওসব সাংবাদিক অবহেলিত। কক্সবাজারের গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন মহলের কাছে এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
সচেতন মহল বলেন, মিয়ানমারের ওপর যে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা রোহিঙ্গা ইস্যুটি নিয়ে একাধিক দিক থেকে রিপোর্টিংয়ের কারণে হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণসহ গণমাধ্যমের কাজ সত্যি প্রশংসাজনক। শনিবার কক্সবাজার প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের বিশেষ সাধারণ সভায় রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে সরকার, স্থানীয় জনগণ ও পর্যটন শহরে কর্মরত সাংবাদিকদের প্রশংসা করে সাংবাদিক নেতা এ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমান বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বর্বর অত্যাচারে পালিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী লাখ লাখ রোহিঙ্গার দুঃখ দুর্দশা ও মানবিক কারণে তাদের স্থান দেয়ার বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা যে ভূমিকা রেখেছে, তা সত্যি প্রশংসনীয়। কক্সবাজারের সাংবাদিকগণ রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে টেলিভিশন ও পত্রিকার মাধ্যমে ধারাবাহিক সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে পুরো বিশ্বকে জানান দিয়েছে। তারা পেশাদারিত্বের খাতিরে একাধিক দিক থেকে রিপোর্টিংয়ের কাজে অলসতা দেখাননি মোটেও।
কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ সরোয়ার সোহেল বলেন, রোহিঙ্গা বিষয়ে সচিত্র প্রতিবেদন করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের কষ্টের বর্ণনা দিয়ে শেষ করা যাবে না। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকের মূল্যবান ক্যামেরা, ল্যাপটপ ইত্যাদি ভিজে গেছে লবণাক্ত পানিতে। রোহিঙ্গাদের করুণচিত্র ফুটেজ আনতে অনেকে সাঁতার কেটেছে নাফ নদীতে। ক্ষুধায় কাতর সংবাদকর্মীরা ওইসময় স্থানীয় হোটেল রেস্তরাঁয় খাবারও পায়নি। তারপরও পেশাদারিত্বের খাতিরে স্থানীয় কিছু সাংবাদিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনে সজাগ ছিল সর্বদা। রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে পাশে দাঁড়ানোর জন্য সাংবাদিকরা বহু দানবীর ব্যক্তিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। নিজেরাও যতটুকু সম্ভব ওইসময় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সেবায় দেড় শতাধিক এনজিও দায়িত্ব পালন করছে। এর মধ্যে কয়েকটি এনজিও অনুমোদনও লাভ করেনি। শুধুমাত্র এনজিও ব্যুরো বরাবর আবেদন করেছে তারা। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও এনজিও কর্মীরা ইতোপূর্বে রোহিঙ্গা স্রোতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করেছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জেলায় কর্মরত কিছু সাংবাদিক। কিন্তু তাদের তালিকা এ পর্যন্ত কেউ করতে দেখা যায়নি।

 

Top