আপডেটঃ
গুগলের পরিষেবা ব্যবহারে বিভ্রাটব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ৬ মাসের জামিনসাহু সেজদার বিধান দেয়ার কারণ কী?ভোটের দিন ৩০ ডিসেম্বর (রোববার) সাধারণ ছুটিনির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন : সিইসিবিএনপি প্রার্থী কাজলের প্রচার কর্মী আজিজুল হককে অতর্কিতভাবে হামলানির্বাচনী ঘটনায় ভূট্টো ও মাবুদ চেয়ারম্যান সহ ৮০ জনকে আসামী করে দু’টি মামলাপার্থে জিতে ভারতের সাথে সিরিজ সমতায় অস্ট্রেলিয়ালাশ হলে নিরাপত্তা নিয়ে কী করব : কনকচাঁপাজামায়াতের ২৫ নেতার প্রার্থিতার রিট ৩ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশসিইসির সঙ্গে আইজিপি-ডিএমপি কমিশনারের বৈঠকপরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী নয়‘২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ’নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনে বিজিবি মোতায়েনবিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ১৭ অঙ্গীকার

টাকা ছাড়া কোন কাজ হচ্ছে না যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে

jessore-1.jpg

ইয়ানূর রহমান : কর্মচারিরা টাকা ছাড়া কোন কাজ করেন না যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। ক্যাথেটার লাগাতে গেলে টাকা, খুলতে গেলে টাকা, টলি ঠেলতে গেলে টাকা, ড্রেসিং করতে গেলে টাকা, পিলাস্টার করতে গেলে টাকা, বিষ ওয়াশ করতেও রোগীর স্বজনদের কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

এমনকি টাকা ছাড়া মিলছে না শয্যা। এছাড়া বখশিস বাণিজ্যতো রয়েছেই। রোগী ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে ছাড়পত্র দেয়া পর্যন্ত বিভিন্ন অজুহাতে স্বজনদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে এখানে। হাসপাতালের নিজস্ব কর্মচারি ও বহিরাগতরা এই অর্থবাণিজ্যের সাথে জড়িত। তবে রোগী ও স্বজনদের জিম্মি করে প্রকাশ্যে টাকা হাতাচ্ছে কতিপয় অস্থায়ী কর্মি।

হাসপাতালের সাবেক এক তত্ত¡াবধায়ক ৪২ জন বহিরাগতকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে বাণিজ্য করার বৈধতা দিয়ে যান। তারা হাসপাতালের পরিচয়পত্রকে পুঁজি করে প্রতারণা করছেন। মানুষকে জিম্মি করে অর্থবাণিজ্য হল তাদের মূল টার্গেট। এসব স্পেশাল কর্মচারিদের দাপটের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন রীতিমতো অসহায়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, অস্ত্রোপচার কক্ষ, পুরুষ ও মহিলা সার্জারী ওয়ার্ড, পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড, পুরুষ ও মহিলা পেয়িং ওয়ার্ড, মডেল ওয়ার্ড, লেবার ওয়ার্ড, গাইনী ওয়ার্ড, সংক্রামক ওয়ার্ড এবং শিশু ওয়ার্ডে সরকারি কর্মচারিদের পাশাপাশি অস্থায়ীরাও দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সরকারিভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারিরা একটু কৌশলে আর অস্থায়ীরা প্রকাশ্যে রোগী ও রোগীর স্বজনদের বকশিস চেয়ে থাকেন। তারা টাকা ছাড়া কোন কাজ করেন না । দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ বাণিজ্য চলে আসছে।

বর্তমানে অর্থবাণিজ্য ওপেন সিক্রেট হয়ে গেছে। রোগীরা জানিয়েছেন, অস্থায়ী কর্মিদের কাছে কাজ পেতে গেলে সর্বনিন্ম দিতে হয় ২শ’ টাকা। বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজন আলতাফ হোসেন, রেজাউল ইসলাম, আবুল কাশেম, মহব্বত আলী, হোসনে আরা বেগম, পারভীনা খাতুন, রমজান আলী, নাজমুল ইসলাম, কাজী মোজাহিদুল ইসলাম, রিপন হোসেন, মিকাইল হোসেন, রেবেকা খাতুন, ইসমাইল হোসেনসহ অনেকেই জানিয়েছেন, দায়িত্বরত কর্মচারিকে কোন কাজের কথা বললেই তারা টাকার প্রশ্ন তোলেন।

অসহায় মুহুর্তে তারাও কর্মচারিদের টাকা দিতে বাঁধ্য হন। তা না করলে মারমুখি আচরণ করে। রোগীর স্বজন আতিয়ার রহমান জানান, প্রসূতি ওয়ার্ড ও লেবার ওয়ার্ডে বকখিসের নামে ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ছেলে সন্তান হলে ১ হাজার ও মেয়ে সন্তান হলে ৫শ। দাবি করা টাকা না দিলে রোগীর স্বজনদের সাথে খারাপ আচরণ করেন ওয়ার্ডবয় ও আয়া।
আতিয়ার রহমান জানান, তার কাছ থেকেও টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। মহিউদ্দিন মোহাম্মদ নামে একজন জানান, স¤প্রতি তার এক রোগীকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে রোগীর পিলাস্টার ও ক্ষতস্থান সেলাই করা বাবদ ৫শ টাকা নেন দায়িত্বরত কর্মচারি।

এই বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু আমাদেও প্রতিনিধিকে জানান, তিনি এখানে যোগদান করার পর রোগীর স্বজনদের জিম্মি করে অর্থবাণিজ্য না করতে সকল কর্মচারিকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এরপরেও যদি কেউ বাণিজ্যে লিপ্ত থাকে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো জানান, অস্থায়ী কর্মচারিরা অর্থবাণিজ্যের ধান্দা করলে তাদেরকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হবে।

Top