আপডেটঃ
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বরখাস্ত করছেন ট্রাম্পঈদগাঁহতে আওয়ামীলীগের জনসভাঃ এমপি কমলের লাখ জনতার শোডাউনচট্টগ্রামে জলসা মার্কেটের ছাদে ২ কিশোরী ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬যশোরের বেনাপোলে সীমান্তে দুই নাইজেরিয়ান নাগরিক আটক“বিএনপি ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে গেছে”ঈদগাঁহর জনসভায় রামু থেকে এমপি কমলের নেতৃত্বে যোগ দেবে লক্ষাধিক জনতাসৈকতে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় উন্নয়ন মেলা কনসার্টকর্ণফুলীতে মা সমাবেশশেখ হাসিনার গুডবুক ও দলীয় হাই কমান্ডের তরুণ তালিকায় যারানজিব আমার রাজনৈতিক বাগানের প্রথম ফুটন্ত ফুল- মেয়র মুজিবুর রহমাননাইক্ষ্যংছ‌ড়ি‌তে ডাকাত আনোয়ার বলি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মুক্তগণমাধ্যমের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে’শহীদ জাফর মাল্টিডিসিপ্লিনারী একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনসরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনজাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

টাকা ছাড়া কোন কাজ হচ্ছে না যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে

jessore-1.jpg

ইয়ানূর রহমান : কর্মচারিরা টাকা ছাড়া কোন কাজ করেন না যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। ক্যাথেটার লাগাতে গেলে টাকা, খুলতে গেলে টাকা, টলি ঠেলতে গেলে টাকা, ড্রেসিং করতে গেলে টাকা, পিলাস্টার করতে গেলে টাকা, বিষ ওয়াশ করতেও রোগীর স্বজনদের কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

এমনকি টাকা ছাড়া মিলছে না শয্যা। এছাড়া বখশিস বাণিজ্যতো রয়েছেই। রোগী ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে ছাড়পত্র দেয়া পর্যন্ত বিভিন্ন অজুহাতে স্বজনদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে এখানে। হাসপাতালের নিজস্ব কর্মচারি ও বহিরাগতরা এই অর্থবাণিজ্যের সাথে জড়িত। তবে রোগী ও স্বজনদের জিম্মি করে প্রকাশ্যে টাকা হাতাচ্ছে কতিপয় অস্থায়ী কর্মি।

হাসপাতালের সাবেক এক তত্ত¡াবধায়ক ৪২ জন বহিরাগতকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে বাণিজ্য করার বৈধতা দিয়ে যান। তারা হাসপাতালের পরিচয়পত্রকে পুঁজি করে প্রতারণা করছেন। মানুষকে জিম্মি করে অর্থবাণিজ্য হল তাদের মূল টার্গেট। এসব স্পেশাল কর্মচারিদের দাপটের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন রীতিমতো অসহায়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, অস্ত্রোপচার কক্ষ, পুরুষ ও মহিলা সার্জারী ওয়ার্ড, পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড, পুরুষ ও মহিলা পেয়িং ওয়ার্ড, মডেল ওয়ার্ড, লেবার ওয়ার্ড, গাইনী ওয়ার্ড, সংক্রামক ওয়ার্ড এবং শিশু ওয়ার্ডে সরকারি কর্মচারিদের পাশাপাশি অস্থায়ীরাও দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সরকারিভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারিরা একটু কৌশলে আর অস্থায়ীরা প্রকাশ্যে রোগী ও রোগীর স্বজনদের বকশিস চেয়ে থাকেন। তারা টাকা ছাড়া কোন কাজ করেন না । দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ বাণিজ্য চলে আসছে।

বর্তমানে অর্থবাণিজ্য ওপেন সিক্রেট হয়ে গেছে। রোগীরা জানিয়েছেন, অস্থায়ী কর্মিদের কাছে কাজ পেতে গেলে সর্বনিন্ম দিতে হয় ২শ’ টাকা। বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজন আলতাফ হোসেন, রেজাউল ইসলাম, আবুল কাশেম, মহব্বত আলী, হোসনে আরা বেগম, পারভীনা খাতুন, রমজান আলী, নাজমুল ইসলাম, কাজী মোজাহিদুল ইসলাম, রিপন হোসেন, মিকাইল হোসেন, রেবেকা খাতুন, ইসমাইল হোসেনসহ অনেকেই জানিয়েছেন, দায়িত্বরত কর্মচারিকে কোন কাজের কথা বললেই তারা টাকার প্রশ্ন তোলেন।

অসহায় মুহুর্তে তারাও কর্মচারিদের টাকা দিতে বাঁধ্য হন। তা না করলে মারমুখি আচরণ করে। রোগীর স্বজন আতিয়ার রহমান জানান, প্রসূতি ওয়ার্ড ও লেবার ওয়ার্ডে বকখিসের নামে ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ছেলে সন্তান হলে ১ হাজার ও মেয়ে সন্তান হলে ৫শ। দাবি করা টাকা না দিলে রোগীর স্বজনদের সাথে খারাপ আচরণ করেন ওয়ার্ডবয় ও আয়া।
আতিয়ার রহমান জানান, তার কাছ থেকেও টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। মহিউদ্দিন মোহাম্মদ নামে একজন জানান, স¤প্রতি তার এক রোগীকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে রোগীর পিলাস্টার ও ক্ষতস্থান সেলাই করা বাবদ ৫শ টাকা নেন দায়িত্বরত কর্মচারি।

এই বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু আমাদেও প্রতিনিধিকে জানান, তিনি এখানে যোগদান করার পর রোগীর স্বজনদের জিম্মি করে অর্থবাণিজ্য না করতে সকল কর্মচারিকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এরপরেও যদি কেউ বাণিজ্যে লিপ্ত থাকে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো জানান, অস্থায়ী কর্মচারিরা অর্থবাণিজ্যের ধান্দা করলে তাদেরকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হবে।

Top