আপডেটঃ
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বরখাস্ত করছেন ট্রাম্পঈদগাঁহতে আওয়ামীলীগের জনসভাঃ এমপি কমলের লাখ জনতার শোডাউনচট্টগ্রামে জলসা মার্কেটের ছাদে ২ কিশোরী ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬যশোরের বেনাপোলে সীমান্তে দুই নাইজেরিয়ান নাগরিক আটক“বিএনপি ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে গেছে”ঈদগাঁহর জনসভায় রামু থেকে এমপি কমলের নেতৃত্বে যোগ দেবে লক্ষাধিক জনতাসৈকতে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় উন্নয়ন মেলা কনসার্টকর্ণফুলীতে মা সমাবেশশেখ হাসিনার গুডবুক ও দলীয় হাই কমান্ডের তরুণ তালিকায় যারানজিব আমার রাজনৈতিক বাগানের প্রথম ফুটন্ত ফুল- মেয়র মুজিবুর রহমাননাইক্ষ্যংছ‌ড়ি‌তে ডাকাত আনোয়ার বলি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মুক্তগণমাধ্যমের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে’শহীদ জাফর মাল্টিডিসিপ্লিনারী একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনসরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনজাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনকালীন মন্ত্রী হচ্ছেন কর্নেল (অব.) অলি, ফখরুল-মোশাররফ

BNP-1.jpg

জে.জাহেদ ঢাকা থেকে:

নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রী হচ্ছেন ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) এই চেয়ারম্যান নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রী হবার ব্যাপারে রাজি হয়েছেন। এক সপ্তাহের মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে, এমনটাই জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র।
সূত্রগুলো বলছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘অধিকতর’ গ্রহণযোগ্য করতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে অন্তত তিন জনকে ‘নির্বাচনকালীন সরকারের’ মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার ইচ্ছা আছে সরকারের। সেখানে বিএনপির দুইজনসহ জোটের অন্যতম প্রধান শরিক এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম ক্ষমতাসীনদের প্রথম পছন্দ।
বিএনপি রাজি হলে ৫/৬টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তাদের ওপর ছেড়ে দিতে রাজি আছে আওয়ামী লীগ। সেক্ষেত্রে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দেখা যেতে পারে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির এ দু’জন এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত না জানালেও ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় যাক, সেখানে এলডিপির ৫/৬ জন এমপিসহ অন্তত ২ জনের মন্ত্রিত্ব নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “এ ধরনের আলাপ আলোচনা আমাদের সাথে কেউ করেনি। মূলত, ২০ দলীয় জোটের ঐক্য বিনষ্ট এবং জোটের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্যই এ ধরনের বানোয়াট ও ভিত্তিহীন প্রচার চালানো হচ্ছে।”
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। যে সরকার কেবল ‘রুটিন ওয়ার্ক’ করবে। কোনো পলিসি মেকিং করবে না। সংবিধান অনুযায়ী সরকারের প্রধান থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।
ছোট ওই মন্ত্রিসভা যদি ত্রিশ সদস্য বিশিষ্ট হয় সেখানে টেকনোক্র্যাট কোটায় বাইরে থেকে অন্তত তিন জনকে নেওয়া যাবে। এটি দেশে পুরনো ব্যবস্থা। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গঠিত নির্বাচনকালীন সরকারে জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে সালমা ইসলাম ও জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) থেকে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে মন্ত্রী করা হয়।
কিন্তু এবার আর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে নিয়ে ভাবতে হচ্ছে না সরকারকে। এই দুই দলের ৪ জন পুরো পাঁচ বছর ধরে মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। নির্বাচনকালীন সরকারে তাদের জায়গায় বিএনপি থেকে দুই জন এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে একজনকে নেওয়ার ইচ্ছা আছে সরকারের।
অসমর্থিত একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, বিএনপি রাজি থাকলে দুই জোটের বাইরে থেকে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে একজনকে দেখা যেতে পারে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায়— যিনি সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হবেন।
সেক্ষেত্রে এলডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং আওয়ামী লীগ-বিএনপির যৌথ পছন্দের ভিত্তিতে বেছে নেওয়া নাগরিক সমাজের একজন স্থান পাবেন নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায়। এবং এই মন্ত্রিসভা গঠন হবে আগামী অক্টোবরের ১০/১১ তারিখে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ন্যূনতম সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ যোগ দিলে সেখানে পূর্ণ সমর্থন থাকবে ২০-দলীয় জোটের অন্য শরিকদের। জোটের নিবন্ধিত এবং অনিবন্ধিত মিলে অন্তত ৮টি দল এরইমধ্যে অলি আহমদের এ সিদ্ধান্তকে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে। এসব দল চায়, যে কোনো মূল্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাজনীতিতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে।
তারা বলছেন, নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় যাওয়ার প্রস্তাব অলি আহমদের জন্য নতুন নয়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গঠিত নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় যাওয়ার প্রস্তাবও তিনি পেয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় তিনি যাননি। এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত সময়পোযোগী।
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠনের পর অলি আহমদ বীর বিক্রম সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। তখন আরো ৯ বছর চাকরি ছিল তার। জিয়াউর রহমানের পর খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরলে তার অন্যতম প্রধান সহযোগী হয়ে ওঠেন অলি আহমদ। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি যোগাযোগমন্ত্রী হন। যমুনা সেতুর কাজ তার সময়েই শুরু হয়। দীর্ঘকাল বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকার পর ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর (বি. চৌধুরী) সাথে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) গঠন করেন। এর পর বি. চৌধুরীর সাথে মতবিরোধ হলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে একত্রে আন্দোলন ও নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকা হয়নি তার। ২০১২ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে যোগ দেন ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এখনো তিনি বিএনপি জোটেই আছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ছয় বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। মন্ত্রি হয়েছেন পাঁচ বার। ৭৯ বছর বয়সী এই রাজনীতিক নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলে নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভায়ও তার স্থান হবে— এমনটি ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এলডিপির মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমেদ বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে নির্বাচিত এমপিদের নিয়ে ছোট্ট একটা মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। সে হিসেবে সেখানে যাওয়ার সুযোগ আমাদের নেই। তবে টেকনোক্রেট কোটায় যদি আমাদের ডাকা হয়, তাহলে জোটগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

Top