আপডেটঃ
উখিয়া-টেকনাফবাসী রোহিঙ্গাদের জন্য যে উদারতা দেখিয়েছে তা মাদকের বদনামে ধুলিস্যাৎ করা যাবেনাঃ বাহাদুরমাস্টার্স ফাইনালে কক্সবাজার সিটি কলেজের পাশের হার ৮৭%মির্জা ফখরুলের বক্তব্য ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’র সামিল: কাদেরঈদ যাত্রা: শিডিউলে নেই ট্রেন, ঠিক সময়ে মিলছে বাসঈদ: মশলার জোগাড়, দেরি নয় আরনিরাপদ বাংলাদেশের দাবিতে আসুন ঐক্যবদ্ধ হই: ফখরুলসজল-মিমের বিপরীত ভালোবাসাপাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানচট্টগ্রাম যুবকের গলা কাটা লাশ: ডা.রোকসানা আটকযশোরের শার্শা সীমান্ত হতে ৭১৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধারবিএনপি নেতা খসরুকে দুদকে তলববুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় গোলাম সারওয়ারঅটল বিহারী বাজপেয়ী আর নেইমুক্তিযোদ্ধা বিন্টু মোহন বড়ুয়া ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নিবেদিত প্রাণ সমাজ সেবক- এমপি কমলবহু ব্যবসায়ীকে পথে বসিয়ে দেওয়া সেই প্রতারক ডিবির হাতে গ্রেফতার

নিজের বিয়ে নিজেই ঠেকিয়ে এখন স্বাবলম্বী ভোলার ফারজানা

35151486_656493384695512_7144559968115490816_n.jpg

 

ফারজানা ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। বয়স ১৪। তার বাবা মো: সিরাজ পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে তার মা জোর করে মসজিদের এক ঈমামের সঙ্গে বিয়ে দিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ফারজানা তা হতে দেয়নি। ফারজানা ছিল কর্ণফুলী কিশোরী ক্লাবের সদস্য। সেখান থেকে বাল্য বিয়ের বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানতে পারে। তারপর সে তা বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়। এপ্রসঙ্গে ফারজানা বলে, “আমি জানতাম আমার বিয়ে হলে পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যাবে এবং আমার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে। স্কুলেও এসব বিষয়ে আলোচনা হতো। তাই আমি বিয়ে বন্ধ করার জন্য বাড়ি থেকে পালিয়ে স্কুলে যাই এবং প্রধান শিক্ষককে সব কিছু খুলে বলি।”

এরপর প্রধান শিক্ষক তার বাবা-মার সাথে কথা বলে বিয়ে বন্ধ করতে সক্ষম হন। অন্যদিকে ফারজান যখন প্রধান শিক্ষকের বিয়ে বন্ধের উদ্যোগ নিচ্ছিলেন সেসময় তার মা তা জানতে পেরে রাগ করে তার নানুর(ফারজানার) বাড়িতে চলে যান। পরবর্তীতে কোস্ট ট্রাস্ট’র এর কর্মীদের সহযোগিতায় তার মাকে বুঝিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। উল্লেখ্য, কোস্ট ট্রাস্ট ইউনিসেফ এর আর্থিক সহায়তায় ভোলার সদর, লালমোহন এবং চরফ্যাশনে বিগত কয়েক বছর যাবৎ বাল্য বিবাহ বন্ধে কাজ করে যাচ্ছে।

ফারজানা চার বোনের মধ্যে সবার বড়। তার বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের কানাইনগর গ্রামে। অভাবের কারণে মূলত তার মা তাকে ১৩ বছর বয়সেই বিয়ে দিচ্ছিলেন। এরপর তার পড়াশোনা অব্যাহত রাখার জন্য গত জুনে ইউনিসেফ এর অর্থায়নে কোস্ট ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় ‘শিশু সুরক্ষা বৃত্তি’ বাবদ ১৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। সেই টাকা দিয়ে ফারজানা একটি সেলাইয়ে মেশিন কিনে এবং সে সেলাইয়ের কাজ শিখে। তারপর ধীরে ধীরে সেলায়ের কাজ শুরু করে। একই সাথে তার নিয়মিত স্কুল যাওয়া অব্যাহত থাকে। ফারজানার খোঁজ নিতে সম্প্রতি তার বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, দুর্বার গতি চলছে তার সেলাইয়ের কাজ আর মেশিন। সে জানায়, “বর্তমানে আমি মাসে ১৫০০ থেকে ২০০০ হাজার টাকা আয় করছি। সেই অর্থ দিয়ে এখন শুধু আমার নয়, আমার ছোট বোনদের পড়াশোনার খরচও চালাতে সহায়তা করছি।”

ফারজানা জানায়, “আমি চাই কোন কিশোরীর যেন আঠারো বছরের আগে বিয়ে না হয়। বাবা-মায়েরা যেন এই বিষয়টি খেয়াল রাখেন। কারণ বাল্যবিবাহ দেশ ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর। একটা পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। তাই আমি চাই আমরা কিশোরীরা সবাই মিলে বাল্যবিবাহ মুক্ত সমাজ গড়তে এবং বড় হয়ে আমি ম্যাজস্ট্রেট হতে চাই।”

নিজের ভুল বুঝতে পেরে ফারজানার মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “আমি আসলে বাল্য বিয়ের কুফল সম্পর্কে জানতাম না। এক রকম বিপদে পড়েই মেয়েকে বিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। এখন আমি ভুল বুঝতে পেরেছি। ফারজানাকে পড়ালেখা করিয়ে তার স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করে যাবো।”

বাল্য বিবাহ বন্ধে কাজ কাজ করে যাচ্ছেন এমন একজন ইউনিয়ন সমন্বয়কারী আনঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, “ফারজানার পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা খুব খুশি। এখন সে নিজেই পড়াশোনার খরচ সে নিজেই চালাচ্ছে। পাশাপাশি ক্লাবের অন্য সদস্যদের কাছে সে রোল মডেল হয়ে উঠেছে।”

এদিকে ফারজানার এই সাহসিকতার খবর জানতে পেরে ভোলার উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন টুলু ফারজানাকে পাঁচ হাজাব টাকা পুরস্কৃত করেন এবং গতকাল চেক হস্তান্তর করেন তিনি। একই সময়ে তিনি তার এলাকায় বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলে অঙ্গিকার করেন।

Top